দিবর দীঘি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও আকর্ষণীয় জলাশয়।
নওগাঁ শহর থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দূরে পত্নীতলা উপজেলায় অবস্থিত এই প্রাচীন দীঘিটি এর কেন্দ্র থেকে উঠে আসা চমকপ্রদ জয়স্তম্ভের জন্য বিখ্যাত — একটি বিরল ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন যা একাদশ শতকের বাংলার নাটকীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে যুক্ত — যে সময়ে কাছাকাছি পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারও সমৃদ্ধ ছিল।
দিবর দীঘির উৎপত্তি কিংবদন্তি ও ইতিহাস দুটোতেই জড়িয়ে আছে।
"দিবর" নামটি রাজা দিব্যক (দিব্যোক) থেকে এসেছে বলে মনে করা হয়, যিনি ছিলেন একজন স্থানীয় কৈবর্ত নেতা।
তিনি একাদশ শতকে পাল রাজবংশের রাজা মহীপাল ২-এর বিরুদ্ধে কৃষক বিদ্রোহ পরিচালনা করেন।
ইতিহাসবিদরা মনে করেন দীঘি ও এর বিজয়স্তম্ভ দিব্যকের পাল শাসন উৎখাতের সফলতা উদযাপনে নির্মিত — যা মধ্যযুগীয় দক্ষিণ এশিয়ায় জনগণের বিদ্রোহের একটি বিরল স্মৃতিচিহ্ন।
স্থানীয় লোককথায় আরও রঙিন গল্প আছে: এক রাজা তাঁর রানি যতদূর হাঁটতে পারেন ততদূর পর্যন্ত দীঘি খনন করতে আদেশ দেন।
একজন চতুর পরিচারক রানির পায়ে "আলতা" (লাল রঙ) লাগিয়ে দেন যাতে তিনি থামেন, এবং দীঘির নাম হয় আলতা দীঘি।
তবে বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ প্রধান দীঘিটিকে দিব্যকের বিজয়ের সাথে সম্পর্কিত করেন।
দিবর দীঘির প্রধান আকর্ষণ হলো আট কোণবিশিষ্ট গ্রানাইট পাথরের জমকালো জয়স্তম্ভ।
এই স্তম্ভটি ৩১ ফুট ৮ ইঞ্চি উঁচু, যার প্রায় ৬ ফুট পানির নিচে এবং ২৫ ফুট ৫ ইঞ্চি পানির উপরে দৃশ্যমান।
স্তম্ভের প্রতিটি কোণের পরিধি ১ ফুট সাড়ে ৩ ইঞ্চি।
পানির মাঝে একাকী দাঁড়িয়ে থাকা স্তম্ভটি একটি নাটকীয় দৃশ্য তৈরি করে যা শতাব্দী ধরে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে।
১৯৩৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার দিবর দীঘিকে ঐতিহ্যবাহী স্থান ঘোষণা করে, এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব স্বীকার করে।
রাজশাহী সামাজিক বনায়ন বিভাগ দীঘির চারপাশে একটি কৃত্রিম বন ও পাশে একটি মিনি চিড়িয়াখানা তৈরি করেছে।
দর্শনার্থীদের জন্য দীঘিতে নৌকা ভ্রমণেরও ব্যবস্থা আছে।
দীঘি এলাকায় প্রবেশ বিনামূল্যে।
নৌকা ভ্রমণে ছোট ফি (জনপ্রতি ২০-৫০ টাকা)।
মিনি চিড়িয়াখানায় সামান্য প্রবেশ মূল্য থাকতে পারে।
দিনের আলোতে প্রতিদিন খোলা।
নৌকা ভ্রমণ সেবা সাধারণত সকাল ৮:০০ থেকে বিকেল ৫:০০ পর্যন্ত পাওয়া যায়।
দেড়-২ ঘণ্টা
নভেম্বর থেকে মার্চ (শীত ও বসন্তের শুরু)।
নৌকা ভ্রমণ ও বন ঘুরে দেখার জন্য ঠান্ডা আবহাওয়া আদর্শ।
বর্ষার পর (অক্টোবর-নভেম্বর) দীঘি পূর্ণ থাকে।
প্রবেশ: বিনামূল্যে।
নৌকা: ২০-৫০ টাকা।
পত্নীতলা থেকে অটোরিকশা: ৫০-১০০ টাকা।
নওগাঁ থেকে মোট: জনপ্রতি ৩০০-৫০০ টাকা।
এখনও কোনও রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউ লিখুন!
