চট্টগ্রাম এ দূরত্ব অনুযায়ী সাজানো আবাসন দেখুন
জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পুরনো চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থিত, যা ১৯১৩ সালে একটি ছোট পাহাড়ের উপর নির্মিত একটি সুন্দর ঔপনিবেশিক ভবন।
এই ভবন বাংলাদেশের ইতিহাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী।
আজ এটি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদিত একটি জাদুঘর হিসেবে কাজ করছে, যিনি ১৯৮১ সালে এখানে দুঃখজনকভাবে নিহত হয়েছিলেন।
ব্রিটিশরা ১৯১৩ সালে এই সার্কিট হাউসটি সরকারি কর্মকর্তাদের বাসস্থান হিসেবে নির্মাণ করে।
১৯৫৪ সালে রেডিও পাকিস্তান এই ভবন থেকে সম্প্রচার শুরু করে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এটিকে তাদের সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে এবং দুঃখজনকভাবে কিছু কক্ষকে নির্যাতন কক্ষে পরিণত করে।
১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর মুক্তির পর, এখানেই চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
১৯৮১ সালের ৩০ মে, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সফরের সময় এই সার্কিট হাউসের ৪ নং কক্ষে ছিলেন।
সেই রাতে তিনি একটি সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন।
এর কিছুদিন পরেই সরকার এই ঐতিহাসিক ভবনটিকে স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।
১৯৯৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের জন্য খোলা হয়।
জাদুঘরটি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের একটি শাখা এবং ১৭টি গ্যালারিতে ১,০০০টিরও বেশি নিদর্শন রয়েছে।
এটি জিয়াউর রহমানের জীবনের সম্পূর্ণ গল্প বলে - মুক্তিযুদ্ধের আগের সময় থেকে, যুদ্ধে তাঁর ভূমিকা, তাঁর রাষ্ট্রপতিত্ব এবং তাঁর দুঃখজনক মৃত্যু পর্যন্ত।
জাদুঘর যে প্রকৃত কক্ষে তিনি নিহত হয়েছিলেন তা সংরক্ষণ করেছে, দেওয়ালে গুলির চিহ্ন সহ।
এখানকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলোর একটি হলো কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের আসল মাইক্রোফোন এবং ট্রান্সমিটার।
এটিই সেই যন্ত্র যা দিয়ে জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা সম্প্রচার করেছিলেন।
ইতিহাস-উৎসাহীরা নৌ ইতিহাসের জন্য কাছের বাংলাদেশ মেরিটাইম মিউজিয়াম বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য এথনোলজিক্যাল মিউজিয়াম ঘুরে দেখতে পারেন।
জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে সকল দর্শনার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী প্রবেশ মূল্য রয়েছে:
জাদুঘরের বিভিন্ন দিনে বিভিন্ন খোলার সময় রয়েছে:
পবিত্র রমজান মাসে জাদুঘর কম সময়ে পরিচালিত হয়:
সময় কম থাকলে ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টার একটি দ্রুত ভ্রমণে আপনি প্রধান আকর্ষণগুলো দেখতে পাবেন।
আপনি মূল গ্যালারিগুলো ঘুরতে, বিখ্যাত কালুরঘাট ট্রান্সমিটার দেখতে এবং গ্যালারি ১৬ (হত্যাকাণ্ডের কক্ষ) পরিদর্শন করতে পারবেন।
এটি মৌলিক বোঝাপড়ার জন্য যথেষ্ট কিন্তু আপনি অনেক বিস্তারিত মিস করবেন।
২ থেকে ২.৫ ঘণ্টার সাধারণ ভ্রমণ বেশিরভাগ দর্শনার্থীদের জন্য আদর্শ।
