নোয়াখালীর চর দ্বীপ এবং মাইজদী উপকূলীয় শহর ঘুরে দেখুন। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সংমিশ্রণ, নতুন ভূমি গঠন এবং মাছ ধরার সংস্কৃতি।
**ঐতিহাসিক গুরুত্ব** নোয়াখালী জেলার জয়াগ গ্রামে অবস্থিত গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট বাংলার ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার সময়ে [মহাত্মা গান্ধী](https://bn.wikipedia.org/wiki/মহাত্মা_গান্ধী)-র অসাধারণ শান্তি মিশনের জীবন্ত স্মৃতিস্তম্ভ। ১৯৪৬ সালের শেষ দিক এবং ১৯৪৭ সালের প্রথম দিকে নোয়াখালী জুড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক হিংসা ও দুর্ভোগের সৃষ্টি করে। ৭৭ বছর বয়সী মহাত্মা গান্ধী হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে চার মাস ধরে নোয়াখালীর গ্রামগুলোতে খালি পায়ে হেঁটে বেড়িয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিক যাত্রা [গান্ধীর নোয়াখালী মার্চ](https://bn.wikipedia.org/wiki/নোয়াখালি_দাঙ্গা) নামে পরিচিত। **ঐতিহাসিক শান্তি পদযাত্রা** গান্ধী ১৯৪৬ সালের নভেম্বরে নোয়াখালীতে আসেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোতে তাঁর বিখ্যাত পদযাত্রা শুরু করেন। তিনি গ্রাম থেকে গ্রামে হেঁটে বেড়িয়েছেন, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের বাড়িতে থেকেছেন, অহিংসা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাণী প্রচার করেছেন। জয়াগে থাকাকালীন গান্ধী তাঁর শান্তি কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে এই আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি প্রার্থনা সভা করতেন, গ্রামের মুরুব্বিদের সাথে দেখা করতেন এবং সাম্প্রদায়িক হিংসার ক্ষত সারাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করতেন। তাঁর উপস্থিতি ও বাণী উত্তেজনা প্রশমিত করতে সাহায্য করেছিল এবং শান্তিপূর্ণ সংঘাত নিরসনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। **আজকের আশ্রম** আজ গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট এই ঐতিহাসিক সময়ের স্মৃতি সংরক্ষণ করছে। আশ্রমে সেই কক্ষটি রয়েছে যেখানে গান্ধী নোয়াখালী মিশনের সময় থাকতেন। আপনি তাঁর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র দেখতে পাবেন, যার মধ্যে তাঁর চরকা, বাসনপত্র এবং প্রতিদিন ব্যবহার করা অন্যান্য জিনিস রয়েছে। আশ্রমে একটি ছোট জাদুঘরও আছে যেখানে সেই সময়ের ছবি, চিঠিপত্র এবং দলিল সংরক্ষিত আছে। গান্ধী ও স্বাধীনতা আন্দোলন সম্পর্কিত বই নিয়ে একটি গ্রন্থাগারও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। **কেন এটি বিশেষ** - বাংলাদেশে মহাত্মা গান্ধীর সাথে সরাসরি সংযুক্ত কয়েকটি স্থানের একটি - গান্ধী যেখানে থাকতেন সেই মূল কাঠামো সংরক্ষিত আছে - শান্ত পরিবেশ গান্ধীর সরলতা ও শান্তির আদর্শ প্রতিফলিত করে - এই অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রচেষ্টা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান - আশ্রম বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে গান্ধীর আদর্শ প্রচার অব্যাহত রেখেছে **চিন্তা-ভাবনার স্থান** আশ্রমটি গাছ ও বাগানে ঘেরা শান্ত পরিবেশে অবস্থিত। এটি দর্শনার্থীদের গান্ধীর