কক্সবাজারের ১২০ কিমি অবিচ্ছিন্ন বালুকাময় সৈকত - বিশ্বের দীর্ঘতম। ইনানি বিচ, হিমছড়ি জলপ্রপাত এবং বঙ্গোপসাগরের সূর্যাস্ত উপভোগ করুন।
**বাংলাদেশের দক্ষিণতম বিন্দু** ছেঁড়া দ্বীপ হলো [সেন্ট মার্টিন দ্বীপের](/bn/tourist-places/st-martins-island) একদম দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত একটি ছোট পাথুরে দ্বীপ। এখানেই বাংলাদেশ শেষ হয়ে অসীম বঙ্গোপসাগর শুরু হয়। এই জায়গায় দাঁড়ালে আপনি পুরো দেশের সবচেয়ে দক্ষিণে আছেন - এই বিষয়টাই এই ছোট্ট দ্বীপকে বিশেষ করে তুলেছে। **কেন এত বিশেষ** দ্বীপটির নাম "ছেঁড়া" কারণ মনে হয় যেন সেন্ট মার্টিন থেকে "ছিঁড়ে" আলাদা হয়ে গেছে। ভাটার সময় আপনি পাথুরে সৈকত ধরে হেঁটে হেঁটে সেন্ট মার্টিন থেকে ছেঁড়া দ্বীপে যেতে পারবেন। কিন্তু জোয়ার আসলে মাঝখানে পানি ভরে যায় আর দ্বীপটা পুরোপুরি আলাদা হয়ে যায়। এই প্রাকৃতিক ঘটনাটাই এখানকার প্রধান আকর্ষণ। **দ্বীপের প্রকৃতি** [কক্সবাজারের](/bn/tourist-places/coxs-bazar-beach) বালুকাময় সৈকতের মতো নয়, ছেঁড়া দ্বীপ পাথর আর প্রবাল দিয়ে তৈরি। পাথরের ওপর রঙিন শৈবাল জমে থাকে, আর ভাটার সময় পাথরের ফাঁকে ফাঁকে ছোট ছোট পুকুরের মতো তৈরি হয়। এই পুকুরগুলোতে ছোট মাছ, কাঁকড়া, সামুদ্রিক অর্চিন আর অন্যান্য জীব দেখা যায়। দ্বীপের চারপাশের স্বচ্ছ পানিতে পাথুরে তলদেশ সুন্দরভাবে দেখা যায়। **ভ্রমণকারীরা কেন ভালোবাসেন** ছেঁড়া দ্বীপ সাধারণ সমুদ্র সৈকত থেকে একদম আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়। এখানে আপনি: - বাংলাদেশের শেষ ভূখণ্ডে দাঁড়াতে পারবেন - সামনে শুধু পানি, খোলা সমুদ্রে সূর্যোদয় দেখতে পারবেন - জোয়ার-ভাটার পুকুরে সামুদ্রিক জীবন কাছ থেকে দেখতে পারবেন - সত্যিকারের নির্জনতা অনুভব করতে পারবেন - সেন্ট মার্টিনের তুলনায় খুব কম মানুষ আসে - বঙ্গোপসাগরের অস্পর্শিত, কাঁচা রূপ দেখতে পারবেন **সেরা অভিজ্ঞতা** ছেঁড়া দ্বীপে সবচেয়ে মায়াবী সময় হলো সূর্যোদয়ের সময়। অনেক পর্যটক ভোরে উঠে সেন্ট মার্টিন থেকে হেঁটে এসে দিগন্তে সূর্য ওঠা দেখেন। সকালের আলোয় পাথরগুলো সোনালি রঙে ঝলমল করে, আর নিজের দেশের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকার অনুভূতি অবিস্মরণীয়। দ্বীপটা ছোট - প্রায় ৩০ মিনিটে পুরোটা ঘুরে দেখা যায় - কিন্তু এই অভিজ্ঞতা সারাজীবন মনে থাকে।

**বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের সবচেয়ে দক্ষিণের সৈকত** টেকনাফ সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের শেষ প্রান্তে অবস্থিত, [কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত](/bn/tourist-places/coxs-bazar-beach) থেকে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে দেশের সবচেয়ে দক্ষিণ বিন্দুতে। এই দূরবর্তী উপকূল উত্তরের ব্যস্ত পর্যটন এলাকা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়। এখানে আপনি পাবেন শান্ত সৈকত, অসাধারণ পাহাড়ের দৃশ্য, এবং দেশের প্রান্তে জীবনের এক ঝলক। টেকনাফকে অনন্য করেছে এর অবস্থান। এক পাশে বঙ্গোপসাগর, অন্য পাশে পাহাড় যা মিয়ানমারের সাথে সীমান্ত তৈরি করেছে। কাছেই নাফ নদী বয়ে গেছে, সমুদ্র এবং নদীর এক আকর্ষণীয় মিশ্রণ তৈরি করে। এটি সেই জায়গাও যেখান থেকে বেশিরভাগ ভ্রমণকারী [সেন্ট মার্টিন দ্বীপ](/bn/tourist-places/st-martins-island) এবং [ছেঁড়া দ্বীপ](/bn/tourist-places/chera-dwip)-এ নৌকা ধরেন। **কম ভিড়ের বিকল্প** কক্সবাজারের ভিড়ভাট্টা সৈকতের বিপরীতে, টেকনাফ সৈকত তুলনামূলক শান্ত থাকে। এখানকার বালি একটু মোটা, ঢেউ জোরে হতে পারে, এবং সামগ্রিক অনুভূতি বেশি কাঁচা ও প্রাকৃতিক। স্থানীয় মাছ ধরার নৌকা তীর বরাবর ছড়িয়ে থাকে, এবং প্রায়ই জেলেদের দৈনিক ধরা মাছ নিয়ে আসতে দেখবেন। এটি পর্যটন গন্তব্য যতটা, কাজের সৈকতও ততটাই। বড় রিসোর্ট উন্নয়নের অভাব মানে টেকনাফ তার আসল চরিত্র ধরে রেখেছে। ছোট চায়ের দোকান, তাজা