এতে আপনি সব ১৭টি গ্যালারি সঠিকভাবে অন্বেষণ করতে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফলক পড়তে, ছবি তুলতে এবং তাৎপর্যপূর্ণ স্থানে চিন্তা করতে সময় কাটাতে পারবেন।
আপনি তাড়াহুড়ো অনুভব না করেই নিদর্শনগুলো উপভোগ করতে পারবেন।
ইতিহাসের শিক্ষার্থী, গবেষক বা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সত্যিকারের আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পরিকল্পনা করুন।
এতে আপনি প্রতিটি ফলক পড়তে, সব ফটোগ্রাফ ও দলিল অধ্যয়ন করতে, বিস্তারিত নোট নিতে এবং অতিরিক্ত গবেষণার জন্য লাইব্রেরি ব্যবহার করতে পারবেন।
আপনি প্রতিটি গ্যালারির ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পূর্ণরূপে অনুধাবন করতে পারবেন।
জিয়া স্মৃতি জাদুঘর চট্টগ্রাম শহরের কোতোয়ালি এলাকায় শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ সড়কে অবস্থিত।
ভবনটি একটি ছোট পাহাড়ের চূড়ায় বসে আছে, যা সহজেই চোখে পড়ে।
ঠিকানা হলো 8RXF+7HR, শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ সড়ক, চট্টগ্রাম।
জিয়া স্মৃতি জাদুঘর দেখার পর চট্টগ্রামের অন্যান্য ঐতিহাসিক আকর্ষণ ঘুরুন:
জিয়া স্মৃতি জাদুঘর ভ্রমণের সেরা সময় হলো নভেম্বর থেকে মার্চ যখন আবহাওয়া শীতল ও আরামদায়ক।
যেহেতু জাদুঘর ইনডোর এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, আপনি বছরের যেকোনো সময় যেতে পারেন, তবে শীতকালে সেখানে যাওয়ার যাত্রা বেশি আনন্দদায়ক।
জাদুঘর ভ্রমণ খুবই সাশ্রয়ী।
এখানে আপনি যা দেবেন:
চট্টগ্রাম শহর থেকে বাজেট-সচেতন একক দর্শনার্থীর জন্য:
আরামদায়ক একক ভ্রমণের জন্য:
৪ জনের পরিবারের জন্য (২ প্রাপ্তবয়স্ক, ২ শিশু):
**গল্পে ভরা একটি নদী** [কর্ণফুলী নদী](https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A3%E0%A6%AB%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%80_%E0%A6%A8%E0%A6%A6%E0%A7%80) চট্টগ্রামের প্রাণ। এই ২৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদী ভারতের মিজোরাম পাহাড় থেকে যাত্রা শুরু করে পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে। নদীটি প্রায় ৬৬৭ মিটার চওড়া এবং হাজার বছর ধরে চট্টগ্রামের জীবনরেখা হিসেবে কাজ করে আসছে। **নামের পেছনের কিংবদন্তি** "কর্ণফুলী" নামটি এসেছে একটি সুন্দর প্রেমকাহিনী থেকে। অনেক দিন আগে এক আরাকানি রাজকন্যা এক রাজপুত্রের সাথে চাঁদনি রাতে নৌকায় ঘুরতে বের হয়েছিলেন। তিনি একটি সুন্দর ফুল দেখে সেটি কানে গুঁজে দিলেন। ফুলটি পানিতে পড়ে গেলে ভগ্নহৃদয় রাজকন্যা সেটি উদ্ধার করতে ঝাঁপ দিলেন। রাজপুত্র তাঁকে বাঁচাতে চেষ্টা করলেন কিন্তু দুজনেই স্রোতে ভেসে গেলেন। "কর্ণফুল" মানে কানের ফুল - এই করুণ প্রেমকাহিনীর স্মৃতি বহন করে এই নাম। **কেন নদী ক্রুজ করবেন?** কর্ণফুলীতে ক্রুজ করলে চট্টগ্রামের অনন্য দৃশ্য দেখতে পাবেন: - বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাহাজ নিয়ে ব্যস্ত চট্টগ্রাম বন্দর - মাছ ধরার নৌকা আর বিশাল তেলবাহী জাহাজ একসাথে চলাচল - সাম্পান নামের ঐতিহ্যবাহী কাঠের নৌকা - তীরে জেলেদের জাল মেরামতের দৃশ্য - শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিমান অবতরণ - মোহনায় সুন্দর সূর্যাস্ত **চট্টগ্রাম বোট ক্লাব** প্রধান ক্রুজ কেন্দ্র হলো পতেঙ্গায় চট্টগ্রাম বোট ক্লাব। