রাজশাহী এ দূরত্ব অনুযায়ী সাজানো আবাসন দেখুন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৫৩ সালে পদ্মা নদীর উত্তর তীরে প্রতিষ্ঠিত।
শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে এর বিশাল ৭৫৩ একর ক্যাম্পাস শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয় — এটি দেশের সবচেয়ে সবুজ ও সুন্দর ক্যাম্পাসগুলোর একটি এবং দর্শনার্থীদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য।
ক্যাম্পাস বিশাল পুরনো গাছে ঢাকা — বট, বৃষ্টি গাছ, আমবাগান ও ফুলের গাছ — যা একটি ছাউনি তৈরি করে এবং এখানে হাঁটা আনন্দদায়ক করে, বিশেষত রাজশাহীর গরম আবহাওয়ায়।
গাছের সারিবদ্ধ চওড়া রাস্তা, পরিচর্যিত লন, পুকুর ও খোলা মাঠ ক্যাম্পাসকে পার্কের মতো অনুভূতি দেয়।
আমের মৌসুমে (মে-জুন) শত শত আম গাছের কারণে ক্যাম্পাস বিশেষভাবে সুন্দর।
ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বিখ্যাত ল্যান্ডমার্ক হলো বিখ্যাত শিল্পী নিতুন কুণ্ডু নির্মিত শাবাশ বাংলাদেশ ভাস্কর্য।
এই আইকনিক ব্রোঞ্জ ভাস্কর্যে একটি যুবক ও যুবতীকে দৃঢ়তার সাথে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যা ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক।
এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ফটোগ্রাফ করা ও স্বীকৃত ভাস্কর্যগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
ক্যাম্পাসে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ১৯৭১ সালের নিদর্শন, ছবি ও দলিলপত্র সংরক্ষণ করে।
যুদ্ধে শহীদ ছাত্র ও শিক্ষকদের সম্মানে স্মৃতিফলক ও স্মৃতিস্তম্ভও রয়েছে।
বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ক্যাম্পাসের সমৃদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য রয়েছে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো জাদুঘর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রচেষ্টার সাথে সংযুক্ত ছিল।
ক্যাম্পাসে কলা, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, আইন ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদ রয়েছে এবং রাজনীতি, সাহিত্য ও বিজ্ঞানে অনেক বিখ্যাত প্রাক্তন ছাত্র তৈরি হয়েছে।
প্রবেশ বিনামূল্যে।
ক্যাম্পাস জনসাধারণের জন্য খোলা।
সাধারণ পরিদর্শনের জন্য কোনো টিকিট বা অনুমতি লাগে না।
ক্যাম্পাস সারাদিন প্রবেশযোগ্য।
একাডেমিক ভবনগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়ে (সকাল ৮:০০ থেকে বিকাল ৫:০০) খোলা থাকে।
মাঠ, রাস্তা ও বাইরের জায়গা যেকোনো সময় দেখা যায়।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নিজস্ব সময়সূচি আছে — স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।
প্রধান আকর্ষণ দেখতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা — শাবাশ বাংলাদেশ ভাস্কর্য, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ এবং গাছের সারিবদ্ধ পথ ধরে হাঁটা।
জাদুঘর দেখে পুকুরের ধারে বিশ্রাম নিলে পূর্ণ অন্বেষণে অর্ধেক দিন লাগতে পারে।
অক্টোবর থেকে মার্চ (শীতকাল) সেরা সময় — বড় ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়ানোর জন্য মনোরম আবহাওয়া।
মে-জুন আমের মৌসুম যখন ক্যাম্পাস বিশেষভাবে সুন্দর।
পরীক্ষা বা একাডেমিক ছুটির সময় এড়িয়ে চলুন যখন ক্যাম্পাস ফাঁকা থাকে।
ক্যাম্পাস রাজশাহী শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫ কিমি পূর্বে, রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে।
প্রধান গেট (কাজীহা গেট) মূল প্রবেশদ্বার।
ক্যাম্পাস অনেক বড় (৭৫৩ একর)।
বিকল্প:
এখনও কোনও রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউ লিখুন!
