মাধবপুর লেক মৌলভীবাজারের সবচেয়ে সুন্দর গোপন স্থানগুলোর একটি।
এই প্রাকৃতিক হ্রদটি মাধবপুর চা বাগানের ভেতরে নীরবে অবস্থান করছে, চারপাশে ছোট পাহাড় এবং চা গাছের অসীম সারি।
স্বচ্ছ পানি, সুন্দর শাপলা ফুলে ঢাকা, একটি স্বপ্নের মতো দৃশ্য তৈরি করে।
মাধবপুর লেককে সত্যিই বিশেষ করে তোলে এর বন্যপ্রাণী।
এটি বাংলাদেশের একমাত্র নিশ্চিত স্থান যেখানে আপনি বিরল সাদা-পেট বক দেখতে পাবেন।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাখি প্রেমীরা এই অসাধারণ পাখিটি দেখার আশায় এখানে আসেন।
শীতকালে অনেক পরিযায়ী পাখিও এই হ্রদকে তাদের অস্থায়ী আবাস বানায়।
কামালগঞ্জ উপজেলায় শ্রীমঙ্গল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মাধবপুর লেক ব্যস্ত জীবন থেকে শান্তিপূর্ণ পালানোর সুযোগ দেয়।
হ্রদের চারপাশের পাত্রখোলা চা বাগান এর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়।
পরিষ্কার দিনে, আপনি হ্রদের উঁচু জায়গা থেকে ভারতীয় সীমান্তের দূরের পাহাড়ও দেখতে পারেন।
প্রতিটি মৌসুমে হ্রদ আলাদাভাবে সাজে।
বর্ষায় পানির স্তর বাড়ে এবং চারপাশের সবুজ আরও ঘন হয়ে ওঠে।
শীতে শান্ত পানি নীল আকাশকে নিখুঁতভাবে প্রতিফলিত করে এবং আরামদায়ক আবহাওয়া ঘোরাঘুরি উপভোগ্য করে তোলে।
যখনই আসুন না কেন, মাধবপুর লেকের শান্ত পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে সতেজ করে তুলবে।
বাজেট ট্রিপ: প্রতি জন ৫০০-৭০০ টাকা
স্ট্যান্ডার্ড ট্রিপ: প্রতি জন ৮০০-১,২০০ টাকা
শ্রীমঙ্গল থেকে দিনব্যাপী ট্রিপ: প্রতি জন ১,৫০০-২,৫০০ টাকা
নোট: খরচ আনুমানিক এবং মৌসুম অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।
সাপ্তাহিক ছুটি ও ছুটির দিনে দাম বেশি হতে পারে।
এখনও কোনও রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউ লিখুন!
**একটি জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য** মণিপুরি পাড়া (মনিপুরি পল্লীও বলা হয়) [শ্রীমঙ্গলের](/bn/tourist-places/sreemangal) একটি অনন্য সাংস্কৃতিক গ্রাম যেখানে মণিপুরি সম্প্রদায় ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে আসছে। এই গ্রামগুলো বাংলাদেশের সবচেয়ে রঙিন ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ সম্প্রদায়গুলোর একটিতে বিরল ঝলক দেয়। **মণিপুরিরা কারা?** মণিপুরি মানুষরা উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে আসা সৈন্য ও শরণার্থীদের বংশধর বলে মনে করা হয়। তারা ১৮শ শতাব্দীতে এই অঞ্চলে বসতি স্থাপন শুরু করে, বিশেষত মণিপুর-বার্মা যুদ্ধের (১৮১৯-১৮২৫) পরে। শতাব্দী ধরে স্বদেশ থেকে দূরে থাকা সত্ত্বেও তারা তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম ও ঐতিহ্য অসাধারণভাবে অক্ষুণ্ণ রেখেছে। **প্রধান মণিপুরি গ্রাম** - কালাপুর - শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় ১০ কিমি - আদমপুর - প্রধান বসতিগুলোর একটি - মাধবপুর - বিখ্যাত লেকের কাছে - ভানুবিল - কমিউনিটি ট্যুরিজম অভিজ্ঞতা দেয় **কী তাদের বিশেষ করে তোলে** - রাসলীলা ও লাই হারাওবার মতো প্রাচীন নৃত্য - সুন্দর হাতে বোনা বস্ত্র ঐতিহ্য - অনন্য ঐতিহ্যবাহী পোশাক - রঙিন ফানেক ও ইনাফি - নিজস্ব ভাষা - মৈতৈলোন (মণিপুরি) - নভেম্বরের বিখ্যাত রাস মেলা সহ সমৃদ্ধ উৎসব **বুনন ঐতিহ্য** প্রায় প্রতিটি মণিপুরি পরিবারের নিজস্ব তাঁত আছে। মহিলারা দক্ষ বুনকার, শাড়ি, শাল, ব্যাগ ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক সহ সুন্দর বস্ত্র তৈরি করেন। তাদের কাপড় অনন্য নকশা ও চমৎকার মানের জন্য পরিচিত এবং বাংলাদেশ ও বিদেশে চাহিদা রয়েছে। মণিপুরি গ্রামগুলো শুধু পর্যটন স্পট নয় - এগুলো জীবন্ত উদাহরণ কীভাবে একটি সম্প্রদায় তাদের পূর্বপুরুষের বাড়ি থেকে দূরে থেকেও পরিচয় ও ঐতিহ্য বজায় রাখতে পারে।
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু ও সুন্দর জলপ্রপাতগুলোর একটি। প্রায় ১৬২ ফুট (কেউ কেউ বলেন ২০০ ফুট পর্যন্ত) উঁচু এই অসাধারণ জলপ্রপাতটি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত। পাথারিয়া পাহাড়ের পাথুরে ঢাল থেকে গঙ্গামারা ঝর্ণা নেমে এসে এই আশ্চর্য প্রাকৃতিক দৃশ্য তৈরি করেছে যা প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটককে আকর্ষণ করে। **জলপ্রপাত ও এর স্রোত** পানি অনেক উঁচু থেকে নিচের একটি কুণ্ডে পড়ে, তারপর মাধবছড়া নামে প্রবাহিত হয়। এই ধারা পশ্চিম দিকে বয়ে গিয়ে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম জলাভূমি [হাকালুকি হাওর](/bn/tourist-places/hakaluki-haor)-এ মিশে যায়। বর্ষা মৌসুমে জলপ্রপাত সবচেয়ে শক্তিশালী থাকে, একাধিক ধারায় পানি নামে এবং কুয়াশার মতো জলকণা অনেক দূর থেকে অনুভব করা যায়। **মাধবকুণ্ড ইকো পার্ক** জলপ্রপাতটি ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত মাধবকুণ্ড ইকো পার্কের প্রধান আকর্ষণ। পার্কটি প্রায় ২৬৭ হেক্টর (মোটামুটি ৬৬০ একর) সুন্দর বনভূমি জুড়ে বিস্তৃত। ২০২৩ সালে সংরক্ষিত এলাকা ৯২৫ একরে বাড়ানোর পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে। জলপ্রপাত এবং আশেপাশের বনে বসবাসকারী উদ্ভিদ ও প্রাণী রক্ষার জন্য এই ইকো পার্ক তৈরি করা হয়েছে। **কিংবদন্তির স্থান** জলপ্রপাতের নামের পেছনে একটি আকর্ষণীয় গল্প রয়েছে। স্থানীয় কিংবদন্তি বলে যে ১৩৩৫ সালে, সিলেটের শেষ হিন্দু রাজা গৌড়ের রাজা গোবর্ধন এই এলাকায় শিকার করতে এসে মাধবেশ্বর নামে এক সাধুর সাথে দেখা পান যিনি পানির পাশে ধ্যান করছিলেন। সাধু দেবী গঙ্গার সাথে এক হতে চেয়েছিলেন, এবং তিনি পানির সাথে মিশে যাওয়ার পর, একটি দিব্য কণ্ঠ তিনবার "মাধব মাধব মাধব" বলে ডাক