মাগুরা এ দূরত্ব অনুযায়ী সাজানো আবাসন দেখুন
শ্রীপুর জমিদার বাড়ি মাগুরা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে শ্রীপুর উপজেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক জমিদার ভবন।
এটি শুধু একটি স্থাপত্য রত্নই নয় - নোবেল বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত উপন্যাস "বউ ঠাকুরানীর হাট"-এর অনুপ্রেরণা হিসেবে বাংলা সাহিত্যে এর এক বিশেষ স্থান রয়েছে।
জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন শারদা রঞ্জন পাল, একজন শক্তিশালী জমিদার যিনি নবাব আলীবর্দী খানের কাছ থেকে এই জমি কিনেছিলেন।
পাল পরিবার এই অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী পরিবারগুলোর একটি হয়ে ওঠে।
শারদা রঞ্জনের কন্যা বিভা রানী পাল বিয়ে করেন যশোরের কিংবদন্তি রাজা প্রতাপাদিত্যের পুত্র উদয়াদিত্যকে - যিনি বাংলার ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের একজন।
এই বিয়ে অঞ্চলের দুটি সবচেয়ে শক্তিশালী পরিবারকে সংযুক্ত করে।
এই জমিদার বাড়িকে সত্যিই বিশেষ করে তুলেছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে এর সংযোগ।
ঠাকুর তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস "বউ ঠাকুরানীর হাট" এই জমিদার বাড়ির কাহিনী থেকেই লিখেছিলেন।
উপন্যাসের মূল চরিত্র সুরমা তৈরি হয়েছিল জমিদারের কন্যা বিভা রানী পালের অনুপ্রেরণায়।
এই সাহিত্যিক সংযোগ শ্রীপুর জমিদার বাড়িকে শুধু মাগুরার জন্য নয়, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক স্থান করে তুলেছে।
জমিদার বাড়িতে ব্রিটিশ আমলে ধনী জমিদারদের মধ্যে জনপ্রিয় বাংলা ও ঔপনিবেশিক স্থাপত্য শৈলীর মিশ্রণ দেখা যায়।
প্রধান ফটক সবচেয়ে চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি, সাথে ভবনের ভেতরে বেশ কিছু ঘর এখনও টিকে আছে।
টিকে থাকা কাঠামোতে সজ্জিত স্তম্ভ, খিলানযুক্ত দরজা ও বিস্তারিত প্লাস্টারওয়ার্ক দেখা যায়।
জমিদারদের ব্যবহৃত একটি পুরনো লোহার সিন্দুকও এখনও রয়ে গেছে।
সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাড়িটি দুর্ভাগ্যবশত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
প্রবেশ ফটক ভঙ্গুর অবস্থায়, দেয়ালে ফাটল ধরেছে এবং ছাদ থেকে প্লাস্টার খসে পড়ছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এর প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব স্বীকার করেছে এবং পর্যটন স্থান হিসেবে উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
মাগুরা জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন যে সরকার মাগুরার পর্যটন স্থানগুলো নিয়ে কাজ শুরু করেছে, এটি সহ।
জীর্ণ অবস্থা সত্ত্বেও, ভবনটি এখনও এক বিগত যুগের পরিবেশ বহন করে।
বাংলা সাহিত্য ও ইতিহাসের প্রেমীদের জন্য এটি একটি তীর্থযাত্রার যোগ্য গন্তব্য।
বিনামূল্যে প্রবেশ।
কোনো প্রবেশ মূল্য নেই।
জায়গাটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।
দিনের আলোতে খোলা (সকাল ৬:০০ - সন্ধ্যা ৬:০০)।
আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত না হওয়ায় নির্দিষ্ট খোলা-বন্ধের সময় নেই।
দিনের বেলায় যাওয়া ভালো।
১-২ ঘন্টা।
প্রধান ভবন, চত্বর ঘুরে দেখতে এবং ছবি তুলতে এটুকু সময় যথেষ্ট।
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি (শীতকাল)।
ঠান্ডা ও মনোরম আবহাওয়ায় বাড়ির খোলা চত্বরে ঘুরে দেখতে আরাম হয়।
শীতের মৃদু আলো পুরনো স্থাপত্যের ফটোগ্রাফির জন্যও চমৎকার।
মোট আনুমানিক খরচ: জনপ্রতি ১০০-৩০০ টাকা (মাগুরার বাইরে থেকে যাতায়াত বাদে)
শ্রীপুর জমিদার বাড়ি মাগুরা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে শ্রীপুর উপজেলায় অবস্থিত।
১.