সীফুড পরিবেশনকারী স্থানীয় রেস্তোরাঁ, এবং সাধারণ গেস্টহাউস এখানকার আতিথেয়তার দৃশ্য তৈরি করে। **দ্বীপগুলোর প্রবেশদ্বার** টেকনাফে বেশিরভাগ দর্শনার্থী হয় সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাচ্ছেন বা সেখান থেকে ফিরছেন। টেকনাফ জেটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপে যাওয়া নৌকাগুলোর প্রধান ছাড়ার পয়েন্ট। কিন্তু টেকনাফ নিজেও দ্রুত পার হওয়ার চেয়ে বেশি মনোযোগ পাওয়ার যোগ্য। আপনার দ্বীপ ভ্রমণের আগে বা পরে এখানে একটি রাত কাটালে ধীরে ধীরে ঘুরে দেখতে পারবেন। **টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য** শহরের ঠিক বাইরে টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, বাংলাদেশের প্রাচীনতম সংরক্ষিত বন এলাকাগুলোর একটি। ১১,০০০ হেক্টরেরও বেশি এলাকা জুড়ে এই পাহাড়ি বনে এশীয় হাতি, বন্য শুকর, বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ এবং অসংখ্য পাখি আছে। অভয়ারণ্যটি সৈকত এলাকার সাথে সংযুক্ত, তাই বনে হাঁটা এবং সৈকতে সময় একসাথে করা সম্ভব। **সীমান্ত শহরের আবহ** টেকনাফে সীমান্ত শহরের একটি আকর্ষণীয় পরিবেশ আছে। নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমারের পাহাড় দেখা যায়, এবং স্থানীয় বাজারে মাঝে মাঝে সীমান্ত পার হয়ে আসা জিনিস পাওয়া যায়। শহরটি মাছ ধরার কার্যক্রম, নৌকা চলাচল এবং দ্বীপে যাওয়া ভ্রমণকারীদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
মহেশখালী বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ। [কক্সবাজার](/bn/tourist-places/coxs-bazar-beach) শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ৩৬২ বর্গ কিলোমিটার দ্বীপটি পাহাড়, ম্যানগ্রোভ বন, সৈকত, লবণ মাঠ এবং প্রাচীন মন্দিরের অনন্য মিশ্রণ দেয়। প্রায় ৪ লাখ মানুষ এই দ্বীপে বসবাস করে। **নামের ইতিহাস** দ্বীপটির নাম "মহেশ" থেকে এসেছে, যা [শিব](https://en.wikipedia.org/wiki/Shiva) (আদিনাথ নামেও পরিচিত) এর ১০৮টি নামের একটি। ঐতিহাসিকদের মতে, ১৫৫৯ সালে একটি প্রবল ঘূর্ণিঝড় দ্বীপটিকে মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা করে দিলে এটি গঠিত হয়। একজন পর্তুগিজ পরিব্রাজক তার দিনলিপিতে এই ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছিলেন। **বিখ্যাত আদিনাথ মন্দির** দ্বীপের সবচেয়ে বিখ্যাত আকর্ষণ হলো মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত [আদিনাথ মন্দির](/bn/tourist-places/adinath-temple)। এই প্রাচীন হিন্দু মন্দিরটি ১,০০০ বছরেরও বেশি পুরনো বলে মনে করা হয় এবং শিবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গিত। কিংবদন্তি অনুসারে, এক নেপালি রাজা দৈব স্বপ্ন দেখে উপমহাদেশে পাঁচটি শিব মন্দির নির্মাণ করেন - আদিনাথ মন্দির তার একটি। শিব চতুর্দশী উৎসবে হাজার হাজার হিন্দু তীর্থযাত্রী আসেন। **প্রাকৃতিক সৌন্দর্য** মৈনাক পাহাড় থেকে পুরো দ্বীপ দেখা যায় - ম্যানগ্রোভ বন, সমুদ্র এবং উপকূলরেখা। দ্বীপটি ম্যানগ্রোভে ঘেরা যেখানে অনেক প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণী বাস করে। **স্থানীয় জীবন** দ্বীপটি পান পাতা, লবণ উৎপাদন এবং শুঁটকি মাছের জন্য বিখ্যাত। স্থানীয় গ্রামে হাঁটলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী দ্বীপ জীবনের ঝলক পাবেন। **কাছের দ্বীপ** মহেশখালী থেকে আপনি কাছের [সোনাদিয়া দ্বীপও](/bn/tourist-places/sonadia-island) যেতে পারেন, যা নির্জন সৈকত ও পরিযায়ী পাখির জন্য পরিচিত একটি শান্ত ইকো-ট্যুরিজম গন্তব্য।
**বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ** সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত এক টুকরো স্বর্গ, [টেকনাফ সৈকত](/bn/tourist-places/teknaf-beach) থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে। এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ এবং দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোর একটি। স্থানীয়রা একে "নারিকেল জিঞ্জিরা" বলে ডাকে কারণ হাজার হাজার নারিকেল গাছ এর দৃশ্যপট ঢেকে রেখেছে। দ্বীপটি ছোট - মাত্র প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার - কিন্তু এতে অবিশ্বাস্য পরিমাণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আছে। স্ফটিক-স্বচ্ছ ফিরোজা রঙের পানি, সাদা বালুময় সৈকত, প্রবাল প্রাচীর, এবং অসাধারণ সূর্যাস্ত একে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা জগত মনে করায়। প্রায় ৬,০০০ মানুষ এখানে স্থায়ীভাবে বাস করে, বেশিরভাগই জেলে এবং তাদের পরিবার। **একটি অনন্য ইকোসিস্টেম** সেন্ট মার্টিনকে সত্যিই বিশেষ করেছে এর প্রবাল প্রাচীর ইকোসিস্টেম। দ্বীপের চারপাশের পানিতে ৬৬ প্রজাতির বেশি প্রবাল, ১৮৭ প্রজাতির মাছ, এবং সামুদ্রিক কচ্ছপ, স্টারফিশ, সী আর্চিনসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী আছে। ভাটার সময় উন্মুক্ত প্রবাল পাথরে হাঁটতে পারেন এবং সামুদ্রিক জীবনে ভরা জোয়ারের পুকুর দেখতে পারেন। দ্বীপটি তিনটি প্রধান এলাকায় বিভক্ত: উত্তরপাড়া (উত্তর), জেটিসহ প্রধান বসতি এলাকা; মাঝখানে গোলাচিপা; এবং দক্ষিণপাড়া (দক্ষিণ), যা শান্ত এবং বেশি প্রাকৃতিক। দক্ষিণ প্রান্ত খুব ভাটার সময় [ছেঁড়া দ্বীপ](/bn/tourist-places/chera-dwip)-এর সাথে সংযুক্ত হয়। **দ্বীপের জীবন** সেন্ট মার্টিনে জীবন ধীরে চলে। এখানে কোনো গাড়ি বা মোটরসাইকেল নেই - শুধু হাঁটা এবং মাঝে মাঝে রিকশা ভ্যান। প্রধান শিল্প হলো মাছ ধরা এবং শুঁটকি মাছ উৎপাদন, যার গন্ধ সব জায়গায় পাবেন। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে পর্যটন দ্রুত বেড়েছে, প্রধান এলাকায় হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং স্যুভেনির দোকান এনেছে। দ্বীপবাসীরা উষ্ণ এবং স্বাগতপ্রবণ। অনেকে ছোট গেস্টহাউস বা রেস্তোরাঁ খুলেছে যেখানে সেদিনই ধরা তাজা সীফুড পরিবেশন করে। দ্বীপ জীবনের সরলতা - ট্রাফিকের শব্দ নেই, সীমিত বিদ্যুৎ (জেনারেটর চালিত), এবং ন্যূনতম মোবাইল কভারেজ - এর আকর্ষণের অংশ। **সামুদ্রিক স্বর্গ** সেন্ট মার্টিনের চারপাশের পানি বাংলাদেশের অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে পরিষ্কার এবং স্বচ্ছ। স্নোরকেলিংয়ে রঙিন পানির নিচের জগত দেখা যায়, যদিও বর্ধিত পর্যটন এবং জলবায়ু পরিবর্তনে প্রবাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ভঙ্গুর ইকোসিস্টেম রক্ষায় সংরক্ষণ প্রচেষ্টা চলমান। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে সামুদ্রিক কচ্ছপ সৈকতে বাসা বাঁধে। ভাগ্য ভালো থাকলে বাচ্চা কচ্ছপদের সমুদ্রে যেতে দেখতে পারেন। আশেপাশের পানিতে মাঝে মাঝে ডলফিনও দেখা যায়। **সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ** দ্বীপে শুধু নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটন মৌসুমে যাওয়া যায়। টেকনাফ থেকে নৌকায় ২-৩ ঘণ্টা লাগে। বেশিরভাগ দর্শনার্থী ভালোভাবে ঘুরতে ১-২ রাত থাকেন, যদিও দিনে যাওয়া-আসাও সম্ভব। সেরা অভিজ্ঞতা আসে ধীর হওয়া থেকে, সৈকতে হাঁটা, রাতে তারা দেখা, এবং যেকোনো জায়গায় পাওয়া সবচেয়ে তাজা সীফুড উপভোগ করা থেকে।
রামু বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ ঐতিহ্যবাহী এলাকাগুলোর একটি। [কক্সবাজার](/bn/tourist-places/coxs-bazar-beach) শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ছোট শহরে ৩৫টিরও বেশি বৌদ্ধ মন্দির ও স্তূপ রয়েছে, যা এটিকে বৌদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির ভাণ্ডার করে তুলেছে। **কেন রামু যাবেন** রামুতে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন বৌদ্ধ মঠগুলো রয়েছে, যার মধ্যে রাংকুট বনশ্রাম (রামকোট বনশ্রামও বলা হয়) অন্যতম, যা [সম্রাট অশোকের](https://en.wikipedia.org/wiki/Ashoka) সময় প্রায় ৩০৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রতিষ্ঠিত। এটি ২,৩০০ বছরেরও বেশি পুরনো! এখানে মিঠাছড়িতে ১০০ ফুট উঁচু সোনালি শায়িত বুদ্ধ মূর্তিও আছে, যা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বলে বিবেচিত। **সমৃদ্ধ ইতিহাস** ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং সপ্তম শতাব্দীতে তীর্থযাত্রার সময় এই এলাকায় এসেছিলেন। রাংকুট মঠের কাছে ১,৪০০ বছরের পুরনো একটি বটগাছ সেই সময়ের বলে মনে করা হয়। "রাংকুট" নামটি সংস্কৃত ও রাখাইন শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ "পাহাড়ের চূড়ায় বুকের হাড়," কারণ স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন মঠে বুদ্ধের বুকের একটি পবিত্র অবশেষ রাখা আছে। **অনেক মন্দির ঘুরে দেখার আছে** রামুতে দেখার মতো অনেক মন্দির আছে: - রাংকুট বনশ্রাম - বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ - মিঠাছড়ি মন্দির - ১০০ ফুট শায়িত বুদ্ধের আবাস - বড় মন্দির - সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত - কাক্যং মন্দির - ষোড়শ শতাব্দীর প্রাচীন মন্দির - সেন্ট্রাল সীমা বিহার - সুন্দরভাবে পুনর্নির্মিত আধুনিক মন্দির **জীবন্ত বৌদ্ধ সম্প্রদায়** রামু শুধু পুরনো ভবন নয়। এখানে একটি জীবন্ত বৌদ্ধ সম্প্রদায় বাস করে যেখানে সন্ন্যাসীরা প্রতিদিন তাদের ঐতিহ্য পালন করেন। এখানে আসলে বাংলাদেশে খাঁটি বৌদ্ধ জীবনধারা দেখার সুযোগ পাবেন। **বৌদ্ধ ঐতিহ্য পথের অংশ** কক্সবাজারে থাকাকালীন, আপনি রামুর সাথে [আগ্গমেদা খ্যং](/bn/tourist-places/aggmeda-khyang) দেখতে পারেন, যা কক্সবাজার শহরের প্রবেশপথের কাছে অবস্থিত ২৫০ বছরের পুরনো বৌদ্ধ মঠ। একসাথে, এই স্থানগুলো এই অঞ্চলে সম্পূর্ণ বৌদ্ধ ঐতিহ্য অভিজ্ঞতা দেয়।
**বাংলাদেশের প্রথম সাফারি পার্ক** দুলহাজারা সাফারি পার্ক, যা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক নামেও পরিচিত, বাংলাদেশের প্রথম ও বৃহত্তম সাফারি পার্ক। ২,২২৪ একর সবুজ বনভূমি জুড়ে বিস্তৃত এই পার্কে বন্য প্রাণীদের ছোট খাঁচায় বন্দি না রেখে খোলা জায়গায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। [কক্সবাজার](/bn/tourist-places/coxs-bazar-beach) শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পার্ক কক্সবাজার ভ্রমণে সমুদ্র সৈকত থেকে একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতার জন্য আদর্শ। **হাতিরা** এখানকার প্রধান আকর্ষণ হাতি। পার্কে এশীয় হাতি এবং কয়েকটি আফ্রিকান হাতি আছে। নিরাপদ দূরত্ব থেকে এই মহান প্রাণীদের দেখা যায়, আর অনেক দর্শনার্থীর কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো হাতির পিঠে চড়া - হাতির পিঠে বসে বনের পথ ধরে যাওয়া। এটি এমন একটি অভিজ্ঞতা যা সহজে ভোলা যায় না। **সাফারি অভিজ্ঞতা** দুলহাজারাকে সাধারণ চিড়িয়াখানা থেকে আলাদা করেছে সাফারি ধারণা। এখানে অনেক প্রাণী বড় খোলা ঘেরে থাকে যা তাদের প্রাকৃতিক বাসস্থানের মতো। আপনি গাড়িতে বা পার্কের যানবাহনে করে এমন জায়গা দিয়ে যেতে পারবেন যেখানে হরিণ, ভালুক এবং অন্যান্য প্রাণী তুলনামূলক স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ায়। মনে হয় চিড়িয়াখানায় নয়, বরং বনে প্রাণীদের দেখতে গেছেন। **যেসব প্রাণী দেখবেন** পার্কে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী আছে: - এশীয় ও আফ্রিকান হাতি - বেঙ্গল টাইগার ও সিংহ (নিরাপদ ঘেরে) - চিত্রা হরিণ ও সাম্বার সহ বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ - হিমালয়ান কালো ভালুক - কুমির ও অজগর - উটপাখি ও এমু - বানর ও গিবন - অনেক প্রজাতির দেশি ও পরিযায়ী পাখি **পরিবারের জন্য দারুণ** দুলহাজারা বিশেষভাবে শিশুদের নিয়ে ভ্রমণকারী পরিবারের কাছে জনপ্রিয়। বাচ্চারা বড় প্রাণীদের কাছ থেকে দেখতে, হরিণকে খাওয়াতে এবং হাতির পিঠে চড়তে ভালোবাসে। পার্কে পিকনিক স্পটও আছে, যা একটি পুরো দিনের পারিবারিক বেড়ানোর জন্য আদর্শ।