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত এই ২.১ একরের ক্লাবটি ঠিক সেখানে যেখানে নদী সাগরের সাথে মিশেছে। তাদের বিলাসবহুল "ওয়েস্টার্ন ক্রুজ" জাহাজটি ২০০ যাত্রী বহন করতে পারে এবং কর্ণফুলী উপভোগের সেরা উপায়। **ঐতিহাসিক গুরুত্ব** কর্ণফুলী সবসময় চট্টগ্রামের বাণিজ্য ও পরিবহনের কেন্দ্রে ছিল। আধুনিক সড়কের আগে মানুষ পণ্য পরিবহন ও ভ্রমণের জন্য নৌকার উপর নির্ভর করত। নদীর উপর প্রথম রেলসেতু ১৯৩১ সালে নির্মিত হয়, যা পরে ১৯৬২ সালে সড়কসেতুতে রূপান্তরিত হয়। আজও নদীটি চট্টগ্রামকে সাগরের সাথে যুক্ত রেখেছে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সূর্যাস্তের জন্য কাছের [পতেঙ্গা সৈকত](/tourist-places/patenga-beach) এ আপনার ক্রুজ যাত্রা একত্রিত করুন, অথবা [বাংলাদেশ মেরিটাইম মিউজিয়াম](/tourist-places/bangladesh-maritime-museum) এ সামুদ্রিক ঐতিহ্য জানুন।
**বাংলাদেশের আদিবাসী ঐতিহ্যের এক অনন্য জানালা** চট্টগ্রামের নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর বাংলাদেশের বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিবেদিত দেশের একমাত্র জাদুঘর। এটি সমগ্র এশিয়ার মাত্র দুটি নৃতাত্ত্বিক জাদুঘরের একটি - অন্যটি জাপানে অবস্থিত। এটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার জন্য সত্যিই একটি বিশেষ স্থান। **ইতিহাস ও পটভূমি** জাদুঘরটি ১৯৬৫ সালে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় ১.২৫ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৪ সালের ৯ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ইউসুফ আলী এটি উদ্বোধন করেন এবং জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর জন্য এই জাদুঘর তৈরি করা হয়েছিল। **ভেতরে কী দেখবেন** জাদুঘরে একতলা ভবনে ১১টি গ্যালারি রয়েছে। এই গ্যালারিগুলোতে ২৯টি বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবন, রীতিনীতি ও ঐতিহ্য প্রদর্শিত হয়। আপনি [পার্বত্য চট্টগ্রাম](https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF_%E0%A6%9A%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE) থেকে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো এবং সাঁওতালসহ ২৫টি বাংলাদেশি সম্প্রদায় সম্পর্কে প্রদর্শনী দেখতে পাবেন। এছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, কিরগিজস্তান, অস্ট্রেলিয়া এবং জার্মানির আদিবাসী গোষ্ঠী সম্পর্কে প্রদর্শনী রয়েছে। **অনন্য প্রদর্শনী** জাদুঘরের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক জিনিসগুলোর মধ্যে একটি হলো জার্মানির বার্লিন দেওয়ালের একটি প্রকৃত টুকরো, যা ১৯৮৯ সালে ভেঙে ফেলা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় হলে একটি বড় মানচিত্র রয়েছে যেখানে বাংলাদেশ জুড়ে সব নৃগোষ্ঠী কোথায় বাস করে তা দেখানো হয়েছে। এর কাছেই একটি সাধারণ চাকমা বাড়ির মডেল দেখতে পাবেন যা ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী জীবনের ধারণা দেয়। **প্রদর্শনী কীভাবে সাজানো** প্রতিটি গ্যালারি বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং তাদের জীবনের বিভিন্ন দিকের উপর ফোকাস করে। আপনি ঐতিহ্যবাহী পোশাক, গহনা, অস্ত্র, কৃষি সরঞ্জাম, বাদ্যযন্ত্র, নৌকা এবং গৃহস্থালি সামগ্রী দেখতে পাবেন। প্রদর্শনীগুলোতে মডেল, ফটোগ্রাফ, দেওয়াল চিত্র এবং পুনর্নির্মিত পরিবেশ ব্যবহার করে আদিবাসী জীবনকে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে। ছোট ফলকে প্রতিটি প্রদর্শনী সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা আছে। জাদুঘর পছন্দ করলে নৌ ঐতিহ্য জানতে [বাংলাদেশ মেরিটাইম মিউজিয়াম](/tourist-places/bangladesh-maritime-museum) এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের জন্য [জিয়া স্মৃতি জাদুঘর](/tourist-places/zia-memorial-museum) দেখুন।
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত, যা চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। কর্ণফুলী নদী যেখানে [বঙ্গোপসাগরে](https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%AA%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0) মিশেছে সেখানেই এই সৈকত, যা একই জায়গায় নদী ও সমুদ্রের দৃশ্য উপভোগের অনন্য সুযোগ দেয়। **পতেঙ্গাকে বিশেষ করে তুলেছে যা** কক্সবাজারের দীর্ঘ বালুকাবেলার থেকে আলাদা, পতেঙ্গার নিজস্ব একটা মোহনীয়তা আছে। সৈকতটি সূর্যাস্তের অসাধারণ দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত। সূর্য যখন ডোবে, আপনি দেখতে পাবেন চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করা কার্গো জাহাজগুলো পানির উপর ঝলমলে শহরের মতো জ্বলে উঠছে। বিভিন্ন দেশের জাহাজ, প্রত্যেকটি নিজস্ব পতাকা উড়িয়ে, কমলা আকাশের বিপরীতে এক মনোরম দৃশ্য তৈরি করে। সৈকতে পাথরের বাঁধ আছে যেখানে হাঁটার পথ ও বসার জায়গা রয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রঙিন বাতির খুঁটি বসিয়েছে যা রাতে জ্বলে ওঠে, সন্ধ্যার ভ্রমণকে মায়াবী করে তোলে। **চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার** পতেঙ্গা শুধু একটি সৈকত নয়। এটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে, তাই প্রায়ই বিমান ওঠানামা দেখতে পাবেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনী একাডেমি ও নৌ-ঘাঁটি কাছেই, যা এলাকার গুরুত্ব বাড়িয়েছে। বিখ্যাত কর্ণফুলী টানেল, বাংলাদেশের প্রথম পানির নিচের সুড়ঙ্গ, এখান থেকে কাছেই নদীর দুই পাড় সংযুক্ত করেছে। আপনি কাছের জেটি থেকে ছেড়ে যাওয়া মনোরম [কর্ণফুলী রিভার ক্রুজ](/bn/tourist-places/karnaphuli-river-cruise-area)-ও উপভোগ করতে পারেন। **স্থানীয় স্বাদ** পতেঙ্গার বার্মিজ মার্কেট অবশ্যই ঘুরে দেখবেন। এখানে শুঁটকি মাছ, সামুদ্রিক খাবার, ও অনন্য সামুদ্রিক হস্তশিল্প পাবেন। রাস্তার খাবার বিক্রেতারা সুস্বাদু ভাজা কাঁকড়া, স্থানীয় নাস্তা, ও তাজা সামুদ্রিক খাবার সাশ্রয়ী দামে বিক্রি করে। ভাজা মাছ ও মশলার গন্ধ বাতাসে ভেসে বেড়ায়, যা উপকূলীয় চট্টগ্রামের আসল স্বাদ দেয়। চট্টগ্রামবাসীদের