বাস (সবচেয়ে প্রচলিত): মাগুরা বাস স্ট্যান্ড থেকে শ্রীপুরে নিয়মিত বাস ও মিনিবাস চলে।
সময় লাগে প্রায় ৩০-৪০ মিনিট, ভাড়া জনপ্রতি ৩০-৫০ টাকা।
২.
সিএনজি অটোরিকশা: মাগুরা থেকে সিএনজি রিজার্ভ করা যায় প্রায় ২০০-৪০০ টাকায় যাওয়া-আসা।
এক পথে প্রায় ২০-৩০ মিনিট লাগে।
৩.
মোটরসাইকেল/নিজস্ব গাড়ি: মাগুরা-শ্রীপুর সড়ক ধরে যান।
পাকা রাস্তা, সহজে চলা যায়।
শ্রীপুর বাস টার্মিনাল থেকে জমিদার বাড়ি অল্প দূরে।
রিকশা বা ইজি বাইকে ২০-৩০ টাকায় যেতে পারেন, অথবা প্রায় ১০ মিনিট হাঁটতে পারেন।
স্থানীয়দের "জমিদার বাড়ি" বললেই পথ দেখিয়ে দেবে - সবাই চেনে।
মাগুরায় বাসে আসুন (৫-৬ ঘন্টা, ৪০০-৬০০ টাকা), তারপর স্থানীয় যানবাহনে শ্রীপুর।
এখনও কোনও রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউ লিখুন!

নবগঙ্গা নদী মাগুরা জেলার প্রাণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর নদীগুলোর একটি। মাগুরা শহরের একেবারে মাঝ দিয়ে বয়ে চলা এই ২৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদী শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবন গড়ে দিয়েছে। **উৎপত্তি ও নামকরণ** [নবগঙ্গা নদী](https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%97%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BE_%E0%A6%A8%E0%A6%A6%E0%A7%80) মাথাভাঙ্গা নদীর একটি শাখা, চুয়াডাঙ্গা জেলার কাছে এর উৎপত্তি। "নবগঙ্গা" মানে "নতুন গঙ্গা" - মানুষ বিশ্বাস করত পবিত্র গঙ্গা মাথাভাঙ্গা হয়ে এই নদীতে নতুন রূপে প্রবাহিত হয়, তাই এই নাম। উৎস থেকে নদীটি পূর্ব দিকে ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে মোড় নেয় এবং নড়াইল জেলায় চিত্রা নদীতে মিলিত হয়। **সমৃদ্ধ ইতিহাসের নদী** নবগঙ্গা একসময় ব্যস্ত জলপথ ছিল। ১৯৭৫-৭৬ সাল পর্যন্ত "অস্ট্রিচ" এবং "গাজী" নামের বড় স্টিমার নিয়মিত কুষ্টিয়া থেকে খুলনা পর্যন্ত যাত্রী বহন করত, মাগুরা ও নড়াইল হয়ে। লঞ্চ ও মালবাহী নৌকা এই নদীকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্য পথ হিসেবে ব্যবহার করত। নদীটির এক নাটকীয় ইতিহাসও আছে - কয়েক শতাব্দী আগে সুন্দরবন উপকূলের মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুরা নবগঙ্গা দিয়ে উঠে এসে দুই তীরের গ্রামগুলোতে হামলা চালাত। **আজকের নদী** মাগুরা শহরের কাছে নবগঙ্গা প্রায় ২০০ মিটার চওড়া, যদিও দখলের কারণে কোথাও কোথাও সরু হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে (জুন-সেপ্টেম্বর) নদী পানিতে ভরে ওঠে এবং পুরোপুরি নাব্য হয়ে যায়, সমতল ভূমির মধ্য দিয়ে বিস্তৃত হয়ে সুন্দর দৃশ্য তৈরি করে। শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর কমে যায়, বালুচর বেরিয়ে আসে যেখানে নানা ধরনের পাখি আসে। মাগুরা শহরে নদীর পাড়ে পার্ক ও সেতু আছে, যেখানে স্থানীয় মানুষ সন্ধ্যায় সময় কাটাতে আসে। **কেন যাবেন** নবগঙ্গা ব্যস্ত শহর থেকে একটু শান্তির সময় দেয়। শান্ত নৌকা ভ্রমণ, নদীর পাড় থেকে সূর্যাস্ত দেখা, বা শুধু পানির পাশে তাজা বাতাস উপভোগ করতে আসুন - নদী একটি প্রশান্তিদায়ক অভিজ্ঞতা দেয়। চারপাশের সবুজ মাঠ ও গ্রামীণ পরিবেশ এর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়। শীতকালে বালুচরে নানা পরিযায়ী পাখি দেখা যায়।