**একটি লুকানো প্রাকৃতিক স্বর্গ** সোনাদিয়া দ্বীপ বাংলাদেশের সবচেয়ে গোপন রত্নগুলোর একটি। [কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত](/bn/tourist-places/coxs-bazar-beach) থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই ৯ বর্গ কিলোমিটার দ্বীপ এখনও বাণিজ্যিক পর্যটন থেকে অনেকটাই দূরে আছে। মহেশখালী চ্যানেলের মুখে অবস্থিত এই দ্বীপে বঙ্গোপসাগর এবং উপকূলীয় জলাভূমি মিলিত হয়েছে, যা অসাধারণ জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি করেছে। সোনাদিয়াকে বিশেষ করে তুলেছে এর অক্ষত, স্বাভাবিক সৌন্দর্য। কক্সবাজারের ব্যস্ত সৈকতের বিপরীতে, সোনাদিয়া দেয় জনশূন্য তীর, ম্যানগ্রোভ বন, এবং শান্ত পরিবেশ যা সভ্যতা থেকে অনেক দূরে মনে হয়। দ্বীপের বেশিরভাগ অংশে কোনো স্থায়ী বাসিন্দা নেই, যা একে সত্যিকারের প্রকৃতিতে পালানোর জায়গা করে তুলেছে। **ম্যানগ্রোভ বন এবং জলাভূমি** সোনাদিয়ার পূর্ব দিক ঘন ম্যানগ্রোভ বনে ঢাকা যা মাছ, কাঁকড়া এবং চিংড়ির প্রাকৃতিক নার্সারি হিসেবে কাজ করে। এই জলাভূমিতে মাডস্কিপার, ফিডলার কাঁকড়া এবং বিভিন্ন প্রজাতির শেলফিশ বাস করে। ভাটার সময় ম্যানগ্রোভের মধ্যে হাঁটলে পানির স্তর পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়া প্রাণীদের এক চমৎকার জগত দেখা যায়। ম্যানগ্রোভগুলো ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক বাধা হিসেবেও কাজ করে, মূল ভূখণ্ডকে রক্ষা করে। এই ইকোসিস্টেম [সুন্দরবন](https://bn.wikipedia.org/wiki/সুন্দরবন)-এর কিছু অংশের মতো, যদিও আকারে ছোট। **পাখি দেখার স্বর্গ** সোনাদিয়া দ্বীপ আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাখি অঞ্চল (IBA) হিসেবে স্বীকৃত। প্রতি শীতে, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি সাইবেরিয়া এবং মধ্য এশিয়া থেকে এখানে আসে। আপনি দেখতে পাবেন স্পুন-বিল্ড স্যান্ডপাইপার (বিশ্বের সবচেয়ে বিরল উপকূলীয় পাখিদের একটি), নর্ডম্যানস গ্রিনশ্যাঙ্ক এবং অসংখ্য অন্যান্য পাখি। ভাটার সময় যে কাদাচর তৈরি হয় তা এই পাখিদের খাওয়ার জায়গা হয়ে ওঠে, যখন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি ওড়ে এবং নামে তখন অসাধারণ দৃশ্য তৈরি হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাখিপ্রেমীরা বিশেষভাবে এই অভিজ্ঞতার জন্য সোনাদিয়া আসেন। **সৈকত এবং সামুদ্রিক জীবন** সোনাদিয়ার পশ্চিম উপকূলে দীর্ঘ বালুকাময় সৈকত আছে যা কক্সবাজারের সাথে তুলনীয় কিন্তু ভিড় নেই। এখানকার পানি বেশি পরিষ্কার, এবং ভাটার সময় স্টারফিশ, সী আর্চিন এবং রঙিন শেল খুঁজে পাওয়া যায়। বিশেষ করে ভোরে আশেপাশের পানিতে মাঝে মাঝে ডলফিন দেখা যায়। দ্বীপটি সামুদ্রিক কচ্ছপের বাসা বাঁধার জায়গা হিসেবেও পরিচিত। অলিভ রিডলে কচ্ছপ অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ডিম পাড়তে তীরে আসে। এই বাসা বাঁধার জায়গা রক্ষার জন্য সংরক্ষণ প্রচেষ্টা চলমান আছে। **সোনাদিয়া ভ্রমণ** সোনাদিয়া ভ্রমণ সবচেয়ে ভালো [মহেশখালী দ্বীপ](/bn/tourist-places/maheshkhali-island) বা কক্সবাজার থেকে দিনে যাওয়া-আসা করে। স্থানীয় জেলেরা নৌকা পরিবহন দেয়, এবং যাত্রাটাই সুন্দর, ম্যানগ্রোভে ঘেরা চ্যানেলের মধ্য দিয়ে। দ্বীপে কোনো হোটেল বা রেস্তোরাঁ নেই, তাই দর্শনার্থীদের নিজের খাবার এবং পানি আনতে হবে।
আগ্গমেদা খ্যং বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ মঠগুলোর একটি। কক্সবাজার শহরের প্রবেশপথের কাছে অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দিরটি ২৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বৌদ্ধ উপাসনা ও শিক্ষার কেন্দ্র হয়ে আছে। এটি রাদানা ভিমেইন বৌদ্ধ মঠ নামেও পরিচিত। **বৌদ্ধদের পবিত্র স্থান** কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী প্রায় ৪ লাখ বৌদ্ধ মানুষের কাছে এই মঠ অত্যন্ত সম্মানিত। রাখাইন সম্প্রদায়ের কাছে এটি শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। "খ্যং" শব্দের অর্থ স্থানীয় রাখাইন ভাষায় মঠ। **সুন্দর স্থাপত্য** মঠের ভবনটি আরাকান (বর্তমান মিয়ানমার) থেকে আনা মূল্যবান সেগুন ও লোহাকাঠ দিয়ে তৈরি। গোলাকার কাঠের স্তম্ভ মূল কাঠামোকে ধরে রেখেছে, যেখানে প্রার্থনা কক্ষ ও সমাবেশ হল আছে। ভেতরে ব্রোঞ্জের বুদ্ধ মূর্তির সুন্দর সংগ্রহ দেখতে পাবেন, যার বেশিরভাগ বার্মা থেকে এসেছে। মঠে কিছু অত্যন্ত পুরনো হাতে লেখা পাণ্ডুলিপিও সংরক্ষিত আছে। **পবিত্র গাছ** প্রাঙ্গণে ২৫০ বছরের পুরনো একটি শিলকড়ই গাছ আছে যা রাখাইন মানুষেরা পবিত্র মনে করেন। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দুজন সন্ন্যাসী এই গাছের নিচে ধ্যান করে জ্ঞান লাভ করেছিলেন। এজন্য এটিকে বোধিবৃক্ষের মতো পূজা করা হয়, যেমন গৌতম বুদ্ধ যে গাছের নিচে জ্ঞান পেয়েছিলেন। **ইতিহাস** প্রবেশদ্বারের স্মৃতিস্তম্ভটি ১৯৫৬ সালে মঠের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নির্মিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মঠটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরে পুনর্নির্মাণ করা হয়। আজ এটি বাংলাদেশে বৌদ্ধ ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। **বৌদ্ধ ঐতিহ্য পথের অংশ** আগ্গমেদা খ্যং প্রায়ই [রামু বৌদ্ধ মন্দিরের](/bn/tourist-places/ramu-buddhist-temple) সাথে একসাথে দেখা হয়, যা কক্সবাজার থেকে প্রায় ১৬ কিমি দূরে অবস্থিত এবং যেখানে ৩৫টিরও বেশি বৌদ্ধ মন্দির ও বিখ্যাত ১০০ ফুট শায়িত বুদ্ধ মূর্তি রয়েছে। একসাথে, এই স্থানগুলো এই অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ ঐতিহ্য পথ তৈরি করে।
**কক্সবাজারের বিনোদন কেন্দ্র** কলাতলী বিচ হলো সেই জায়গা যেখানে কক্সবাজার অন্ধকারের পরে জেগে ওঠে। [লাবণী পয়েন্ট](/bn/tourist-places/laboni-point) এর ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত, সমুদ্র সৈকতের এই অংশ বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সৈকত শহরের বিনোদন এবং নাইটলাইফ কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। "কলাতলী" নামটি এসেছে এই এলাকায় একসময় যে কলাবাগান ছিল সেখান থেকে, যদিও আজ আপনি ফলের গাছের বদলে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং দোকান পাবেন। **কলাতলীকে আলাদা করে যা** যেখানে [লাবণী পয়েন্ট](/bn/tourist-places/laboni-point) ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্র, সেখানে কলাতলী হয়ে উঠেছে যেখানে আসল কর্মকাণ্ড হয়। এখানকার সৈকতের রাস্তা কক্সবাজারের কিছু সেরা রেস্তোরাঁ দিয়ে সাজানো, যেখানে তাজা গ্রিলড সামুদ্রিক খাবার থেকে আন্তর্জাতিক খাবার সবই পাওয়া যায়। পরিবেশ বেশি প্রাণবন্ত, ভিড় বেশি তরুণ, এবং উৎসাহ রাত পর্যন্ত চলতে থাকে। **আধুনিক সুবিধা সহ সমুদ্র সৈকত** সৈকত নিজে কক্সবাজারের অন্য অংশগুলোর মতোই সুন্দর - একই সোনালি বালি, বঙ্গোপসাগরের একই অসীম দিগন্ত। কিন্তু কলাতলীকে আলাদা করে তীরের ধারের উন্নয়ন। আপনি পাবেন ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা সৈকতে প্রবেশের পথ, বেশি সংগঠিত বিক্রেতা এলাকা, এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পরিষ্কার বালি। এখানকার হোটেলগুলো নতুন এবং বেশি উন্নত, অনেকগুলোতে সমুদ্রের অসাধারণ দৃশ্য সহ রুফটপ রেস্তোরাঁ আছে। **সন্ধ্যার বিনোদনের জন্য একদম উপযুক্ত** সূর্য ডুবলে কলাতলী রূপান্তরিত হয়। সৈকতের রাস্তা রঙিন সাইনে আলোকিত হয়, বিভিন্ন জায়গা থেকে গান বাজে, এবং গ্রিল করা সামুদ্রিক খাবারের সুগন্ধ বাতাসে ভেসে বেড়ায়। পরিবারগুলো রেস্তোরাঁয় জড়ো হয়, দম্পতিরা আলোকিত সৈকতে রোমান্টিক হাঁটা দেয়, এবং বন্ধুদের দল প্রাণবন্ত পরিবেশ উপভোগ করে। এখানে আপনি আসবেন যখন শুধু বালি এবং সমুদ্রের চেয়ে বেশি কিছু চান - আপনি একটা অভিজ্ঞতা চান। **সৈকত অ্যাডভেঞ্চারের জন্য আপনার ভিত্তি** কলাতলীর কেন্দ্রীয় অবস্থান এটিকে ঘোরার জন্য একদম