সাতক্ষীরা এ দূরত্ব অনুযায়ী সাজানো আবাসন দেখুন
মুন্সিগঞ্জ ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার সাতক্ষীরা জেলার পশ্চিম সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার।
শ্যামনগর উপজেলায় অবস্থিত এই কেন্দ্র বন ভ্রমণের শুরুর পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনের কিনারা অনুভব করতে চান এমন দর্শনার্থীদের জন্য নিজস্ব আকর্ষণ আছে।
সাতক্ষীরা থেকে অনেক সুন্দরবন ভ্রমণ মুন্সিগঞ্জ থেকে শুরু হয়।
এখানকার জেটি ম্যানগ্রোভ বনে প্রবাহিত নদীগুলোর সাথে সংযুক্ত।
সুন্দরবনের গভীর অংশ ঘুরে দেখতে এখান থেকে ট্যুর বোট ছাড়ে।
কিন্তু আপনি বনের গভীরে না গেলেও, মুন্সিগঞ্জে অনেক কিছু দেখার আছে।
কেন্দ্রটি সেখানে অবস্থিত যেখানে মানুষের জীবন বন্য অরণ্যের সাথে মিলিত হয়।
এক পাশে গ্রাম ও কৃষিজমি দেখবেন।
অন্য পাশে ম্যানগ্রোভ বন শুরু।
দুই জগতের এই সীমানা এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করে।
নৌকা আসা-যাওয়া দেখতে পারেন, জেলেদের মাছ নিয়ে ফিরতে দেখতে পারেন, এবং কাছের গাছ থেকে পাখির ডাক শুনতে পারেন।
মুন্সিগঞ্জ সুন্দরবনের কাছে মানুষ কীভাবে জীবনযাপন করে তার কাছ থেকে দেখার সুযোগ দেয়।
স্থানীয় অর্থনীতি বন ও নদীর উপর নির্ভরশীল।
জেলেরা মাছ ও কাঁকড়া ধরে।
কিছু পরিবার মৌসুমে মধু সংগ্রহ করে।
অন্যরা নৌকা অপারেটর ও গাইড হিসেবে কাজ করে।
এখানে ভ্রমণ মানে এই পরিবারগুলোকে সরাসরি সহায়তা করা।
ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার থেকেই ম্যানগ্রোভ বনের ভালো দৃশ্য পাওয়া যায়।
নদীর তীর ধরে সুন্দরী ও গরান গাছের জটলা পাকানো শিকড় দেখা যায়।
মাছরাঙা ও বকের মতো পাখি সাধারণ দৃশ্য।
ভাগ্য ভালো থাকলে, দর্শন স্থান থেকে গুইসাপ বা এমনকি কুমির দেখতে পারেন।
বেশিরভাগ দর্শনার্থী মুন্সিগঞ্জকে সুন্দরবনে দীর্ঘ ভ্রমণের বেস হিসেবে ব্যবহার করেন।
এখান থেকে নৌকায় যেতে পারেন:
এই যাত্রাগুলোর জন্য পারমিট, নৌকা ও গাইড ব্যবস্থা করতে কেন্দ্রে সুবিধা আছে।
কেন্দ্রে সামান্য প্রবেশ ফি আছে:
বনে গেলে বন বিভাগের পারমিট লাগবে:
মুন্সিগঞ্জ থেকে নৌকা:
দ্রষ্টব্য: আসার আগে সাতক্ষীরা বন বিভাগের অফিস থেকে পারমিট নিন।
কিছু ট্যুর অপারেটর সব ব্যবস্থা করে দেয়।
ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার দিনের আলোতে খোলা থাকে:
শুধু ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার ও কাছের দৃশ্য দেখতে ২-৩ ঘণ্টা যথেষ্ট।
তবে বেশিরভাগ দর্শনার্থী এটি সুন্দরবন নৌকা ভ্রমণের সাথে মিলিয়ে করেন:
যত বেশি সময় দেবেন, তত বেশি বন্যপ্রাণী দেখতে পাবেন।
ভ্রমণের সেরা সময় নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি যখন আবহাওয়া ঠাণ্ডা ও আরামদায়ক।
শীতকাল (নভেম্বর - ফেব্রুয়ারি) - সেরা সময়
সপ্তাহের দিনগুলো সপ্তাহান্তের চেয়ে শান্ত।
শান্তিপূর্ণ অভিজ্ঞতা চাইলে বড় ছুটির দিন এড়িয়ে চলুন।
মুন্সিগঞ্জ সাতক্ষীরা শহর থেকে সড়কপথে ভালোভাবে সংযুক্ত।
সাতক্ষীরা শহর থেকে:
শ্যামনগর থেকে:
কিছু দর্শনার্থী আগে বুড়িগোয়ালিনী হয়ে আসেন, তারপর ছোট নৌকায় মুন্সিগঞ্জ।
এটি অভিযানে যোগ করে কিন্তু বেশি সময় লাগে।
এখানেই আসল অভিযান শুরু:
যা দেখতে পারেন:
সুন্দরবনে বাঘ আছে:
নদীতে কুমির সাধারণ:
মুন্সিগঞ্জ ভ্রমণের বাজেট:
শেয়ার নৌকায় একদিনের ট্রিপ:
ছোট দলের সাথে পুরো দিনের ট্রিপ:
রাত্রিযাপন সহ ২-দিনের ট্রিপ:
এখনও কোনও রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউ লিখুন!
