হিরণ পয়েন্ট, যা নীলকমল নামেও পরিচিত, সুন্দরবনের গভীরে সবচেয়ে বিখ্যাত বন্যপ্রাণী দেখার স্থানগুলোর একটি।
যেখানে বন বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়, সেই প্রত্যন্ত এই গন্তব্যে কিংবদন্তি রয়েল বেঙ্গল টাইগার তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে দেখার সেরা সুযোগ পাওয়া যায়।
হিরণ পয়েন্ট ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের বাফার জোনের মধ্যে এবং সুন্দরবনে সর্বোচ্চ বাঘের ঘনত্বের জন্য পরিচিত।
এই এলাকার অনন্য ভূগোল - যেখানে মিঠা পানির নদী লোনা পানির সাথে মিশে - একটি সমৃদ্ধ বাস্তুসংস্থান তৈরি করে যা বিভিন্ন বন্যপ্রাণীকে আকর্ষণ করে।
হিরণ পয়েন্টে পৌঁছানো নিজেই একটি দুঃসাহসিক অভিযান।
ঘন ম্যানগ্রোভ বনে ঘেরা সরু বন চ্যানেলের মধ্য দিয়ে আপনি যাত্রা করবেন।
যাত্রাপথে অসংখ্য খাঁড়ি পার হবেন যেখানে চিত্রা হরিণ পানির ধারে পানি পান করে এবং কুমির কাদার চরে রোদ পোহায়।
বাঘ ছাড়াও, হিরণ পয়েন্টে চিত্রা হরিণ, বন্য শূকর, রেসাস বানর, গুইসাপ, লোনা পানির কুমির এবং ২৬০টিরও বেশি পাখি প্রজাতির বাস।
পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে বন্যপ্রাণী দেখার জন্য ভোরবেলা ও বিকালে সেরা সময়।
এটি স্থায়ী মানব বসতিহীন একটি প্রত্যন্ত বন্য এলাকা।
ভ্রমণের জন্য আগাম পরিকল্পনা, যথাযথ পারমিট এবং সংগঠিত ট্যুর প্রয়োজন।
এটি এক দিনের ভ্রমণ গন্তব্য নয় - বেশিরভাগ পর্যটক হিরণ পয়েন্টকে হাইলাইট করে সুন্দরবন ঘুরতে ২-৩ দিন ব্যয় করেন।
সব পারমিট মংলা বা খুলনা বন বিভাগ অফিস থেকে আগে থেকে ব্যবস্থা করতে হবে।
প্যাকেজ ট্যুরে সাধারণত সব পারমিট ফি অন্তর্ভুক্ত থাকে।
হিরণ পয়েন্টে কোনো সড়ক যোগাযোগ নেই।
সুন্দরবনের জলপথে নৌকাই একমাত্র উপায়।
এখনও কোনও রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউ লিখুন!
**দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স সম্পর্কে:** দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স বিশ্বখ্যাত কবি [রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের](https://en.wikipedia.org/wiki/Rabindranath_Tagore) সাথে সংযুক্ত একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান। ফুলতলা উপজেলার এই গ্রাম ছিল ঠাকুরের মাতামহের পৈতৃক বাড়ি। এই স্থান খুলনা অঞ্চলে নোবেল বিজয়ী কবির পারিবারিক শিকড়ের স্মৃতি সংরক্ষণ করে। **ঐতিহাসিক গুরুত্ব:** রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা সারদা দেবী এই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মাতৃকুলের মাধ্যমে ঠাকুর পরিবারের এই এলাকার সাথে গভীর সংযোগ ছিল। মহান কবি এবং খুলনার মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকে সম্মান জানাতে এই কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে। **যা দেখতে পাবেন:** কমপ্লেক্সে ঠাকুরের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে তথ্য সংবলিত একটি স্মৃতি ভবন রয়েছে। তাঁর ছবি, লেখা এবং এই অঞ্চলের সাথে তাঁর সংযোগের তথ্য প্রদর্শিত আছে। শান্ত প্রাঙ্গণে বাগান এবং বসার জায়গা রয়েছে যেখানে দর্শনার্থীরা তাঁর সাহিত্যিক উত্তরাধিকার নিয়ে চিন্তা করতে পারেন। **সাংস্কৃতিক গুরুত্ব:** বাংলা সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য এটি একটি অর্থবহ জায়গা। কমপ্লেক্সে ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীতে (২৫ বৈশাখ) এবং অন্যান্য বিশেষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঠাকুরের দর্শন এবং সৃজনশীল কাজ প্রচারের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। আরও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের জন্য [খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর](/tourist-places/khulna-divisional-museum) দেখুন। **কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান** - [খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর](/tourist-places/khulna-divisional-museum) - আঞ্চলিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি - [শহীদ হাদিস পার্ক](/tourist-places/shahid-hadis-park) - শহুরে সবুজ স্থান - [ডাকবাংলা ঘাট](/tourist-places/dakbangla-ghat) - মনোরম নদীতীর - [রূপসা সেতু](/tourist-places/rupsha-bridge) - আইকনিক ল্যান্ডমার্ক

সুন্দরবন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় [ম্যানগ্রোভ বন](https://en.wikipedia.org/wiki/Mangrove) এবং একটি [ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান](https://whc.unesco.org/en/list/798/)। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর বদ্বীপে বিস্তৃত এই জাদুকরী বনের আয়তন প্রায় ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার, যার মধ্যে বাংলাদেশে প্রায় ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার। "সুন্দরবন" নামটি সুন্দরী গাছ (Heritiera fomes) থেকে এসেছে যা এখানে প্রচুর পরিমাণে জন্মায়। **সুন্দরবন কেন বিশেষ** সুন্দরবন বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল। বাংলাদেশ অংশে প্রায় ১০০-১৫০টি বাঘ বাস করে, যা এই মহিমান্বিত প্রাণীর শেষ আশ্রয়স্থলগুলোর একটি। অন্যান্য বাঘের মতো নয়, এরা জোয়ার-ভাটার পানিতে সাঁতার কাটা এবং ম্যানগ্রোভ জলাভূমিতে শিকার করায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে। বনটি জীববৈচিত্র্যের এক প্রাকৃতিক বিস্ময়। এখানে ২৬০টিরও বেশি পাখি