উপযুক্ত করে। উত্তরে হাঁটলে প্রায় ১৫ মিনিটে [লাবণী পয়েন্ট](/bn/tourist-places/laboni-point) পৌঁছাবেন। দক্ষিণে গেলে পাবেন [সুগন্ধা বিচ](/bn/tourist-places/sugandha-beach), যেটা বেশি শান্ত এবং কম ভিড়। এখান থেকে আপনি সহজেই [ইনানী বিচ](/bn/tourist-places/inani-beach), [হিমছড়ি](/bn/tourist-places/himchari-national-park), এমনকি [সেন্ট মার্টিন দ্বীপ](/bn/tourist-places/st-martins-island) দিনের ট্রিপ বুক করতে পারবেন। অনেক দর্শনার্থী কলাতলীতে থাকেন বিশেষভাবে এর সুবিধাজনক অবস্থান এবং চমৎকার খাবারের দৃশ্যের কারণে।
**কক্সবাজারের ইনডোর সামুদ্রিক অভিজ্ঞতা** রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত একটি আধুনিক অ্যাকুয়ারিয়াম ও সামুদ্রিক থিম পার্ক। সমুদ্র সৈকত থেকে বিরতি চাইলে বা বৃষ্টির দিনে কিছু করার খুঁজলে, এই জায়গা এয়ার-কন্ডিশনড ইনডোর অভিজ্ঞতা দেয় যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শত শত মাছের প্রজাতি দেখা যায়। **ভেতরে কী আছে** অ্যাকুয়ারিয়ামে স্বাদু পানি ও লোনা পানির মাছের বড় সংগ্রহ আছে। রঙিন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় মাছ, স্থানীয় বঙ্গোপসাগরের প্রজাতি, এবং বিশ্বের বিভিন্ন অংশ থেকে আনা বিদেশি মাছ দেখতে পাবেন। হাইলাইট হলো একটি কাচের টানেল দিয়ে হেঁটে যাওয়া যেখানে মাছ আপনার চারপাশে সাঁতার কাটে - মাথার ওপরে এবং দুই পাশে। মনে হয় না ভিজে পানির নিচে আছেন। **শুধু মাছ নয়** মাছ প্রধান আকর্ষণ হলেও রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ডে আরও আছে: - হাঙর প্রদর্শনী (ছোট প্রজাতি) - পানিতে ভেসে চলা রে মাছ - সামুদ্রিক কচ্ছপ - রঙিন প্রবাল প্রাচীর প্রদর্শনী - বাচ্চাদের জন্য ইন্টারেক্টিভ টাচ পুল - তথ্য বোর্ড সহ সামুদ্রিক জীবন প্রদর্শনী **পরিবারের জন্য আদর্শ** এই জায়গা বিশেষত শিশুদের নিয়ে ভ্রমণকারী পরিবারের কাছে জনপ্রিয়। বাচ্চারা রঙিন মাছ দেখতে, টাচ পুলে তারামাছ স্পর্শ করতে, এবং পানির নিচের টানেল দিয়ে হাঁটতে পছন্দ করে। এটি সম্পূর্ণ এয়ার-কন্ডিশনড, তাই কক্সবাজারের গরম ও আর্দ্রতা থেকে আরামদায়ক মুক্তি। **অবস্থানের সুবিধা** [লাবণী পয়েন্ট](/bn/tourist-places/laboni-point) ও প্রধান সৈকত এলাকার কাছে অবস্থিত হওয়ায় রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড কক্সবাজার ভ্রমণসূচির অংশ হিসেবে সহজে দেখা যায়। অনেক দর্শনার্থী সকাল বা সন্ধ্যায় সৈকতে যান এবং বিকেলে রোদ বেশি তীব্র হলে অ্যাকুয়ারিয়াম ঘুরে দেখেন।
**ভিড় থেকে শান্তিপূর্ণ পালানোর জায়গা** সুগন্ধা বিচ হলো সেই জায়গা যেখানে আপনি আসবেন যখন কক্সবাজারের সৌন্দর্য চান কিন্তু শব্দ এবং ভিড় ছাড়া। [কলাতলী বিচ](/bn/tourist-places/kolatoli-beach) এর দক্ষিণে অবস্থিত, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের এই শান্ত অংশ আরও আরামদায়ক এবং প্রাকৃতিক অভিজ্ঞতা দেয়। "সুগন্ধা" নামের অর্থ সুবাস, এবং অনেকে বলেন এটি এসেছে তাজা, পরিষ্কার সমুদ্রের বাতাস থেকে যা ব্যস্ত উত্তরের সৈকতগুলোর চেয়ে এখানে বেশি বিশুদ্ধ মনে হয়। **সুগন্ধাকে আলাদা করে যা** যেখানে [লাবণী পয়েন্ট](/bn/tourist-places/laboni-point) এবং [কলাতলী](/bn/tourist-places/kolatoli-beach) সবচেয়ে বেশি ভিড় আকর্ষণ করে, সুগন্ধা বিচ ভারী বাণিজ্যিক উন্নয়ন থেকে তুলনামূলকভাবে অস্পর্শিত থাকে। বালি বেশি পরিষ্কার মনে হয়, ঢেউ বেশি শান্ত মনে হয়, এবং আপনি বিক্রেতা ও জোরে গানের ব্যাকগ্রাউন্ড শব্দ ছাড়াই সত্যিই সমুদ্রের শব্দ শুনতে পাবেন। এটি সেই কক্সবাজার যা গণপর্যটনের আগে ছিল - সহজ, প্রাকৃতিক এবং শান্তিপূর্ণ। **যারা শান্তি খোঁজেন তাদের জন্য সৈকত** সুগন্ধা সেই দর্শনার্থীদের জন্য একদম উপযুক্ত যারা ব্যস্ততা থেকে বের হতে চান। রোমান্টিক হাঁটা খুঁজছেন এমন দম্পতি, শিশুদের জন্য নিরাপদ সাঁতারের জায়গা চান এমন পরিবার, এবং যারা নাইটলাইফের চেয়ে প্রকৃতি পছন্দ করেন তারা