চাঁদপুরের মেঘনা, পদ্মা এবং ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থল ঘুরে দেখুন। প্রাণবন্ত নদী বন্দর, ইলিশ মাছের ঐতিহ্য এবং বদ্বীপ জলপথ।

**যেখানে তিন মহা নদী এক হয়** পদ্মা-মেঘনা সঙ্গমে দাঁড়ান আর প্রকৃতির সবচেয়ে নাটকীয় দৃশ্যের সাক্ষী হন। এখানে বাংলাদেশের তিনটি শক্তিশালী নদী - [পদ্মা](https://en.wikipedia.org/wiki/Padma_River), [মেঘনা](https://en.wikipedia.org/wiki/Meghna_River) এবং ডাকাতিয়া - একসাথে ঘূর্ণায়মান নাচে মিলিত হয়। স্থানীয়রা এই ত্রিকোণাকার মিলনস্থলকে "মোলহেড" বলে ডাকে, এবং এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে আসছে। **তিন রঙের বিস্ময়** ভালো করে দেখুন, আপনি কিছু জাদুকরী লক্ষ্য করবেন। প্রতিটি নদী আলাদা রঙের পানি বহন করে! পদ্মা হিমালয় থেকে ধূসর পলি নিয়ে আসে। মেঘনা বেশি পরিষ্কার ও সবুজাভ প্রবাহিত হয়। ডাকাতিয়া নিজের আলাদা রং যোগ করে। যেখানে তারা মিলিত হয়, আপনি আসলে পানির মিশ্রণ দেখতে পাবেন - এটি প্রকৃতির নিজস্ব চিত্রকর্মের মতো দেখায়। **যে সূর্যাস্তের কথা সবাই বলে** [চাঁদপুর](https://en.wikipedia.org/wiki/Chandpur_District) সারা বাংলাদেশে তার সূর্যাস্তের দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত। বড় স্টেশন এলাকা থেকে আপনি দেখতে পাবেন সূর্য দিগন্তে ডুবে যাচ্ছে যেখানে অন্তহীন পানি আকাশের সাথে মিলিত হয়েছে। সন্ধ্যায় দেখার আগে [মেঘনা নদীর ঘাট](/bn/tourist-places/meghna-river-ghat) ঘুরে আসতে পারেন যেখান থেকে নদীর কার্যকলাপ কাছ থেকে উপভোগ করা যায়। তিন নদীতে একসাথে সোনালী আলো প্রতিফলিত হওয়ার দৃশ্য আপনি ভুলবেন না। **ইলিশের দেশের হৃদয়** এই সঙ্গম শুধু সুন্দরই নয় - এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রিয় মাছের জন্মস্থান। যে [ইলিশ](https://en.wikipedia.org/wiki/Ilish) এই নদীগুলোর মিলনস্থলে জন্মায় সেটি সারা বাংলাদেশে সবচেয়ে সুস্বাদু বলে মনে করা হয়। এজন্যই চাঁদপুর গর্বের সাথে "ইলিশের বাড়ি" উপাধি বহন করে। বড় স্টেশনের কাছে মাছের বাজার একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে! **একটি ঐতিহাসিক পরিবহন কেন্দ্র** বড় স্টেশন এলাকাটি অনন্য - আপনি একপাশে স্টিমার ঘাট, অন্যপাশে লঞ্চ টার্মিনাল এবং মাঝখানে রেলওয়ে স্টেশন পাবেন। [চাঁদপুর ওয়াটারফ্রন্ট](/bn/tourist-places/chandpur-waterfront) এলাকায় আধুনিক সুবিধা ও হাঁটার পথ রয়েছে। একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই স্থানটি চাঁদপুরকে বাংলাদেশের বাকি অংশের সাথে জল ও রেলপথে সংযুক্ত করে আসছে। **ঘূর্ণিপানির সতর্কতা** যেখানে তিন নদী মিলিত হয়, সেখানে স্রোত বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। ঘূর্ণায়মান পানি শক্তিশালী ঘূর্ণি তৈরি করেছে যা বছরের পর বছর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এজন্যই নৌকা চালকরা জানেন ঠিক কোথায় যেতে হবে এবং কোথায় এড়িয়ে চলতে হবে। ইতিহাসপ্রেমীরা [নাসিরকোট দুর্গ](/bn/tourist-places/nasirkot-fort) দেখতে পারেন যা চাঁদপুরের ঐতিহাসিক নিদর্শন। সবসময় নদীকে সম্মান করুন এবং স্থানীয় নির্দেশনা মেনে চলুন।