**পরিচিতি** সিরিজদিয়া বাওড় মাগুরা সদর উপজেলার চৌলিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত একটি সুন্দর ইংরেজি ইউ-আকৃতির বাওড় (মরা নদীর হ্রদ)। এই প্রাকৃতিক জলাশয়ের পানির আয়তন প্রায় ৯২ একর, যা মাগুরা অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বাওড়গুলোর একটি। শান্ত জল, সবুজ পরিবেশ এবং খোলা আকাশের নিচে সিরিজদিয়া বাওড় দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা থেকে একটু বিশ্রামের জায়গা। **বাওড় যেভাবে তৈরি হয়েছে** বাংলাদেশের সব বাওড়ের মতো সিরিজদিয়া বাওড়ও একটি [অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ](https://en.wikipedia.org/wiki/Oxbow_lake) হিসেবে শত শত বছর ধরে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়েছে। পাশের [নবগঙ্গা নদী](/bn/tourist-places/nabaganga-river) যখন তার গতিপথ বদলায়, তখন পেছনে এই বাঁকানো ইউ-আকৃতির জলাশয় রেখে যায়। সময়ের সাথে সাথে এই হ্রদে নিজস্ব বাস্তুতন্ত্র গড়ে উঠেছে, যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, জলজ উদ্ভিদ এবং পাখি বেঁচে থাকার জন্য নির্ভর করে। **সিরিজদিয়া ইকো পার্ক** ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে বাওড়ের চারপাশে ১০৫ একর সরকারি জমিতে (৯২ একর জলাশয় ও ১৩ একর স্থলভাগ) একটি ইকো-পার্ক প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর এটি উদ্বোধন করেন। প্রাথমিক ৩৫ লাখ টাকা বাজেট এসেছিল সংসদ সদস্যের সরকারি উন্নয়ন তহবিল থেকে, সাথে জেলা ও উপজেলা পরিষদের অতিরিক্ত সহায়তা। **কী এটিকে বিশেষ করে তুলেছে** ইকো-পার্ক প্রকল্পের লক্ষ্য সিরিজদিয়া বাওড়কে একটি প্রধান পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করা। পরিকল্পনায় আছে তীরে বৃক্ষরোপণ, বিদ্যুৎ সংযোগ, কটেজ নির্মাণ, নৌকা চালানোর সুবিধা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তীর বরাবর বিস্তৃত ফসলের মাঠ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে, বিশেষ করে ধান চাষের মৌসুমে। **দর্শনার্থী তথ্য** - প্রবেশ মূল্য: বিনামূল্যে (বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রবেশ মূল্য নেই) - খোলার সময়: খোলা এলাকা, দিনের আলোতে যাওয়া যায় - ভ্রমণের সেরা সময়: নভেম্বর থেকে মার্চ (শীতল, শুষ্ক আবহাওয়া ও পরিষ্কার আকাশ) - প্রয়োজনীয় সময়: ২ থেকে ৩ ঘণ্টা - আনুমানিক খরচ: ২০০-৫০০ টাকা (মাগুরা শহর থেকে যাতায়াত)

রাজা সীতারাম রায়ের রাজবাড়ি মাগুরা জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থানগুলোর একটি এবং বাংলার সমৃদ্ধ অতীতের এক জীবন্ত