কুষ্টিয়ার লালন শাহ মাজার এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহ কুঠিবাড়ি পরিদর্শন করুন। বাউল মরমী ঐতিহ্য এবং কাব্যিক ঐতিহ্যের কেন্দ্র।
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোর একটি। কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে ১৭৫ একর জুড়ে বিস্তৃত এই সবুজ, প্রশস্ত ক্যাম্পাসটি প্রকৃতি উপভোগ, শান্ত হাঁটাচলা বা একটি বড় বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণবন্ত শক্তি অনুভব করতে চাওয়া দর্শনার্থীদের জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান। **একটি সবুজ মরূদ্যান** ক্যাম্পাসটি বড় গাছ, সুসজ্জিত বাগান, ফুলের গাছ ও প্রশস্ত খোলা সবুজ জায়গায় ভরা। গাছে ঢাকা ক্যাম্পাসের রাস্তায় হাঁটা বা সাইকেল চালানো সতেজ অনুভূতি দেয়, বিশেষ করে শীতল মাসগুলোতে। ক্যাম্পাসের বেশ কয়েকটি ছোট পুকুর ও জলাশয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়ায়, পাখি আকর্ষণ করে এবং ফটোগ্রাফির জন্য চমৎকার স্থান তৈরি করে। **ক্যাম্পাসের স্থাপত্য** ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত, [ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়](https://en.wikipedia.org/wiki/Islamic_University,_Bangladesh) আধুনিক একাডেমিক ভবন, গবেষণা কেন্দ্র ও আবাসিক হল নিয়ে একটি বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রীয় মসজিদটি চমৎকার স্থাপত্যের নিদর্শন এবং ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণ। প্রশাসনিক ভবন ও লাইব্রেরিও তাদের নকশার জন্য দেখার মতো। **শিক্ষার্থী জীবন ও পরিবেশ** নিয়মিত একাডেমিক সেশনে ভ্রমণ করলে বাংলাদেশের প্রাণবন্ত শিক্ষার্থী জীবন দেখার সুযোগ পাবেন। ক্লাসের মধ্যে হেঁটে যাওয়া শিক্ষার্থী, লনে দলবদ্ধ আড্ডা এবং চায়ের স্টলে জমায়েত একটি প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করে। ক্যাম্পাসে সারা বছর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়। **সূর্যাস্ত পয়েন্ট** ক্যাম্পাসের গোপন রত্নগুলোর একটি হলো পশ্চিম দিকে সীমানার কাছ থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য। কুষ্টিয়ার সমতল ভূমি আকাশের প্রশস্ত, বাধাহীন দৃশ্য দেয়, যা এখানকার সূর্যাস্তকে বিশেষভাবে সুন্দর করে তোলে। অনেক স্থানীয় মানুষ ও শিক্ষার্থী সন্ধ্যায় শুধু রঙ বদলানো দেখতে এখানে আসেন।

**বাউল আখড়া / লালন আখড়া সম্পর্কে** বাউল আখড়া, যা লালন আখড়া নামেও পরিচিত, কুষ্টিয়ার বাউল সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক মিলনস্থল। ছেউড়িয়ায় [ফকির লালন শাহের মাজারের](/bn/tourist-places/lalon-shahs-shrine) কাছে অবস্থিত এই আখড়া (আধ্যাত্মিক সাধনা ও সম্প্রদায়িক সমাবেশের স্থান) হলো যেখানে বাউল সাধকরা একত্রিত হন গান গাইতে, ধ্যান করতে এবং বাউল ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে। এটি বাংলাদেশে বাউল দর্শন ও সংগীতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি। **আখড়া কী?** - আখড়া হলো একটি সাম্প্রদায়িক স্থান যেখানে বাউল ফকির ও ভক্তরা বাস করেন, সাধনা করেন এবং পরিবেশনা করেন - এটি বাউল সম্প্রদায়ের আবাসিক ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র উভয়ই - আখড়া ঐতিহ্যগতভাবে উন্মুক্ত স্থান যেখানে যে কেউ আসতে পারেন শুনতে, শিখতে ও অংশ নিতে - এগুলো আধ্যাত্মিক সমতার স্থান — জাত, ধর্ম বা সামাজিক মর্যাদার ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য নেই - "আখড়া" শব্দটি আধ্যাত্মিক সাধকদের অনুশীলন ক্ষেত্রের ধারণা থেকে এসেছে **বাউল ঐতিহ্য** - বাউলরা বাংলার রহস্যময় চারণ গায়ক — তারা