**ঔপনিবেশিক বাংলার এক ঝলক** সাতক্ষীরা জমিদার বাড়ি একটি ঐতিহাসিক জমিদার প্রাসাদ যা বাংলার ঔপনিবেশিক অতীতের গল্প বলে। সাতক্ষীরা শহরে অবস্থিত এই পুরনো ভবনটি দর্শনার্থীদের সেই দিনগুলোতে নিয়ে যায় যখন ক্ষমতাবান [জমিদাররা](https://en.wikipedia.org/wiki/Zamindar) বিশাল জমির উপর শাসন করতেন এবং তাদের সম্পদ ও মর্যাদা দেখাতে বিশাল বাড়ি তৈরি করতেন। [ভারতে ব্রিটিশ শাসনামলে](https://en.wikipedia.org/wiki/British_Raj), জমিদারি ব্যবস্থা ধনী জমির মালিকদের বিশাল এলাকার উপর নিয়ন্ত্রণ দিয়েছিল। এই জমিদাররা কৃষকদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করতেন এবং বিলাসিতায় বাস করতেন। তাদের ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য, তারা ইউরোপীয় ও বাঙালি স্থাপত্য শৈলী মিশিয়ে চমৎকার প্রাসাদ তৈরি করেছিলেন। সাতক্ষীরা জমিদার বাড়ি সেই যুগের এমনই একটি ভবন। **স্থাপত্য** প্রাসাদটি বাঙালি জমিদারি ভবনের সাধারণ শৈলী দেখায়: - উঁচু ছাদ সহ বড় কক্ষ - সজ্জিত স্তম্ভ ও খিলান - ইউরোপীয় ও স্থানীয় নকশার মিশ্রণ - অলংকৃত জানালা ও দরজার ফ্রেম - প্রশস্ত আঙিনা - পুরনো ধাঁচের টাইল কাজ ও প্লাস্টার নকশা **আজ যা অবশিষ্ট** বাংলাদেশের অনেক জমিদার বাড়ির মতো, এই ভবনটি ভালো দিন দেখেছে। কাঠামোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত, এবং মূল জাঁকজমক ম্লান হয়ে গেছে। তবে বর্তমান অবস্থাতেও, কল্পনা করা যায় এটি কতটা জমকালো ছিল। পুরনো দেয়াল, বিবর্ণ সাজসজ্জা এবং অবশিষ্ট স্থাপত্য বিবরণ এখনও এর গৌরবময় অতীতের কথা বলে। **ঐতিহাসিক গুরুত্ব** বাংলাদেশ (তখন পূর্ব পাকিস্তান) স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৫০ সালে জমিদারি ব্যবস্থার অবসান ঘটে। অনেক জমিদার ভারতে চলে যান, এবং তাদের সম্পত্তি পরিত্যক্ত হয় বা দখল হয়। সাতক্ষীরা জমিদার বাড়ির মতো জায়গা পরিদর্শন আমাদের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বুঝতে সাহায্য করে - সেই যুগের ভালো ও মন্দ উভয়ই। **কেন ভ্রমণ করবেন** ইতিহাসপ্রেমী ও ফটোগ্রাফারদের জন্য, এই প্রাসাদ দেয়: - ঔপনিবেশিক যুগের বাংলার সাথে সংযোগ - অন্বেষণ করার মজার স্থাপত্য বিবরণ - আধুনিক শহুরে জীবন থেকে শান্তিপূর্ণ পরিত্রাণ - ফটোগ্রাফির জন্য ভালো বিষয় - অতীত যুগের গল্প
**অন্য রকম এক সৈকত** মান্দারবাড়িয়া সৈকত বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্গম ও অস্পর্শিত সৈকতগুলোর একটি। সাতক্ষীরা জেলায় যেখানে [সুন্দরবন](https://en.wikipedia.org/wiki/Sundarbans) [বঙ্গোপসাগরের](https://en.wikipedia.org/wiki/Bay_of_Bengal) সাথে মিলিত হয়েছে সেখানে অবস্থিত এই লুকানো সৈকত প্রকৃতিকে তার সবচেয়ে