**ধ্বংসপ্রায় এক জমকালো রাজপ্রাসাদ** দুবলহাটি রাজবাড়ি উত্তর বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজপ্রাসাদ। নওগাঁ শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই ২০০ বছরের পুরনো প্রাসাদ চত্বরটি বরেন্দ্র অঞ্চলে — ঐতিহাসিক [বালিহার রাজবাড়ির](/tourist-places/balihar-rajbari) অদূরে — এক শক্তিশালী [জমিদার](https://en.wikipedia.org/wiki/Zamindar) পরিবারের গল্প বলে। বর্তমান জীর্ণ অবস্থা সত্ত্বেও প্রাসাদটি এখনও একটি জমকালো অনুভূতি ছড়ায় যা ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য একটি চমকপ্রদ গন্তব্য। **প্রতিষ্ঠাতা পরিবার** ১৮ শতকের শেষ দিকে জমিদার কৃষ্ণনাথ এই প্রাসাদটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৭৯৩ সালে তিনি তাঁর জমিদারির সদর দপ্তর হিসেবে এই বাসভবন-সহ-কার্যালয় নির্মাণ করেন। কৃষ্ণনাথের কোনো পুত্র সন্তান না থাকায় ১৮৫৩ সালে তিনি তাঁর কন্যার পুত্র হরনাথ রায় চৌধুরীকে উত্তরাধিকারী ঘোষণা করেন। হরনাথ পরবর্তীতে এই জমিদারির সবচেয়ে প্রশংসিত শাসক হয়ে ওঠেন। **হরনাথ রায় চৌধুরীর উত্তরাধিকার** হরনাথ শুধু একজন জমিদার ছিলেন না — তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক ও জনহিতৈষী। ১৮৬৪ সালে তিনি দুবলহাটিতে একটি নিম্ন মাধ্যমিক ইংরেজি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন যেখানে ছাত্ররা বিনামূল্যে শিক্ষা পেত। ১৮৭৪ সালের ভয়াবহ [বাংলার দুর্ভিক্ষের](https://en.wikipedia.org/wiki/Bengal_famine_of_1874) সময় তিনি ত্রাণ কেন্দ্র খুলে হাজার হাজার ক্ষুধার্ত মানুষকে খাওয়ান। তাঁর মানবিক কাজ তাঁকে ব্রিটিশ রাজের কাছ থেকে মর্যাদাপূর্ণ "রাজা বাহাদুর" উপাধি এনে দেয়। **স্থাপত্য ও বিন্যাস** সোনালি সময়ে প্রাসাদ চত্বরটি ছিল বিশাল — ৭টি চত্বরে প্রায় ৩০০টি কক্ষ ছিল। ভবনগুলোতে শোবার ঘর, খাবার ঘর, অভ্যর্থনা কক্ষ, দরবার হল, ব্যক্তিগত নাট্যশালা এবং শৈল্পিক বারান্দাসহ অতিথি কক্ষ ছিল। কক্ষগুলোর দরজার উপরে রঙিন কাচের অলংকরণ ছিল এবং প্রধান ফটকে রোমান ধাঁচের স্তম্ভ ছিল, যা রাজপরিবারের রুচি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার পরিচয় দেয়। **বর্তমান অবস্থা** ১৯৫০ সালে [জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির](https://en.wikipedia.org/wiki/Zamindari_system) পর প্রাসাদটি ধীরে ধীরে জীর্ণ হতে থাকে। বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৭ সালে একে সংরক্ষিত স্মৃতিসৌধ ঘোষণা করে এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ তত্ত্বাবধানে নেয়। তবে অনেক সংস্কার কাজ এখনও বাকি আছে এবং প্রকৃতি ধীরে ধীরে প্রাসাদের অংশগুলো গ্রাস করছে।