**পদ্মা উদ্যান সম্পর্কে** পদ্মা উদ্যান (পদ্মা গার্ডেন নামেও পরিচিত) রাজশাহী শহরের একটি সুন্দর নদীতীরবর্তী পার্ক, যা শক্তিশালী [পদ্মা নদীর](https://en.wikipedia.org/wiki/Padma_River) তীরে অবস্থিত। এটি রাজশাহীর সবচেয়ে জনপ্রিয় বিনোদন স্থানগুলোর একটি, পরিবার, দম্পতি এবং নদীর ধারে শান্তিপূর্ণ সন্ধ্যা কাটাতে চান এমন সকলের প্রিয়। **কেন এটি বিশেষ** উদ্যানটি সুরক্ষিত সবুজ লন, ফুলের বাগান, পাকা হাঁটার পথ ও সাজসজ্জার সাথে পদ্মা নদীর অসাধারণ দৃশ্যকে একত্রিত করেছে। মানুষকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে সূর্যাস্ত — প্রশস্ত পদ্মার উপর দিগন্তে সূর্য ডুবে যাওয়া দেখা রাজশাহীর অন্যতম বিশেষ অভিজ্ঞতা। নদীর পানিতে সোনালি আলোর প্রতিফলন এমন একটি দৃশ্য তৈরি করে যা দর্শনার্থীরা কখনও ভোলেন না। **পার্কের বিন্যাস** উদ্যানটি নদীর তীর ধরে একটি সুপরিকল্পিত এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এখানে পরিচর্যিত লন, শোভাবর্ধনকারী গাছপালা, রঙিন ফুলের বাগান, বেঞ্চ এবং পরিবারগুলোর বসে পরিবেশ উপভোগ করার জন্য কিছু খোলা জায়গা আছে। সজ্জিত রেলিংসহ একটি সীমানা প্রাচীর উদ্যানকে নদী বাঁধ থেকে আলাদা করেছে, যা নদীর নিরাপদ দৃশ্যবিন্দু দেয়। শিশুরা দৌড়ানো ও খেলার জন্য খোলা জায়গা উপভোগ করে। **সামাজিক কেন্দ্র** পদ্মা উদ্যান শুধু একটি পার্ক নয় — এটি রাজশাহীর মানুষের সামাজিক মিলনস্থল। সন্ধ্যায় দেখবেন ছাত্ররা বেঞ্চে পড়াশোনা করছে, বন্ধুরা কাছের স্টলের চা নিয়ে আড্ডা দিচ্ছে, পরিবারগুলো ঘাসে পিকনিক করছে এবং ফটোগ্রাফাররা নিখুঁত সূর্যাস্তের ছবি তোলার চেষ্টা করছে। উৎসব ও ছুটির দিনে উদ্যান বিশেষভাবে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। **সন্ধ্যার পরিবেশ** বিকেল ও সন্ধ্যায় উদ্যান তার সেরা রূপে থাকে। তাপমাত্রা কমে আসলে (রাজশাহী বাংলাদেশের সবচেয়ে গরম শহরগুলোর একটি) স্থানীয়রা শীতল নদীর বাতাস ও অসাধারণ সূর্যাস্তের জন্য এখানে আসেন। প্রবেশদ্বারের কাছে কিছু নাস্তা বিক্রেতা ও চায়ের স্টল থাকায় বেশি পরিকল্পনা ছাড়াই একটি আরামদায়ক সন্ধ্যা কাটানো সহজ। দীর্ঘ নদীতীরবর্তী অভিজ্ঞতার জন্য কাছের [পদ্মা বাঁধ](/tourist-places/padma-badh-riverside-embankment) এ হাঁটতে যান, অথবা শহরের একই এলাকায় ঐতিহাসিক [হযরত শাহ মখদুম দরগাহ](/tourist-places/shrine-of-hazrat-shah-makhdum) দেখুন।