সুগন্ধাকে আদর্শ পাবেন। এখানের সৈকত কক্সবাজারের বাকি অংশের মতোই প্রশস্ত এবং সোনালি, কিন্তু আপনার জন্য বেশি জায়গা থাকবে, বিশেষ করে কর্মদিবসের সকালে। **প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটে ওঠে** অনেক দোকান এবং রেস্তোরাঁর বিক্ষেপ ছাড়া, আপনি সুগন্ধায় বঙ্গোপসাগরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে সত্যিই উপলব্ধি করতে পারবেন। এখানের সূর্যোদয় অসাধারণ - লাবণী পয়েন্টের চেয়ে অনেক কম মানুষ দেখে। পানি স্বচ্ছ, বালি নরম, এবং অসীম দিগন্ত আপনাকে মনে করিয়ে দেয় কেন কক্সবাজার প্রথমে বিখ্যাত হয়েছিল। **সংযুক্ত অথচ নির্জন** শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সত্ত্বেও, সুগন্ধা এখনও ভালোভাবে সংযুক্ত। উত্তরে একটু হাঁটলেই প্রাণবন্ত [কলাতলী বিচ](/bn/tourist-places/kolatoli-beach) এলাকায় পৌঁছাবেন যেখানে রেস্তোরাঁ এবং বিনোদন আছে। আপনি দুই জগতের সেরাটা পাবেন - শান্তি এবং নিরিবিলির জন্য সুগন্ধায় থাকুন, কিন্তু খাবার এবং মজা চাইলে কলাতলীতে হেঁটে যান। এটি সুগন্ধাকে থাকার জন্য চমৎকার পছন্দ করে যদি আপনি ঘুম এবং বিশ্রামকে মূল্য দেন। **আরও অ্যাডভেঞ্চারের পথ** সুগন্ধা বিচ বিখ্যাত মেরিন ড্রাইভ রাস্তা ধরে আরও দক্ষিণে যাত্রার শুরুর পয়েন্টও। এখান থেকে আপনি সহজেই [ইনানী বিচ](/bn/tourist-places/inani-beach), [হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান](/bn/tourist-places/himchari-national-park), এবং শেষ পর্যন্ত কক্সবাজার উপকূলরেখার দক্ষিণ প্রান্তে পৌঁছাতে পারবেন। অনেক দর্শনার্থী সুগন্ধাকে শান্ত ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেন যেখান থেকে আরও অ্যাডভেঞ্চারমূলক গন্তব্যগুলো ঘুরে দেখেন।

**বাতিঘর ও বায়ুর দ্বীপ** কুতুবদিয়া বঙ্গোপসাগরে কক্সবাজারের উপকূল থেকে একটু দূরে অবস্থিত একটি ছোট দ্বীপ। এই দ্বীপের নামকরণের পেছনে আছে এক অনন্য গল্প - শত শত বছর আগে এখানে আসা সুফি সাধক কুতুব উদ্দিন আউলিয়ার নামে এই দ্বীপের নাম। আজ দ্বীপটি দুটি জিনিসের জন্য বিখ্যাত: ঐতিহাসিক বাতিঘর এবং বাংলাদেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প। **হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস** কুতুবদিয়াকে যা বিশেষ করে তুলেছে, সেটাই এর দুঃখের কারণ। গত শত বছরে সমুদ্র ধীরে ধীরে দ্বীপটিকে গ্রাস করছে। ১৮৪৬ সালে ব্রিটিশদের তৈরি মূল কুতুবদিয়া বাতিঘর এখন সমুদ্রের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে - সমুদ্র কতটা জমি কেড়ে নিয়েছে তার এক ভয়ংকর স্মৃতি। ভেতরের দিকে নতুন বাতিঘর তৈরি করা হয়েছে, কিন্তু সেটাও এখন ভাঙনের হুমকিতে। **বায়ু শক্তির পথিকৃৎ** দ্বীপজুড়ে তাকালে দেখবেন সারি সারি বায়ুকল ক্রমাগত সমুদ্রের বাতাসে ঘুরছে। কুতুবদিয়াতে বাংলাদেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে, উপকূলের শক্তিশালী বাতাসকে কাজে লাগাতে। নীল আকাশের পটভূমিতে এই সাদা বায়ুকলগুলো দ্বীপের প্রতীক হয়ে উঠেছে। **দ্বীপের জীবন** [কক্সবাজারের](/bn/tourist-places/coxs-bazar-beach) পর্যটক-ভারাক্রান্ত সৈকতের মতো নয়, কুতুবদিয়া সাধারণ দ্বীপ জীবনের এক ঝলক দেখায়। এখানকার মানুষ বেশিরভাগই জেলে আর লবণ চাষি। দেখবেন ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার নৌকা, রোদে ঝকমক করা লবণ মাঠ, আর এমন একটি সম্প্রদায় যারা প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল উপকূলরেখার সাথে বাঁচতে শিখেছে। **কেন যাবেন** কুতুবদিয়া তাদের জন্য যারা অন্যরকম কিছু চান। এখানে আলিশান রিসোর্ট বা ভিড়ভাট্টা সৈকত নেই। বরং পাবেন খাঁটি গ্রামীণ জীবন, নাটকীয় উপকূলরেখা, ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষ, আর যেখানে স্থল ক্ষুধার্ত সমুদ্রের সাথে মিলেছে সেখানে দাঁড়ানোর অনন্য অভিজ্ঞতা। এটি এমন একটি জায়গা যা মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতি কতটা শক্তিশালী।