সংগীত ও গানের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক দর্শন প্রকাশ করেন - বাউল ঐতিহ্য সুফিবাদ, বৈষ্ণববাদ এবং লোক বৌদ্ধধর্মের উপাদান মিশ্রিত করে - [ইউনেস্কো](https://ich.unesco.org/en/RL/baul-songs-00107) ২০০৫ সালে বাউল ঐতিহ্যকে "মানবতার মৌখিক ও অধরা ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন" হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে - বাউল দর্শন সংগঠিত ধর্মকে প্রত্যাখ্যান করে এবং "মনের মানুষ" (অন্তরের ঈশ্বর) এর উপর মনোনিবেশ করে - লালন শাহের প্রভাবের কারণে কুষ্টিয়াকে বাউল সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় **আজকের আখড়া** - লালনের মাজারের কাছের এই আখড়া একটি জীবন্ত সাংস্কৃতিক স্থান, শুধু জাদুঘর বা স্মৃতিস্তম্ভ নয় - আবাসিক বাউল সাধকরা সারা বছর এখানে থাকেন, সংগীত ও আধ্যাত্মিক সাধনা অনুশীলন করেন - দর্শনার্থীরা সবচেয়ে খাঁটি পরিবেশে সরাসরি বাউল গান শুনতে পারেন - পরিবেশ অনানুষ্ঠানিক ও স্বাগতপূর্ণ — বাউলরা সকলের প্রতি তাদের উদারতার জন্য পরিচিত - বাৎসরিক লালন উৎসবের সময় (বাংলা চৈত্র মাসের পূর্ণিমায়) আখড়াটি হাজার হাজার বাউল ও দর্শনার্থীদের বিশাল সাংস্কৃতিক সমাবেশের কেন্দ্র হয়ে ওঠে
লালন শাহ সেতু (আনুষ্ঠানিকভাবে লালন শাহ সেতু) পাকশীর কাছে [পদ্মা নদীর](https://en.wikipedia.org/wiki/Padma_River) উপর একটি আধুনিক সড়ক সেতু যা কুষ্টিয়া জেলাকে পাবনার সাথে সংযুক্ত করেছে। মহান বাউল সাধক [ফকির লালন শাহের](/bn/tourist-places/lalon-shahs-shrine) নামে নামকরণ করা, সেতুটি দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন সংযোগ এবং চমৎকার নদীর দৃশ্য উপভোগ করতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান। **সেতুটি** ২০০৪ সালে সম্পন্ন, লালন শাহ সেতু ১.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ — পুরানো [হার্ডিঞ্জ ব্রিজের](/bn/tourist-places/hardinge-bridge) সমান্তরালে চলে যা মাত্র কয়েকশো মিটার দূরে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ রেলপথ বহন করলেও এই সেতু কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশকে পাবনা, রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের সাথে সংযোগকারী প্রধান সড়ক বহন করে। সেতুটি অঞ্চলের আধুনিক সংযোগের প্রতীক হয়ে উঠেছে। **দর্শনার্থীরা কেন আসেন** সেতুটি প্রচলিত অর্থে পর্যটন আকর্ষণ না হলেও বেশ কিছু কারণে দর্শনার্থী আকর্ষণ করে: - সেতু থেকে পদ্মা নদীর **দৃশ্য** অত্যাশ্চর্য, বিশেষ করে বর্ষায় যখন নদী সবচেয়ে প্রশস্ত - পুরানো হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও আধুনিক লালন শাহ সেতুর **পাশাপাশি দৃশ্য** ঔপনিবেশিক যুগের ও আধুনিক প্রকৌশলের একটি আকর্ষণীয় বৈপরীত্য তৈরি করে - সেতু থেকে বা কাছ থেকে **সূর্যাস্তের দৃশ্য** কুষ্টিয়া এলাকার সবচেয়ে দর্শনীয়গুলোর মধ্যে - সেতু পেরিয়ে যাওয়া পদ্মা নদীর বিশালতার অনুভূতি দেয় **জোড়া ভ্রমণ** বেশিরভাগ দর্শনার্থী লালন শাহ সেতুর সাথে [হার্ডিঞ্জ ব্রিজ](/bn/tourist-places/hardinge-bridge) একসাথে দেখেন কারণ দুটো পাশাপাশি। দুটো সেতু একসাথে দেখা — একটি ১৯১৫ সালের ও একটি ২০০৪ সালের — প্রায় এক শতাব্দীর বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের গল্প বলে।