দিয়েছিল। এভাবেই জলপ্রপাতের নাম হয়েছে। **আদিবাসী খাসিয়া সম্প্রদায়** জলপ্রপাতের চারপাশের বন আদিবাসী [খাসিয়া](https://en.wikipedia.org/wiki/Khasi_people) জাতির বাড়ি। এই মানুষরা বনের গভীরে পাহাড়ের চূড়ায় ছোট গ্রামে বাস করে। তারা পান পাতা চাষের জন্য বিখ্যাত, যা তারা পাহাড়ের ঢালে চাষ করে। তাদের গ্রাম ঘুরে দেখলে তাদের অনন্য জীবনধারা ও সংস্কৃতির একটি ঝলক পাওয়া যায়। **পরিকুণ্ড - বোন জলপ্রপাত** মাধবকুণ্ড থেকে ঝর্ণার ধারা বরাবর মাত্র ১০-১৫ মিনিট হাঁটলে পরিকুণ্ড জলপ্রপাত পাবেন, যাকে অনেকে "বোন জলপ্রপাত" বলে। মাধবকুণ্ডের চেয়ে ছোট হলেও পরিকুণ্ডের নিজস্ব আকর্ষণ আছে এবং কম ভিড় থাকে, তাই এই সংক্ষিপ্ত হাঁটার মূল্য আছে। **ধর্মীয় গুরুত্ব** জলপ্রপাতের কুণ্ডের কাছে ডান দিকে একটি হিন্দু মন্দির এবং একটি ছোট গুহা আছে যা পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচিত। প্রতি বছর হিন্দু ভক্তরা বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানের জন্য এখানে জমায়েত হন এবং এই স্থানে মেলা বসে।

**মৌলভীবাজারের এক লুকানো রত্ন** নবাবগঞ্জ চা বাগান মৌলভীবাজার জেলার কম পরিচিত কিন্তু সমান সুন্দর চা এস্টেটগুলোর একটি। ভিড়ভাট্টা পর্যটন স্থানগুলোর মতো নয়, এই বাগান এক শান্তিপূর্ণ পালানোর জায়গা দেয় যেখানে আপনি স্বাভাবিক ভিড় ছাড়াই প্রকৃত চা দেশের জীবন অনুভব করতে পারেন। **ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য** এ অঞ্চলের বেশিরভাগ চা বাগানের মতো, নবাবগঞ্জের শিকড় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক যুগে ফিরে যায়। ব্রিটিশরা যখন সিলেটের পাহাড়ি ভূখণ্ড ও জলবায়ুকে চা চাষের জন্য উপযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে তখন এই এস্টেট প্রতিষ্ঠিত হয়। আজও বাগানটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা পদ্ধতিতে মানসম্পন্ন চা উৎপাদন করে চলেছে। **কর্মরত চা এস্টেট** নবাবগঞ্জকে বিশেষ করে তোলে যে এটি একটি সম্পূর্ণ কর্মরত চা এস্টেট রয়ে গেছে। আপনি প্রকৃত চা উৎপাদন দেখতে পারেন - রঙিন পোশাকে মহিলাদের ভোরের চা পাতা তোলা থেকে কারখানায় প্রক্রিয়াকরণ পর্যন্ত। এটা পর্যটক শো নয় বরং চা বাগানের প্রকৃত দৈনন্দিন জীবন। **মনোরম সৌন্দর্য** সুশৃঙ্খল সারি সারি চা গাছে ঢাকা ঢেউ খেলানো পাহাড় সব দিকে ছড়িয়ে আছে। ছায়া দেওয়া গাছ দৃশ্যপটে ছড়িয়ে আছে, শ্রমিকদের বিশ্রামের জায়গা দেয় এবং এক মনোরম দৃশ্য তৈরি করে। বাগানটি বিশেষভাবে সুন্দর ভোরে যখন কুয়াশা চা গাছের উপর ঝুলে থাকে। **চা শ্রমিক সম্প্রদায়** বাগানটি চা শ্রমিকদের একটি সম্প্রদায়ের আবাসস্থল, যাদের অনেকেই ব্রিটিশ আমলে মধ্য ভারত থেকে আনা উপজাতীয় শ্রমিকদের বংশধর। তাদের নিজস্ব অনন্য সংস্কৃতি, উৎসব এবং ঐতিহ্য আছে যা বাগানের চরিত্রে বৈশিষ্ট্য যোগ করে। **শান্ত অন্বেষণের জন্য চমৎকার** আপনি যদি [শ্রীমঙ্গলের](/bn/tourist-places/sreemangal) পর্যটক ভিড় থেকে পালাতে চান কিন্তু চা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, নবাবগঞ্জ চমৎকার পছন্দ। এটি তাদের জন্য উপযুক্ত যারা পালিশ করা পর্যটন আকর্ষণের চেয়ে প্রকৃত অভিজ্ঞতা পছন্দ করেন।