**শহীদ কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় পার্ক ও চিড়িয়াখানা সম্পর্কে** শহীদ এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় পার্ক ও চিড়িয়াখানা রাজশাহী শহরের প্রধান পাবলিক পার্ক ও ছোট চিড়িয়াখানা। ১৯৭৫ সালে শহীদ হওয়া বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ [এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান](https://en.wikipedia.org/wiki/A._H._M._Qamaruzzaman)-এর নামে নামকরণ করা এই পার্কটি শহরের কেন্দ্রে একটি স্মারক ও পরিবারবান্ধব বিনোদন স্থান হিসেবে কাজ করে। **শহরে সবুজ আশ্রয়** পার্কটি একটি বড় এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং এতে ল্যান্ডস্কেপড বাগান, হাঁটার পথ, পুকুর ও খোলা সবুজ জায়গা রয়েছে। লম্বা গাছগুলো স্বাগত ছায়া দেয়, যা রাজশাহীর প্রায়ই তীব্র গরম থেকে একটি আরামদায়ক পালানোর জায়গা তৈরি করে। সুরক্ষিত লন ও ফুলের বাগান পার্কটিকে পরিপাটি ও আমন্ত্রণমূলক চেহারা দেয়। শহরে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য শিশুদের নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার এটি প্রথম পছন্দ। **চিড়িয়াখানা** চিড়িয়াখানা অংশে পশুপাখির একটি ছোট কিন্তু আকর্ষণীয় সংগ্রহ রয়েছে। এখানে বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, বানর, কুমির, ময়ূর, বিভিন্ন প্রজাতির টিয়া এবং অন্যান্য দেশীয় ও বিদেশি প্রাণী দেখতে পারবেন। ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানার মতো বড় না হলেও এটি শিশু ও পরিবারকে কাছ থেকে প্রাণী দেখার সুযোগ দেয়। প্রথমবার প্রাণী দেখা ছোট শিশুদের জন্য এটি খুবই উপযোগী। **বিনোদন সুবিধা** পার্কে একটি ছোট লেক আছে যেখানে প্যাডেল বোট পাওয়া যায়, যা পরিবারগুলোর প্রিয় কার্যকলাপ। শিশুদের জন্য কিছু রাইড ও খেলার এলাকাও আছে। পার্ক জুড়ে বিশ্রামের জন্য বেঞ্চ রাখা আছে এবং প্রধান পথের কাছে বিক্রেতারা নাস্তা, আইসক্রিম ও পানীয় বিক্রি করেন। **সামাজিক গুরুত্ব** রাজশাহী শহরের অল্প কয়েকটি বড় সবুজ জায়গার একটি হিসেবে পার্কটি সম্প্রদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি সকালের জগারদের, সন্ধ্যার পথচারীদের, সাপ্তাহিক ছুটিতে পরিবারগুলোর এবং পড়ার জন্য শান্ত জায়গা খোঁজা ছাত্রদের জনপ্রিয় স্থান। সরকারি ছুটি ও উৎসবে পার্ক বিশেষভাবে ভিড় ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শিশুসহ পরিবারগুলো প্রায়ই একটি পূর্ণ মজার দিনের জন্য এখানে আসার সাথে কাছের [শহীদ জিয়া শিশু পার্ক](/tourist-places/shahid-zia-shishu-park) ভ্রমণ মিলিয়ে নেন।
**পুঠিয়া মন্দির কমপ্লেক্স সম্পর্কে** পুঠিয়া মন্দির কমপ্লেক্স বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক [হিন্দু মন্দির](https://en.wikipedia.org/wiki/Hindu_temple_architecture) সমষ্টি। এটি রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার পূর্বে পুঠিয়া উপজেলায় একটি বড় পুকুরের পাড়ে অবস্থিত। মুঘল ও ব্রিটিশ আমলে স্থানীয় জমিদার পুঠিয়া রাজপরিবার