বন্য রূপে দেখার এক বিরল সুযোগ দেয়। কক্সবাজার বা অন্যান্য জনপ্রিয় সৈকতের মতো নয়, মান্দারবাড়িয়ায় কোনো হোটেল নেই, রেস্তোরাঁ নেই, ভিড় নেই। এটি কাঁচা, প্রাকৃতিক বাংলাদেশ। সৈকতটি ম্যানগ্রোভ বনের কিনারা ধরে বিস্তৃত, এক পাশে বঙ্গোপসাগর এবং অন্য পাশে সুন্দরবন। এটি এমন জায়গা যেখানে খুব কম পর্যটক যায়। **যাত্রাই অভিযানের অংশ** মান্দারবাড়িয়া পৌঁছানো সহজ নয়, এবং এটাই একে বিশেষ করে তোলে। আপনাকে নৌকায় সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে, ম্যানগ্রোভ বনে ঘেরা নদী ও খালের মধ্য দিয়ে। যাত্রাটি নিজেই বন্যপ্রাণী দেখা এবং সুন্দর দৃশ্যে পরিপূর্ণ। **কী এটিকে অনন্য করে** সৈকতটি মান্দারবাড়িয়া দ্বীপে অবস্থিত, যা সুন্দরবন বদ্বীপের অংশ। এখানে মিঠা পানির নদী লবণাক্ত সমুদ্রের সাথে মিলিত হয়। বনের পলির কারণে বালি সাধারণ সৈকতের চেয়ে গাঢ়। লাল কাঁকড়া তীরের বিভিন্ন অংশ ঢেকে রাখে। সমুদ্র ঈগল মাথার উপর দিয়ে উড়ে যায়। কাছের পানিতে মাঝে মাঝে ডলফিন দেখা যায়। **বন্যপ্রাণীর সাক্ষাৎ** খুব কম মানুষ আসে বলে, পশু-পাখি এখানে কম ভয় পায়: - বিশাল সংখ্যায় লাল কাঁকড়া - সমুদ্র ঈগল ও অন্যান্য উপকূলীয় পাখি - উপসাগরে ডলফিন - তীরে গুইসাপ - কাছের বনে হরিণ ও বুনো শূকর - বালিতে বাঘের পায়ের ছাপও দেখা গেছে **প্রকৃত অভিযাত্রীদের জন্য** মান্দারবাড়িয়া সবার জন্য নয়। কোনো সুবিধা নেই, মিঠা পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই। প্রয়োজনীয় সবকিছু নিজে আনতে হবে। কিন্তু যারা বাংলাদেশের উপকূলকে তার প্রাকৃতিক অবস্থায় দেখতে চান, এই সৈকত তাদের জন্য এক রত্ন।
**মুঘল যুগের ঐতিহ্য** তেঁতুলিয়া শাহী মসজিদ দক্ষিণ বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও সুন্দর মসজিদ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। [মুঘল আমলে](https://en.wikipedia.org/wiki/Mughal_Empire) (প্রায় ১৭শ শতাব্দীতে) নির্মিত এই ঐতিহাসিক মসজিদ সেই যুগের স্থাপত্য দক্ষতার পরিচয় বহন করে। **বিশেষত্ব** - সাতক্ষীরা জেলার অন্যতম প্রাচীন মসজিদ - [টেরাকোটা](https://en.wikipedia.org/wiki/Terracotta) সজ্জিত সুন্দর লাল ইটের নির্মাণ - ঐতিহ্যবাহী মুঘল গম্বুজ স্থাপত্য - মূল নামাজ ঘরে তিনটি গম্বুজ - দেয়ালে জটিল ফুল ও জ্যামিতিক নকশা **ঐতিহাসিক পটভূমি** মুঘল সাম্রাজ্যের সময় এই অঞ্চল শাসনকারী স্থানীয় মুসলিম শাসকরা এই মসজিদ নির্মাণ করেন। "শাহী" শব্দের অর্থ রাজকীয়, যা রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতার ইঙ্গিত দেয়। শতাব্দী পুরনো হওয়া সত্ত্বেও মসজিদটি এখনও স্থানীয় মুসলিমদের জন্য সক্রিয় ইবাদতের স্থান। **দর্শনীয় স্থাপত্য** মসজিদটি ক্লাসিক মুঘল তিন-গম্বুজ শৈলী অনুসরণ করে। লাল ইটের দেয়ালগুলো ফুল, লতাপাতা এবং জ্যামিতিক নকশা দেখানো টেরাকোটা প্যানেল দিয়ে সজ্জিত। মিহরাবগুলোতে (নামাজের কুলুঙ্গি) শতাব্দী ধরে টিকে থাকা সুন্দর খোদাই করা বিবরণ রয়েছে।