**রেইনফরেস্টে লুকানো এক রত্ন** হাম হাম ঝর্ণা বাংলাদেশের সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর এবং দুঃসাহসিক ঝর্ণাগুলোর মধ্যে একটি। কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনের গভীরে লুকিয়ে থাকা এই অসাধারণ জলপ্রপাত প্রায় ১৩৫ থেকে ১৬০ ফুট (৪১-৪৯ মিটার) উঁচু থেকে নিচের প্রাকৃতিক পুকুরে আছড়ে পড়ে। ২০০৯-২০১০ সালে এই ঝর্ণা আবিষ্কৃত হয়, যা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বিস্ময়গুলোর মধ্যে নতুন সংযোজন। "হাম হাম" নামটি এসেছে ঝর্ণার পানি পড়ার সময় তৈরি হওয়া গুনগুন শব্দ থেকে। স্থানীয়রা এটিকে "চিতা ঝর্ণা" নামেও ডাকে কারণ ঝর্ণার তলদেশে থাকা পাথরগুলো দেখতে অনেকটা চিতাবাঘের শরীরের মতো ফোঁটাযুক্ত। **অ্যাডভেঞ্চার অপেক্ষা করছে** হাম হাম পৌঁছানো ভীতুদের জন্য নয়। এটি একটি সত্যিকারের দুঃসাহসিক গন্তব্য। আপনাকে [হাম হাম ট্রেইল](/bn/tourist-places/ham-ham-trail) অনুসরণ করে ঘন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রেইনফরেস্টের মধ্য দিয়ে ট্রেক করতে হবে, গোড়ালি থেকে উরু পর্যন্ত গভীর ঝিরি পার হতে হবে, চ্যালেঞ্জিং মোকাম টিলায় উঠতে হবে, এবং কাদামাখা জঙ্গলের পথ অতিক্রম করতে হবে। যাত্রায় প্রতিটি পথে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় লাগে যেখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর বনের দৃশ্য দেখা যায়। **কী এটিকে বিশেষ করে তোলে** - বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু ঝর্ণাগুলোর একটি - প্রায় কোনো বাণিজ্যিকীকরণ ছাড়াই প্রাকৃতিক পরিবেশ - সমৃদ্ধ বন্যপ্রাণী সহ কুমারী রেইনফরেস্টের মধ্য দিয়ে ট্রেক - বিরল পাখি, বানর এবং অন্যান্য বন্য প্রাণী দেখার সুযোগ - সত্যিকারের দূরবর্তী এবং বন্য কিছু আবিষ্কারের রোমাঞ্চ বর্ষাকালে এবং পরে (জুন থেকে অক্টোবর) যখন প্রচুর বৃষ্টি শক্তিশালী জলপ্রবাহ তৈরি করে তখন ঝর্ণাটি সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক দেখায়। শীত ও শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে যায় কিন্তু ট্রেক করা সহজ হয়। **সতর্কতা** এটি সাধারণ পর্যটন স্পট নয়। হাম হাম ঝর্ণায় যেতে ভালো শারীরিক সক্ষমতা, যথাযথ প্রস্তুতি এবং স্থানীয় গাইড নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যাত্রা কঠিন কিন্তু এই মহৎ লুকানো ঝর্ণা দেখার পুরস্কার প্রতিটি পদক্ষেপকে সার্থক করে তোলে।