প্রজাতি, ১২০টি মাছ প্রজাতি, ৫০টি সরীসৃপ প্রজাতি এবং ৮টি উভচর প্রজাতি রয়েছে। আপনি এখানে চিত্রা হরিণ, বন্য শূকর, রেসাস বানর, গোসাপ, লোনা পানির কুমির এবং বিরল গাঙ্গেয় ডলফিন দেখতে পাবেন। মিঠা পানি আর লোনা পানির মিলনস্থলে গড়ে ওঠা এই বনের বাস্তুতন্ত্র পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায় না। **বনের প্রাকৃতিক দৃশ্য** সুন্দরবন হলো জোয়ার-ভাটার খালপথ, কাদাচর এবং লবণ-সহিষ্ণু গাছে ঢাকা ছোট ছোট দ্বীপের এক গোলকধাঁধা। সুন্দরী গাছ তাদের বিশেষ শ্বাসমূল (নিউমাটোফোর) দিয়ে বনে রাজত্ব করে যা পানি থেকে উঠে আসে। অন্যান্য সাধারণ গাছের মধ্যে আছে গেওয়া, গরান, কেওড়া এবং গোলপাতা যার পাতা স্থানীয়রা ঘরের ছাউনি তৈরিতে ব্যবহার করে। জোয়ার-ভাটা প্রতিদিন দুইবার বনের রূপ বদলে দেয়। জোয়ারের সময় পানি বনের মেঝের বেশিরভাগ ঢেকে ফেলে, আর গাছগুলো যেন পানি থেকেই জন্ম নিয়েছে মনে হয়। ভাটার সময় কাদাচর বেরিয়ে আসে, কাঁকড়া, মাডস্কিপার এবং অন্যান্য প্রাণী দেখা যায়। এই নিরন্তর পরিবর্তন প্রতিটি ভ্রমণকে আলাদা অভিজ্ঞতায় পরিণত করে। **পর্যটকদের প্রবেশদ্বার** খুলনা শহর সুন্দরবনের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। এখান থেকে পর্যটকরা [মংলা বন্দর](/tourist-places/mongla-port-area) বা মোড়েলগঞ্জে যান বনের ভেতরে যাওয়ার জন্য নৌকায় চড়তে। বন বিভাগ [কারমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র](/tourist-places/karamjal-wildlife-breeding-center), হারবাড়িয়া, কটকা এবং [হিরণ পয়েন্ট](/tourist-places/hiron-point) সহ বেশ কয়েকটি পর্যটন স্পট তৈরি করেছে, প্রতিটি স্থানে অনন্য বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ রয়েছে। সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়—এটি একটি জীবন্ত, শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া বাস্তুতন্ত্র যা ঘূর্ণিঝড় থেকে উপকূল রক্ষা করে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা দেয়। এখানে আসা প্রকৃতিকে তার সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রাচীন রূপে দেখার এক সুযোগ।

রূপসা সেতু [খুলনা](https://en.wikipedia.org/wiki/Khulna) শহরের অন্যতম আইকনিক স্থাপনা এবং বাংলাদেশের একটি বড় প্রকৌশল অর্জন। এই সুন্দর সেতুটি রূপসা নদীর উপর দিয়ে বিস্তৃত, খুলনা শহরকে [সুন্দরবনের](/tourist-places/sundarbans) প্রবেশদ্বার সহ দক্ষিণ অঞ্চলের সাথে সংযুক্ত করেছে। ২০০৫ সালে চালু হওয়া এই সেতুটি আধুনিক খুলনার প্রতীক এবং স্থানীয় ও পর্যটকদের কাছে একটি জনপ্রিয় স্থান হয়ে উঠেছে। **দক্ষিণের প্রবেশদ্বার** সেতুটি খুলনাকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মংলা বন্দর এবং সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ বনের সাথে সংযুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেতু তৈরির আগে, মানুষকে নদী পার হতে ফেরির উপর নির্ভর করতে হতো, যা দীর্ঘ বিলম্বের কারণ ছিল। এখন, যাত্রা মসৃণ এবং গাড়িতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় নেয়। **সেতুর গঠন** রূপসা সেতু ১.