**একটি লুকানো বন বিশ্রামস্থল** দোবেকী ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার সাতক্ষীরা জেলার পশ্চিম [সুন্দরবন](https://en.wikipedia.org/wiki/Sundarbans) অঞ্চলের একটি শান্তিপূর্ণ জায়গা। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনের এই নিরিবিলি কোণে দর্শনার্থীরা [কলাগাছিয়া](/tourist-places/kalagachhia-eco-tourism-center) বা [মুন্সিগঞ্জ](/tourist-places/munshiganj-eco-tourism-center)-এর মতো জনপ্রিয় জায়গাগুলোর ভিড় ছাড়াই প্রকৃতি উপভোগ করতে পারেন। দোবেকী সুন্দরবনের প্রান্তে অবস্থিত, যেখানে ম্যানগ্রোভ বন বঙ্গোপসাগরের দিকে প্রবাহিত নদীগুলোর সাথে মিলিত হয়। এলাকাটি অন্যান্য ইকো-ট্যুরিজম স্পটের তুলনায় কম উন্নত, যা সেই দর্শনার্থীদের জন্য উপযুক্ত যারা বনটিকে আরও প্রাকৃতিক অবস্থায় দেখতে চান। স্থানীয় সম্প্রদায়ের সাহায্যে বন বিভাগ এই কেন্দ্র পরিচালনা করে। **যে বন্যপ্রাণী দেখতে পারেন** দোবেকীর চারপাশের বনে অনেক প্রাণী বাস করে। চিত্রা হরিণ সাধারণ এবং প্রায়ই পানির কাছে দেখা যায়। বানরা গাছে খেলে, আর বুনো শূকর তীরে খাবার খোঁজে। নদীতে কুমির আছে, তাই কাদার তীরে বিশ্রামরত কুমির প্রায়ই দেখা যায়। অনেক ধরনের পাখিও এখানে বাস করে, যা পাখি দেখার জন্য দারুণ। **ম্যানগ্রোভ পরিবেশ** সুন্দরী, গেওয়া, গরান এবং কেওড়া গাছ বনের বেশিরভাগ অংশ তৈরি করে। তাদের শিকড় পানি থেকে মজার আকারে বেরিয়ে থাকে। জোয়ার আসলে পানি এই শিকড়গুলো ঢেকে দেয়। ভাটা হলে জটিল নেটওয়ার্ক দেখা যায় যা এই গাছগুলোকে লবণাক্ত পানিতে বাঁচতে সাহায্য করে। পরিবর্তনশীল জোয়ার-ভাটা বনে জীবনের একটি অনন্য ছন্দ তৈরি করে। **দোবেকী কেন বিশেষ** দোবেকীকে আলাদা করে তোলে এর শান্ত প্রকৃতি। এখানে কম নৌকা আসে, তাই বনটি আরও অস্পর্শিত মনে হয়। ইঞ্জিনের শব্দ ছাড়াই পাখির ডাক শুনতে পারবেন। পানি প্রায়ই শান্ত থাকে, যা বন্যপ্রাণী দেখা সহজ করে। ফটোগ্রাফার এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এই শান্তি মূল্যবান। **স্থানীয় জীবনের সাথে সংযোগ** কাছের গ্রামের মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই বনের পাশে বাস করে আসছে। তারা নদী ও খালগুলো ভালো চেনে। অনেকে গাইড, জেলে বা মধু সংগ্রাহক হিসেবে কাজ করে। দোবেকী ভ্রমণ মানে এই সম্প্রদায়গুলোকে সমর্থন করা এবং তারা যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করতে সাহায্য করে তা উপভোগ করা.