কাছে পতেঙ্গা শহুরে জীবন থেকে প্রিয় পালানোর জায়গা। পরিবারগুলো সন্ধ্যায় হাঁটতে আসে, বন্ধুরা সূর্যাস্ত দেখতে জড়ো হয়, আর দম্পতিরা পানির ধারে রোমান্টিক মুহূর্ত কাটায়। ছুটির দিন ও সপ্তাহান্তে সৈকত পিকনিকে আসা মানুষ, ঘোড়সওয়ার, ও স্পিডবোট প্রেমীদের জমজমাটে ভরে ওঠে। যারা সামুদ্রিক ইতিহাসে আগ্রহী, তাদের জন্য [বাংলাদেশ মেরিটাইম মিউজিয়াম](/bn/tourist-places/bangladesh-maritime-museum) কাছেই অবস্থিত যা দেশের সমৃদ্ধ নৌ ঐতিহ্য প্রদর্শন করে।
**বাংলাদেশের প্রথম ইকো পার্ক** সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক একটি বিশেষ স্থান - এটি বাংলাদেশে নির্মিত প্রথম ইকো পার্ক। ২০০১ সালের ১৭ জানুয়ারি উদ্বোধিত এই বিশাল ৮০৮ হেক্টর পার্কটি চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত, চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে। এটি বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকো পার্কের সমন্বয়ে গঠিত, যা আপনাকে দুইটির সেরা অভিজ্ঞতা দেয়। **একটি কাব্যিক ইতিহাস** এই সুন্দর এলাকা বাংলাদেশের অন্যতম বিখ্যাত কবিতাকে অনুপ্রাণিত করেছে। কিংবদন্তি কবি [কাজী নজরুল ইসলাম](https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%80_%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%B2_%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE) সীতাকুণ্ড ভ্রমণ করে পাহাড়, সমুদ্র ও ঝর্ণার মিলন দেখে রচনা করেছিলেন অমর গান "আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ওই"। এই স্মৃতি ধরে রাখতে পার্কে নজরুলের একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। **দুটি অপূর্ব ঝর্ণা** পার্কে দুটি সুন্দর ঝর্ণা রয়েছে: - **সুপ্তধারা** (ঘুমন্ত ঝর্ণা): পাহাড়ে লুকানো একটি শান্ত ঝর্ণা, প্রায় ৫০০ সিঁড়ি বেয়ে পৌঁছাতে হয় - **সহস্রধারা** (হাজার ধারা): একটি উঁচু ঝর্ণা যার পাদদেশে সুন্দর লেক আছে যেখানে নৌকা চড়া যায় বর্ষা মৌসুমে পূর্ণ শক্তিতে জল প্রবাহিত হলে দুটি ঝর্ণাই জীবন্ত হয়ে ওঠে। **একটি উদ্ভিদ সম্পদ** ১,০০০ একরের বোটানিক্যাল গার্ডেন অংশে রয়েছে: - অর্কিড হাউসে ৫০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি অর্কিড - অর্জুন, চাপালিশ, জারুলের মতো বিরল ঔষধি গাছ - হাজার হাজার রঙিন ফুলের গাছ - ঝর্ণার জলধারা বাঁধ দিয়ে তৈরি কৃত্রিম লেক **অ্যাডভেঞ্চারের প্রবেশদ্বার** সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক পাহাড়চূড়ায় [চন্দ্রনাথ মন্দিরে](/bn/tourist-places/chandranath-temple) ট্রেকিংয়ের শুরুর বিন্দু - বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু তীর্থস্থান। এই এলাকায় পাহাড়, সমুদ্র ও ঝর্ণার সমন্বয় - একটি বিরল প্রাকৃতিক সংমিশ্রণ যা প্রতি বছর ৩ লক্ষেরও বেশি পর্যটককে আকর্ষণ করে। এখানে অ্যাডভেঞ্চারের পর [ফয়েজ লেকে](/bn/tourist-places/foys-lake) বিশ্রাম নিতে পারেন অথবা কাছের [ভাটিয়ারি গল্ফ অ্যান্ড কান্ট্রি ক্লাবে](/bn/tourist-places/bhatiary-golf-country-club) গল্ফ খেলতে পারেন।
এখনও কোনও রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউ লিখুন!