কুষ্টিয়া জাদুঘর (কুষ্টিয়া জেলা জাদুঘর নামেও পরিচিত) কুষ্টিয়া শহরের কেন্দ্রে একটি ছোট কিন্তু সুসজ্জিত জাদুঘর। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর দ্বারা পরিচালিত, এটি দর্শনার্থীদের কুষ্টিয়া অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি সংক্ষিপ্ত যাত্রা দেয়। ঢাকার জাতীয় জাদুঘরের মতো বড় না হলেও, এটি এলাকার একটি অর্থবহ পরিচিতি দেয় যা কুষ্টিয়ার অন্যান্য ভ্রমণকে আরও সমৃদ্ধ করে। **ভেতরে যা পাবেন** জাদুঘরটি কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বেশ কয়েকটি বিভাগে সাজানো: - কুষ্টিয়া অঞ্চলে পাওয়া প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় সময়ের **ঐতিহাসিক নিদর্শন**, মাটির পাত্র, মুদ্রা ও পাথরের ভাস্কর্য সহ - ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প, বস্ত্র, বাদ্যযন্ত্র ও গ্রামীণ বাংলার দৈনন্দিন জীবনের জিনিসপত্র প্রদর্শনকারী **লোকসংস্কৃতি প্রদর্শনী** - মরমী কবির জীবন ও দর্শনের সাথে সম্পর্কিত জিনিসপত্র সহ **লালন শাহ** ও [বাউল ঐতিহ্য](/bn/tourist-places/baul-akhra-lalon-akhra) সম্পর্কিত প্রদর্শনী - কুষ্টিয়ায় ঠাকুরের সময়কালের আলোকচিত্র, নথিপত্র ও স্মারক সহ **রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিভাগ** - [১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ](https://en.wikipedia.org/wiki/Bangladesh_Liberation_War)-এর আলোকচিত্র, নথিপত্র ও জিনিসপত্র সহ **মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি**, যা স্বাধীনতা সংগ্রামে কুষ্টিয়ার ভূমিকা তুলে ধরে - কাছের স্থান থেকে **প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার**, যা এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বসতি ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের ধারণা দেয় **কেন ভ্রমণ করবেন** জাদুঘরটি আপনার কুষ্টিয়া ভ্রমণের একটি চমৎকার সূচনা বিন্দু। অঞ্চলের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পটভূমি বোঝা [লালন শাহের মাজার](/bn/tourist-places/lalon-shahs-shrine), [ঠাকুরের কুঠিবাড়ি](/bn/tourist-places/rabindranath-tagores-kuthibari) ও [শিলাইদহ](/bn/tourist-places/shilaidaha) ভ্রমণকে আরও অর্থবহ করে তোলে। জাদুঘরটি এতটাই ছোট যে আপনি ক্লান্ত বোধ করবেন না এবং প্রদর্শনীগুলো পরিষ্কার ও সুন্দরভাবে লেবেলযুক্ত। **ভবনটি** জাদুঘর ভবনটি সামনে একটি ছোট বাগান সহ একটি সাদামাটা, সুসজ্জিত স্থাপনা। এটি কুষ্টিয়ার শহুরে পরিবেশের সাথে দেখনদারি ছাড়াই মিশে যায়, যা এমন একটি জেলার জন্য উপযুক্ত মনে হয় যেটি চাকচিক্যের চেয়ে সারবত্তাকে মূল্য দেয়।
কুষ্টিয়ার শিলাইদহে অবস্থিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি হলো সেই ঐতিহাসিক গ্রামীণ বাসভবন যেখানে এশিয়ার প্রথম নোবেল বিজয়ী তাঁর পারিবারিক জমিদারি পরিচালনা করেছেন এবং তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কিছু রচনা লিখেছেন। নীল চাষের যুগের এই মনোরম দোতলা ভবনটি এখন একটি জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষিত এবং বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক নিদর্শন। **ঠাকুরের শিলাইদহ সংযোগ** রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম ১৮৮৯ সালে শিলাইদহে আসেন যখন তাঁর পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে এই এলাকায় পারিবারিক জমিদারি পরিচালনার জন্য পাঠান। পরবর্তী কয়েক বছরে ঠাকুর এখানে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন এবং এই অভিজ্ঞতা তাঁর লেখনীকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। পদ্মা নদী ও বাংলার গ্রামীণ জীবনের কাছাকাছি বাস করে তিনি তাঁর অনেক সেরা কবিতা, গান ও ছোটগল্প রচনা করেছেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কাজগুলোর মধ্যে [গীতাঞ্জলি](https://en.wikipedia.org/wiki/Gitanjali)-র (যা ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কার