**যেখানে তিন নদী মিলিত হয়** চাঁদপুরের মেঘনা নদীর ঘাট বাংলাদেশের সবচেয়ে নাটকীয় প্রাকৃতিক আকর্ষণগুলোর একটি - যেখানে তিনটি বিশাল নদী একসাথে মিলিত হয়। এখানে [পদ্মা](https://en.wikipedia.org/wiki/Padma_River), [মেঘনা](https://en.wikipedia.org/wiki/Meghna_River) এবং ডাকাতিয়া নদী মিলে একটি অসাধারণ সঙ্গম তৈরি করেছে যা স্থানীয়ভাবে "মোলহেড" বা "ত্রিনদীর মোহনা" নামে পরিচিত। এই মিলনস্থলের সেরা দৃশ্যের জন্য [পদ্মা-মেঘনা সঙ্গম](/bn/tourist-places/padma-meghna-confluence) ভিউপয়েন্টে যান। এই এলাকা পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ [গঙ্গা বদ্বীপের](https://en.wikipedia.org/wiki/Ganges_Delta) অংশ। **বিশাল মেঘনা** মেঘনা বাংলাদেশের প্রশস্ততম ও গভীরতম নদী। ভোলার কাছে কিছু জায়গায় এটি অবিশ্বাস্য ১৩ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত! নদীটি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ এবং চাঁদপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, বাণিজ্য ও পরিবহনের জীবনরেখা হিসেবে কাজ করে। চাঁদপুর ঘাটে পানির বিশাল বিস্তার দেখা একটি বিনম্র অভিজ্ঞতা। **ইলিশের বাড়ি** [চাঁদপুর জেলা](https://en.wikipedia.org/wiki/Chandpur_District) সারা বাংলাদেশে "ইলিশের বাড়ি" হিসেবে বিখ্যাত। ইলিশ মাছ - বাংলাদেশের জাতীয় মাছ - এই জলে প্রচুর পরিমাণে জন্মায় যেখানে মিঠা পানি বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়। ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে ডাকাতিয়া নদীর তীরে একটি বড় মাছের বাজার চলে আসছে। ব্যস্ত মাছের বাজার দেখতে ও সবচেয়ে তাজা ইলিশ কিনতে [চাঁদপুর ওয়াটারফ্রন্ট](/bn/tourist-places/chandpur-waterfront) যান। **প্রাকৃতিক সৈকত** এই তিন নদীর সঙ্গমে সময়ের সাথে একটি বালুচর (চর) তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা একে "চাঁদপুর বিচ" বা এমনকি "মিনি কক্সবাজার" বলে। হাজার হাজার পরিবার প্রতিদিন এই প্রাকৃতিক সৈকতে বালুময় তীর, ঠান্ডা বাতাস এবং নদীর দৃশ্য উপভোগ করতে আসে। এটি একটি জনপ্রিয় পিকনিক স্পট, বিশেষ করে শীতকালে। **ঐতিহাসিক পরিবহন কেন্দ্র** চাঁদপুর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী পরিবহন কেন্দ্র। "বড় স্টেশন" এলাকায় একপাশে স্টিমার ঘাট, অন্যপাশে লঞ্চ ঘাট এবং মাঝখানে রেলওয়ে স্টেশন। ঢাকার সদরঘাট টার্মিনাল থেকে নিয়মিত লঞ্চ এখানে আসে, যা দর্শনার্থীদের জন্য এই অনন্য স্থানটি অনুভব করা সহজ করে তোলে। ইতিহাসপ্রেমীরা কাছের হাজীগঞ্জে অষ্টাদশ শতকের [নাসিরকোট দুর্গও](/bn/tourist-places/nasirkot-fort) ঘুরে দেখতে পারেন। **নদীকে সম্মান করুন** মেঘনা দেখতে শান্ত ও সুন্দর হলেও এটি বিপজ্জনক হতে পারে। তিন নদী যেখানে মিলিত হয় সেখানে ঘূর্ণায়মান স্রোত বছরের পর বছর দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয় গাইডরা দর্শনার্থীদের পরামর্শ দেন দৃশ্য উপভোগ করতে কিন্তু পানির কিনারায় সবসময় নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিতে।
এই জেলায় এখনও কোন আবাসন পাওয়া যায়নি।