অহিংসা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাণী নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ দেয়। আশ্রমের সরলতা গান্ধীর নিজের জীবনযাত্রাকে প্রতিফলিত করে। অনেক দর্শনার্থী এই পরিবেশকে গভীরভাবে মর্মস্পর্শী ও অনুপ্রেরণাদায়ক মনে করেন। স্কুল-কলেজগুলো প্রায়ই ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে জানতে শিক্ষার্থীদের এখানে নিয়ে আসে। **নোয়াখালী আরও ঘুরে দেখুন** গান্ধী আশ্রম দেখার সময় নোয়াখালীর অন্যান্য আকর্ষণও ঘুরে দেখুন, যার মধ্যে ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের জন্য [মাইজদী কোর্ট](/bn/tourist-places/maijdee-court) এবং মনোরম [মেঘনা নদী এলাকা](/bn/tourist-places/meghna-river-area-noakhali) অন্যতম।
**সংক্ষিপ্ত ইতিহাস** ১৯৫০-এর দশকে [মেঘনা নদী](/bn/tourist-places/meghna-river-area-noakhali)-র পলি জমে দ্বীপটি তৈরি হতে শুরু করে। ১৯৭০-এর দশকে সরকার ভূমি স্থিতিশীল করতে ম্যানগ্রোভ বন রোপণ করে। স্থানীয় মানুষ এখানে বসতি স্থাপন শুরু করে এবং দ্বীপে চিত্রা হরিণ ছাড়া হয়। হরিণেরা এখানে নিখুঁত আবাস খুঁজে পায় এবং তাদের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। আজ নিঝুম দ্বীপে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম চিত্রা হরিণের দল রয়েছে। **বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য** ২০০১ সালে বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য নিঝুম দ্বীপের ১৬,৩৫২ হেক্টর এলাকা জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দ্বীপটি তার চিত্রা হরিণের (স্থানীয়ভাবে "চিত্রা হরিণ" বলা হয়) জন্য বিখ্যাত, যারা সৈকত ও বনে অবাধে ঘুরে বেড়ায়। সকালে ও বিকেলে তীরের কাছে তাদের চরতে দেখার সবচেয়ে ভালো সময়। হরিণ ছাড়াও দ্বীপে বিভিন্ন পাখি, সরীসৃপ ও সামুদ্রিক প্রাণী রয়েছে। **পরিযায়ী পাখিদের স্বর্গ** শীতকালে (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি নিঝুম দ্বীপে আসে। মাছরাঙা, বক, সাদা বক এবং বিভিন্ন জলচর পাখি এই দ্বীপকে তাদের সাময়িক আবাস বানায়। পাখি পর্যবেক্ষকরা একে বাংলাদেশে বিরল পরিযায়ী প্রজাতি দেখার অন্যতম সেরা জায়গা মনে করেন। **ম্যানগ্রোভ বন ও সৈকত** দ্বীপের তীর জুড়ে সুন্দর ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে। এই বনগুলো দ্বীপকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে এবং বন্যপ্রাণীর আশ্রয় দেয়। এখানকার সৈকতগুলো শান্ত ও পরিষ্কার, কক্সবাজারের জনাকীর্ণ সৈকতের মতো নয়। অফ-সিজনে আপনি কিলোমিটারের পর কিলোমিটার হেঁটে যেতে পারবেন অন্য কাউকে না দেখে। **দ্বীপের জীবন** প্রায় ৩৫,০০০ মানুষ নিঝুম দ্বীপে বাস করে। বেশিরভাগই জেলে বা কৃষক হিসেবে কাজ করে। স্থানীয় জীবনযাত্রা সহজ ও ঐতিহ্যবাহী। দর্শনার্থীরা প্রায়ই স্থানীয় মানুষের উষ্ণ আতিথেয়তা উপভোগ করেন এবং প্রকৃত উপকূলীয় বাংলাদেশের একটি ঝলক দেখতে পান। তাজা সামুদ্রিক খাবার, বিশেষ করে কাঁকড়া ও শুটকি মাছ, খাদ্যপ্রেমীদের জন্য এক বিশেষ আকর্ষণ। **আরও জানুন** বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য [বাংলাদেশ বন বিভাগ](http://www.bforest.gov.bd/) ওয়েবসাইট দেখুন।
এই জেলায় এখনও কোন আবাসন পাওয়া যায়নি।