এনে দিয়েছিল) অংশবিশেষ শিলাইদহের প্রকৃতি ও মানুষের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিল। **কুঠিবাড়ি ভবন** কুঠিবাড়িটি ১৮০০-এর দশকের একটি সুন্দর দোতলা ভবন। মূলত নীল চাষের সময়ে নির্মিত, বাড়িটি পরে ঠাকুর পরিবারের অধীনে আসে। এতে রয়েছে সেই যুগের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ চওড়া বারান্দা, খিলান জানালা ও উঁচু ছাদ। নিচতলা একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে যেখানে বেশ কয়েকটি কক্ষে প্রদর্শিত হয়: - ঠাকুরের ব্যবহৃত আসল আসবাবপত্র - তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোকচিত্র - এখানে থাকাকালীন লেখা পাণ্ডুলিপি ও চিঠির অনুলিপি - তাঁর খাট, লেখার টেবিল ও বইয়ের তাক সহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র - শিলাইদহে ঠাকুরের সময়কালের সাথে সম্পর্কিত চিত্রকর্ম উপরতলা থেকে আশেপাশের গ্রামাঞ্চল ও নদীর সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়। **চত্বর ও আশপাশ** কুঠিবাড়িটি পুরানো গাছ, বাগান ও খোলা জায়গা নিয়ে একটি শান্ত চত্বরে অবস্থিত। বাড়ি থেকে অল্প হেঁটে পদ্মা নদীর তীরে যাওয়া যায়, যেখানে ঠাকুর তাঁর বিখ্যাত বজরা "পদ্মা"-তে সময় কাটাতেন। এখানকার নদীর দৃশ্য অপূর্ব, বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময়, এবং সহজেই বোঝা যায় কেন এই জায়গা ঠাকুরকে এতটা গভীরভাবে আলোড়িত করেছিল। **সাহিত্যিক গুরুত্ব** শিলাইদহকে কখনো কখনো "ঠাকুরের অনুপ্রেরণার ভূমি" বলা হয়। এখানে থাকাকালীন ঠাকুর শুধু লেখেননি — তিনি স্থানীয় গ্রামবাসী, মাঝি ও কৃষকদের সাথেও যুক্ত হয়েছিলেন এবং এই সম্পর্কগুলো তাঁর লেখায় গ্রামীণ বাংলার জীবনের গভীর উপলব্ধি এনে দিয়েছিল। তাঁর ছোটগল্প সংকলন "গল্পগুচ্ছ" শিলাইদহের মানুষ ও স্থান থেকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত। ঠাকুরের লেখা যারা ভালোবাসেন, তাদের কাছে এই বাড়ি পরিদর্শন মানে বাংলা ভাষার কিছু সুন্দরতম সাহিত্যকে অনুপ্রাণিত করা জগতে পা দেওয়া।
**মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্র সম্পর্কে** কুষ্টিয়ার মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্র বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখকের স্মৃতি রক্ষার্থে প্রতিষ্ঠিত। [মীর মশাররফ হোসেন](https://en.wikipedia.org/wiki/Mir_Mosharraf_Hossain) (১৮৪৭-১৯১২) সবচেয়ে বেশি পরিচিত "[বিষাদ সিন্ধু](https://en.wikipedia.org/wiki/Bishad_Sindhu)" রচনার জন্য, যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত। এই স্মৃতি কেন্দ্রটি কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়ায় অবস্থিত, লেখকের পৈতৃক বাড়ির কাছে। **লেখকের উত্তরাধিকার** - মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন বাংলা গদ্য কথাসাহিত্যের পথিকৃৎ - "বিষাদ সিন্ধু" ১৮৮৫ থেকে ১৮৯১ সালের মধ্যে তিন খণ্ডে প্রকাশিত হয় - তিনি উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ এবং আত্মজীবনীসহ ৩০টিরও বেশি বই লিখেছেন - তাঁর রচনায় সামাজিক সংস্কার, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সাধারণ মানুষের সংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে - তিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম বাঙালি লেখকদের একজন হিসেবে সম্মানিত **স্মৃতি কেন্দ্র চত্বর** - লেখকের উত্তরাধিকার সংরক্ষণ এবং সাহিত্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই স্মৃতি কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে - এখানে পাণ্ডুলিপি, আলোকচিত্র এবং ব্যক্তিগত সামগ্রী সংবলিত একটি ছোট