পঞ্চদশ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যে এই মন্দিরগুলো নির্মাণ করেছিলেন। **কেন এটি বিশেষ** পুঠিয়াকে বিশেষ করে তুলেছে অল্প জায়গায় এত বেশি সুন্দর মন্দিরের সমাবেশ। মাত্র কয়েকশো মিটারের মধ্যে আপনি বিভিন্ন আকার ও আকৃতির এক ডজনেরও বেশি মন্দির দেখতে পাবেন — কিছু লম্বা ও সুচালো, আবার কিছু চওড়া ও বহু চূড়াবিশিষ্ট। মন্দিরগুলোর দেয়ালে পোড়ামাটির (টেরাকোটা) অসাধারণ কারুকাজ রয়েছে, যেখানে হিন্দু পুরাণের কাহিনী, ফুলের নকশা এবং শত শত বছর আগের দৈনন্দিন জীবনের দৃশ্য ফুটে উঠেছে। **প্রধান মন্দিরসমূহ** সবচেয়ে বিখ্যাত স্থাপনা হলো **শিব মন্দির** (পঞ্চরত্ন শিব মন্দির নামেও পরিচিত), যা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিব মন্দির। ১৮২৩ সালে নির্মিত এই পাঁচ চূড়াবিশিষ্ট মন্দিরটি অলংকৃত টেরাকোটা সজ্জায় ভূদৃশ্যের উপরে মর্যাদার সাথে দাঁড়িয়ে আছে। এর পাশেই রয়েছে **গোবিন্দ মন্দির**, যার প্রায় পুরো দেয়াল জুড়ে রামায়ণ ও মহাভারতের কাহিনী সম্বলিত টেরাকোটা টাইলস দিয়ে সাজানো। **জগন্নাথ মন্দির**, **ছোট গোবিন্দ মন্দির**, **দোল মঞ্চ** (হোলি উৎসবের জন্য ব্যবহৃত উঁচু মঞ্চ) এবং আরও কয়েকটি ছোট মন্দির মিলে এই কমপ্লেক্স সম্পূর্ণ হয়েছে। **ঐতিহাসিক গুরুত্ব** পুঠিয়া রাজপরিবার ছিল উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে প্রভাবশালী [জমিদার](https://en.wikipedia.org/wiki/Zamindari_system) পরিবারগুলোর অন্যতম। তাঁরা শিল্প ও ধর্মের উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তাঁদের সম্পদ এই চমৎকার মন্দিরগুলো নির্মাণে ব্যয় করেছিলেন। পুঠিয়া রাজবাড়ি, যা এখন একটি কলেজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, এখনও কাছেই দাঁড়িয়ে আছে এবং ঐতিহাসিক পরিবেশে মাত্রা যোগ করেছে। ১৯৪৭ সালে [দেশভাগের](https://en.wikipedia.org/wiki/Partition_of_India) পর রাজপরিবার ভারতে চলে যান, কিন্তু তাঁদের মন্দিরগুলো তাঁদের ভক্তি ও শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গির স্থায়ী স্মৃতি হিসেবে রয়ে গেছে। **আজকের পরিদর্শন** বর্তমানে এই কমপ্লেক্সটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর দ্বারা পরিচালিত এবং ইতিহাস, স্থাপত্য ও ফটোগ্রাফিতে আগ্রহী দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। বড় পুকুরের চারপাশের শান্ত পরিবেশ, যেখানে মন্দিরগুলোর প্রতিবিম্ব পানিতে ভেসে ওঠে, এটিকে সমগ্র বাংলাদেশের সবচেয়ে ফটোজেনিক স্থানগুলোর একটিতে পরিণত করেছে। রাজশাহী অঞ্চলে ভ্রমণকারী যে কারও জন্য এটি অবশ্যই দেখার মতো একটি জায়গা এবং [বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর](/tourist-places/varendra-research-museum) ও [বাঘা মসজিদ](/tourist-places/bagha-mosque) ভ্রমণের সাথে চমৎকারভাবে মিলিয়ে নেওয়া যায়।
**বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর সম্পর্কে** বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো জাদুঘর, যা ১৯১০ সালে রাজশাহী শহরের কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় জমিদার ও ইতিহাস অনুরাগী কুমার শরৎকুমার রায়, রামপ্রসাদ চন্দ এবং অন্যান্য পণ্ডিতরা [রাজশাহী কলেজ](https://en.wikipedia.org/wiki/Rajshahi_College) সম্প্রদায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করে এবং এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা। **ভিতরে যা দেখবেন** জাদুঘরে দুই হাজার বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাস জুড়ে ৯,০০০-এরও বেশি নিদর্শন রয়েছে। সংগ্রহে আছে হিন্দু ও বৌদ্ধ পাথরের ভাস্কর্য, পোড়ামাটির ফলক, বিভিন্ন রাজবংশের মুদ্রা, প্রাচীন শিলালিপি এবং পাণ্ডুলিপি। এর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের একটি হলো [পাল সাম্রাজ্য](https://en.wikipedia.org/wiki/Pala_Empire) আমলের (অষ্টম-দ্বাদশ শতাব্দী) কালো পাথরের ভাস্কর্য সংগ্রহ, যা বিশ্বের যেকোনো জায়গায় পাল শিল্পের সেরা সংগ্রহগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। **ভবনটি নিজেই একটি দর্শনীয় স্থান** জাদুঘর ভবনটি ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের একটি সুন্দর নমুনা। ইন্দো-স্যারাসেনিক শৈলীতে নির্মিত, ইউরোপীয় ও মুঘল নকশার মিশ্রণে তৈরি দোতলা ইটের এই স্থাপনায় খিলানযুক্ত জানালা, সজ্জিত স্তম্ভ এবং একটি দৃষ্টিনন্দন প্রবেশদ্বার রয়েছে। ভিতরে ঢোকার আগেই ভবনটি দেখার মতো। **গ্যালারির বিশেষ আকর্ষণ** গ্যালারিগুলো বিষয়ভিত্তিক সাজানো। নিচতলায় হিন্দু ও বৌদ্ধ ভাস্কর্য রয়েছে, যার মধ্যে বিষ্ণু, শিব, তারা এবং বুদ্ধের বিভিন্ন রূপের মূর্তি আছে। উপরতলায় ইসলামি নিদর্শন, মুদ্রা, পুরনো অস্ত্র, খোদাইকৃত তামার পাত এবং আরবি ও ফার্সি পাণ্ডুলিপির চমৎকার সংগ্রহ রয়েছে। [বাংলা সালতানাত](https://en.wikipedia.org/wiki/Bengal_Sultanate) আমলের টেরাকোটা টাইলস, মৃৎশিল্প এবং মধ্যযুগীয় বাংলার দৈনন্দিন জিনিসপত্র নিয়ে একটি আলাদা বিভাগও আছে। **কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ** উত্তরবঙ্গের গভীর ইতিহাস এবং এই অঞ্চলকে রূপ দেওয়া বৃহত্তর দক্ষিণ এশীয় সভ্যতাগুলো বুঝতে — [পাহাড়পুরের](/tourist-places/paharpur-buddhist-monastery) বৌদ্ধ মঠ থেকে হিন্দু রাজ্য এবং ইসলামি রাজবংশ পর্যন্ত — বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর হলো আদর্শ শুরুর জায়গা। এটি সহস্রাব্দ জুড়ে এই ভূমির গল্প বলা নিদর্শনগুলো একটি সংক্ষিপ্ত ও সুরক্ষিত স্থানে একত্রিত করেছে।