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতুগুলোর একটি। এটি লম্বা কংক্রিট পিলারের উপর নির্মিত যা নদীর পানিতে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে। সেতুতে যানবাহনের জন্য দুটি লেন এবং পথচারীদের জন্য উভয় পাশে ফুটপাথ আছে। রাতে, সেতুটি সুন্দরভাবে আলোকিত হয়ে ওঠে, নিচের নদীতে প্রতিফলিত হয়ে অসাধারণ দৃশ্য তৈরি করে। **সূর্যাস্তের দৃশ্য ও নদীতীরের পরিবেশ** পরিদর্শনের সেরা সময় হলো বিকাল বা সন্ধ্যা যখন সূর্য নদীর উপর অস্ত যায়। পানিতে প্রতিফলিত কমলা ও গোলাপী আকাশ একটি জাদুকরী দৃশ্য তৈরি করে। অনেক স্থানীয় মানুষ সন্ধ্যায় এখানে আসেন ঠান্ডা নদীর বাতাস উপভোগ করতে এবং নৌকা চলাচল দেখতে। সেতুর কাছে রাস্তার খাবার বিক্রেতারা দোকান সাজিয়ে বসেন, যা এটিকে একটি জমজমাট জমায়েতের স্থান করে তোলে। **নিকটবর্তী আকর্ষণ** সেতু থেকে আপনি রূপসা নদীতে সব আকারের নৌকা চলাচল দেখতে পারবেন। সেতুর কাছের এলাকায় বেশ কিছু চায়ের দোকান এবং ছোট রেস্তোরাঁ আছে। সুন্দরবনে যাওয়ার আগে বা খুলনার অন্যান্য অংশ ঘুরে দেখার আগে এটি একটি দারুণ শুরুর জায়গা। [ডাকবাংলা ঘাট](/tourist-places/dakbangla-ghat) এলাকা কাছেই, যেখানে আরও নদীতীরের দৃশ্য ও স্থানীয় পরিবেশ উপভোগ করা যায়। **কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান** - [ডাকবাংলা ঘাট](/tourist-places/dakbangla-ghat) - মনোরম নদীতীর এলাকা - [খুলনা শিপইয়ার্ড](/tourist-places/khulna-shipyard) - ঐতিহাসিক জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র - [শহীদ হাদিস পার্ক](/tourist-places/shahid-hadis-park) - শহুরে সবুজ স্থান - [খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর](/tourist-places/khulna-divisional-museum) - আঞ্চলিক ইতিহাস
**বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্মৃতিসৌধ সম্পর্কে:** এই স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের একজনকে সম্মান জানায় - [১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে](https://en.wikipedia.org/wiki/Bangladesh_Liberation_War) অসাধারণ বীরত্বের জন্য দেওয়া সর্বোচ্চ বীরত্ব পুরস্কার। রুহুল আমিন ছিলেন একজন নৌসেনা যিনি বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছিলেন। **রুহুল আমিন কে ছিলেন:** মোহাম্মদ রুহুল আমিন ১৯৩৫ সালে বাগেরহাট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরে মুক্তিযোদ্ধা হন। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে নৌযুদ্ধে তিনি অসাধারণ সাহস দেখান। তাঁর জাহাজে আঘাত লাগার পরেও তিনি শহীদ হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান। তখন তাঁর বয়স মাত্র ৩৬ বছর। **স্মৃতিসৌধ:** স্মৃতিসৌধ কমপ্লেক্সে তাঁর কবর এবং তাঁর আত্মত্যাগকে সম্মান জানানো একটি স্মারক রয়েছে। স্থানটি জাতীয় স্মরণের স্থান হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। দর্শনার্থীরা তাঁর জীবন, মুক্তিযুদ্ধ এবং তাঁর বীরত্বপূর্ণ শেষ যুদ্ধ সম্পর্কে প্রদর্শনী দেখতে পারেন। **কেন যাবেন:** বাংলাদেশিদের জন্য এটি একজন জাতীয় বীরকে সম্মান জানানোর স্থান। ইতিহাসে আগ্রহী দর্শকদের জন্য এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার জন্য যারা লড়াই করেছিলেন তাদের বীরত্ব সম্পর্কে ধারণা দেয়। শান্ত পরিবেশ স্বাধীনতার জন্য করা আত্মত্যাগ নিয়ে নীরব চিন্তার সুযোগ দেয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রদর্শনী সহ [খুলনা বিভাগীয় জাদুঘরেও](/tourist-places/khulna-divisional-museum) আরও জানতে পারবেন। **কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান** - [খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর](/tourist-places/khulna-divisional-museum) - মুক্তিযুদ্ধসহ ঐতিহাসিক প্রদর্শনী - [গল্লামারি স্মৃতিসৌধ](/tourist-places/gallamari-memorial-monument) - আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ - [শহীদ হাদিস পার্ক](/tourist-places/shahid-hadis-park) - শহীদদের সম্মানে পার্ক - [রূপসা সেতু](/tourist-places/rupsha-bridge) - মনোরম ল্যান্ডমার্ক