জাদুঘর রয়েছে - আশপাশের এলাকা সেই গ্রামীণ বাংলার প্রতিফলন যা তাঁর লেখার অনুপ্রেরণা ছিল - কমপ্লেক্সের মধ্যে একটি পাঠাগার রয়েছে যেখানে তাঁর প্রকাশিত রচনা এবং সম্পর্কিত সাহিত্য সমালোচনা সংরক্ষিত আছে - তাঁর জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকীতে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সাহিত্য সভার আয়োজন করা হয় **ঐতিহাসিক গুরুত্ব** স্মৃতি কেন্দ্রটি কুষ্টিয়ার সাহিত্যিক ভূখণ্ডের কেন্দ্রে অবস্থিত। কুষ্টিয়া জেলা অনেক প্রখ্যাত লেখক ও চিন্তাবিদ জন্ম দিয়েছে এবং মীর মশাররফ হোসেন তাঁদের মধ্যে বিশেষ স্থান দখল করে আছেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি এবং আশপাশের গ্রাম ঊনবিংশ শতাব্দীর গ্রামীণ বাংলার একটি চিত্র তুলে ধরে। এই স্মৃতি কেন্দ্র পরিদর্শন করলে আপনি বুঝতে পারবেন এই অঞ্চলের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রায় সাহিত্য কতটা গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ বাংলাদেশের সবচেয়ে আইকনিক প্রকৌশল নিদর্শনগুলোর একটি। এই বিশাল ইস্পাত রেলওয়ে সেতুটি কুষ্টিয়া জেলার সীমানায় পাবনার পাকশীর কাছে পদ্মা নদীর উপর দিয়ে গেছে। ১৯১৫ সালে যখন এটি সম্পন্ন হয়, তখন এটি বিশ্বের দীর্ঘতম সেতুগুলোর একটি ছিল। এক শতাব্দীরও বেশি পরে, এটি দেশের সবচেয়ে বেশি ছবি তোলা ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর একটি হিসেবে রয়ে গেছে। **ইতিহাস ও নির্মাণ** সেতুটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে ১৯১০ থেকে ১৯১৫ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল এবং তৎকালীন ভারতের ভাইসরয় [লর্ড হার্ডিঞ্জ](https://en.wikipedia.org/wiki/Charles_Hardinge,_1st_Baron_Hardinge_of_Penshurst)-এর নামে নামকরণ করা হয়। প্রকল্পটি ছিল একটি বিশাল প্রকৌশল কৃতিত্ব — সেতুটি গভীর কূপ ভিত্তির উপর ১৫টি ইস্পাত স্প্যান নিয়ে পদ্মা নদীর উপর ১.৮ কিলোমিটার (৫,৮৯৪ ফুট) বিস্তৃত। এর নির্মাণে হাজার হাজার শ্রমিক জড়িত ছিলেন এবং এটি সেই যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রকৌশল অর্জনগুলোর একটি বলে বিবেচিত হতো। কলকাতাকে উত্তরবঙ্গ ও আসামের সাথে সংযোগকারী রেলপথ বহনের জন্য সেতুটি নকশা করা হয়েছিল। **যুদ্ধের ক্ষতি ও মেরামত** [১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ](https://en.wikipedia.org/wiki/Bangladesh_Liberation_War)-এর সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যোগাযোগ ও পরিবহন লাইন বিচ্ছিন্ন করতে সেতুর দুটি স্প্যান বোমা মেরে ধ্বংস করে। ক্ষতিগ্রস্ত স্প্যানগুলো পরে ভিন্ন ধরনের ইস্পাত কাঠামো দিয়ে মেরামত করা হয়, যা আজও দেখা যায় — মেরামত করা অংশগুলো মূল স্প্যান থেকে স্পষ্টভাবে আলাদা দেখায়, যুদ্ধের একটি নীরব স্মারক হিসেবে কাজ করে। এই যুদ্ধের ক্ষতি সেতুটিকে শুধু একটি প্রকৌশল স্মারক নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীকও করে তুলেছে। **আপনি যা দেখবেন** নদীর তীর থেকে সেতুটি একটি অত্যাশ্চর্য দৃশ্য। প্রশস্ত পদ্মা নদীর উপর বিস্তৃত এর বিশাল ইস্পাত গার্ডারগুলো একটি নাটকীয় ছবি তৈরি করে, বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় যখন কাঠামোটি আকাশের পটভূমিতে ছায়ামূর্তির মতো দেখায়। সেতুর আশপাশের এলাকায় পাবেন: - উভয় তীর থেকে পদ্মা নদীর প্যানারমিক দৃশ্য - মূল ও মেরামত করা স্প্যানের বৈপরীত্য স্পষ্টভাবে দেখা যায় - সেতুর কাছে একটি রেলওয়ে ইয়ার্ড ও স্টেশন এলাকা - শুষ্ক মৌসুমে হাঁটার জন্য বালুকাময় নদীর তীর - সেতুর নিচে নৌকার কার্যক্রম — ছোট মাছ ধরার নৌকা ও ফেরি
এই জেলায় এখনও কোন আবাসন পাওয়া যায়নি।