সাক্ষী। মাগুরা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মহম্মদপুর উপজেলায় মধুমতী নদীর তীরে এই ৩০০ বছরের পুরনো প্রাসাদ কমপ্লেক্সটি অবস্থিত। বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ২০১০ সালের ১৫ এপ্রিল এটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে। **রাজা সীতারাম রায়ের কাহিনী** [রাজা সীতারাম রায়](https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE_%E0%A6%B8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE_%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC) (১৬৫৮-১৭১৪) মুঘল আমলে মুর্শিদাবাদের নবাবের অধীনে একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করেন। তাঁর বুদ্ধিমত্তা আর রাজনৈতিক দক্ষতায় তিনি একজন সাধারণ আমলা থেকে শক্তিশালী জমিদার হয়ে ওঠেন এবং ১৬৮৮ সালে "রাজা" উপাধি লাভ করেন। তাঁর জমিদারি উত্তরে পাবনা থেকে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত এবং পূর্বে বরিশাল থেকে পশ্চিমে নদীয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। মুঘলদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আগে তিনি এই অঞ্চলের শেষ স্বাধীন হিন্দু শাসকদের একজন ছিলেন। **দুর্গ-রাজধানী** ১৬৯৭-৯৮ সালের দিকে সীতারাম মহম্মদপুরে তাঁর রাজধানী গড়ে তোলেন। জায়গাটি তিনি খুব চিন্তা করে বেছে নিয়েছিলেন - তিন দিকে বিশাল বিল আর পূর্ব দিকে মধুমতী নদী দিয়ে এলাকাটি প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষিত ছিল। তিনি মাটির ইট দিয়ে একটি বিশাল চতুর্ভুজ দুর্গ নির্মাণ করেন যার প্রতিটি বাহু প্রায় ১,৩০০ ফুট (প্রায় ৪০০ মিটার) লম্বা ছিল। দুর্গের চারপাশে প্রায় ২০০ ফুট চওড়া এবং এক মাইল লম্বা পরিখা ছিল, যা শত্রুদের আক্রমণ করা কঠিন করে তুলত। **আজ যা দেখতে পাবেন** শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে প্রাসাদের অনেক কিছু ধ্বংস হয়ে গেলেও বেশ কিছু স্থাপনা এখনও টিকে আছে: - **কাচারিবাড়ি (দরবার ভবন)** - যেখানে রাজা দরবার বসাতেন, এখনও তুলনামূলক ভালো অবস্থায় আছে - **দোলমঞ্চ (দোল উৎসবের মঞ্চ)** - তিন স্তরের একটি অনুষ্ঠান মঞ্চ, ভালোভাবে সংরক্ষিত স্থাপনাগুলোর একটি - **তোষাখানা (রাজকোষ)** - রাজকীয় ধনভান্ডার, এখন খুব খারাপ অবস্থায় - **দশভুজা মন্দির** - ১৬৯৯ সালে নির্মিত, রাজার প্রাথমিক শক্তি পূজার নিদর্শন - **লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দির** - ১৭০৪ সালে নির্মিত, তাঁর পরবর্তী বৈষ্ণব ধর্মে আসার প্রমাণ - **সিংহদরজা (সিংহ ফটক)** - হাতির শুঁড়ের কারুকাজ খচিত প্রধান প্রবেশদ্বার - **রামসাগর** - ২,৪০০ বাই ৯০০ ফুট আকারের বিশাল আয়তাকার দীঘি, প্রায় ২০ ফুট গভীর - **কৃষ্ণসাগর** - ১,০০০ বাই ৩৫০ ফুট আকারের আরেকটি বড় দীঘি, বন্যা প্রতিরোধের জন্য তৈরি - **সুখসাগর** - একটি চতুর্ভুজ দীঘি যার মাঝখানে তিন তলা বিশ্রামের প্রাসাদ ছিল **একটি রাজ্যের পতন** রাজা সীতারাম শেষ পর্যন্ত মুঘল নবাবকে কর দেওয়া বন্ধ করে দেন এবং নিজেকে স্বাধীন শাসক ঘোষণা করেন। মুঘলরা এটা মেনে নেয়নি। ১৭১৪ সালে নবাব মুর্শিদ কুলি খান তাঁর বিরুদ্ধে সেনা পাঠান। রাজা পরাজিত, বন্দী এবং নিহত হন, তাঁর স্বল্পস্থায়ী রাজ্যের সমাপ্তি ঘটে। প্রাসাদটি পরিত্যক্ত হয়ে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়। সময় আর অযত্নের ক্ষতি সত্ত্বেও, ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে হেঁটে গেলে এই জায়গাটি একসময় কতটা জমকালো ছিল তা অনুভব করা যায়। বাংলার ইতিহাসে আগ্রহী যে কারো জন্য দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের এটি একটি অবশ্য দেখার জায়গা।

**পরিচিতি** আরপাড়া ইকো পার্ক মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার আরপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত একটি প্রকৃতি-কেন্দ্রিক বিনোদনমূলক পার্ক। এটি মাগুরার একমাত্র উৎসর্গীকৃত ইকো পার্ক, যা দর্শনার্থীদের গাছের সারিযুক্ত পথ, একটি সুন্দর খাল এবং পরিবারবান্ধব বহিরঙ্গন কর্মকাণ্ডসহ একটি সবুজ বিশ্রামের জায়গা দেয়। পার্কটি বিনোদন ও বিশ্রামের একটি মনোরম পরিবেশ দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতা প্রচার করে। **পার্কে কী আছে** পার্কের দক্ষিণ পাশ দিয়ে প্রায় ২ কিলোমিটার লম্বা একটি সুন্দর খাল বয়ে গেছে, যার দুই পাশে [কৃষ্ণচূড়া](https://en.wikipedia.org/wiki/Delonix_regia) ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো আছে। গ্রীষ্মে যখন কৃষ্ণচূড়া গাছে উজ্জ্বল লাল ও কমলা ফুল ফোটে, তখন দৃশ্যটি সত্যিই অসাধারণ হয়ে ওঠে। পুরো পার্ক জুড়ে সবুজের সমারোহ একটি সতেজ পরিবেশ তৈরি করে, বিশেষ করে গরমের সময়। **পরিবার ও শিশুদের জন্য** শিশুরা এখানকার খেলার জায়গা পছন্দ করবে, যেখানে আছে দোলনা, স্লাইড এবং মাটির তৈরি বিভিন্ন প্রাণীর আকর্ষণীয় ভাস্কর্য - বাঘ, হরিণ, জেব্রা, বক, উট ও পাখিসহ। এই সমানুপাতিক প্রাণীর মূর্তিগুলো দারুণ ছবি তোলার সুযোগ দেয় এবং শিশুদের আনন্দে রাখে যখন বাবা-মা প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করেন। **পরিবেশগত উদ্দেশ্য** আরপাড়া ইকো পার্ক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়েছে। শালিখা উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে এখানে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠান করা হয়। পার্কটি মানুষ ও প্রকৃতি উভয়ের জন্য কীভাবে সবুজ জায়গা তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা যায় তার একটি জীবন্ত উদাহরণ। **দর্শনার্থী তথ্য** - প্রবেশ মূল্য: সামান্য স্থানীয় প্রবেশ মূল্য (গেটে জেনে নিন) - খোলার সময়: প্রতিদিন দিনের আলোতে খোলা - ভ্রমণের সেরা সময়: নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি (মনোরম আবহাওয়া); কৃষ্ণচূড়া ফোটার মৌসুমেও (এপ্রিল থেকে জুন) সুন্দর - প্রয়োজনীয় সময়: ২ থেকে ৩ ঘণ্টা - আনুমানিক খরচ: ৩০০-৬০০ টাকা (মাগুরা শহর থেকে যাতায়াতসহ)