**সুলতানি স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন** কুসুম্বা মসজিদ বাংলাদেশের মধ্যযুগীয় মসজিদ স্থাপত্যের অন্যতম সেরা নিদর্শন। ১৫৫৮-১৫৫৯ খ্রিস্টাব্দে (৯৬৬ হিজরি) শূর বংশের শাসক [গিয়াসউদ্দিন বাহাদুর শাহের](https://en.wikipedia.org/wiki/Ghiyasuddin_Bahadur_Shah) আমলে নির্মিত এই ৪৬০ বছরের পুরনো মসজিদটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার কুসুম্বা গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদটি [পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের](/tourist-places/paharpur-buddhist-monastery) পর জেলার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। **ইতিহাস ও উৎপত্তি** মসজিদটি গিয়াসউদ্দিন বাহাদুর শাহের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সুলাইমান নির্মাণ করেন। মসজিদে পাওয়া একটি আরবি শিলালিপিতে নির্মাতার নাম ও নির্মাণের তারিখ লিপিবদ্ধ আছে। মসজিদটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে এবং একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে টিকে গেছে, যদিও ১৮৯৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে এর বাইরের দেয়াল ও গম্বুজের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়। **স্থাপত্য ও নকশা** কুসুম্বা মসজিদ ৫৮ ফুট লম্বা ও ৪২ ফুট চওড়া, এর দেয়াল ৬ ফুট পুরু। ছাদে দুই সারিতে ছয়টি গম্বুজ রয়েছে, যা ভেতরের দুটি বিশাল পাথরের স্তম্ভের উপর স্থাপিত। চার কোণে চারটি অষ্টভুজাকৃতি মিনার ছাদের সমান উচ্চতায় উঠে গেছে। পূর্ব দেয়ালে তিনটি খিলানযুক্ত প্রবেশদ্বার দিয়ে নামাজ কক্ষে প্রবেশ করা যায়, যেখানে পশ্চিম দেয়ালে তিনটি সুন্দরভাবে অলংকৃত মিহরাব রয়েছে। **শৈল্পিক বিশদ** যেটি এই মসজিদকে সত্যিই বিশেষ করে তুলেছে তা হলো এর পাথরের খোদাই। বাইরের দেয়ালগুলো বিস্তারিত অগভীর খোদাই কাজে ঢাকা — ফুলের নকশা, রোজেট ও জ্যামিতিক নকশা যা অত্যন্ত দক্ষ কারিগরদের হাতে তৈরি। এখানকার কারুকাজের মান বাংলাদেশের অন্যান্য মসজিদের চেয়ে অনেক বেশি সূক্ষ্ম। কেন্দ্রীয় খিলানটি বিশেষভাবে সুন্দর, ফুলের নকশা ও রোজেটে সজ্জিত যা পুরো মসজিদ জুড়ে পুনরাবৃত্ত হয়েছে। **জাতীয় স্বীকৃতি** কুসুম্বা মসজিদ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে — এর ছবি পাঁচ টাকার নোটে মুদ্রিত। মসজিদটি বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষিত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।
**ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান** পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, যা [সোমপুর মহাবিহার](https://en.wikipedia.org/wiki/Somapura_Mahavihara) নামেও পরিচিত, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত এই প্রাচীন বিহারটি ১৯৮৫ সালে [ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান](https://whc.unesco.org/en/list/322/) হিসেবে স্বীকৃতি পায়। হিমালয়ের দক্ষিণে এটিই সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ বিহার এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে চমকপ্রদ প্রাক-ইসলামি স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত। **বিহারের ইতিহাস** [পাল বংশের](https://en.wikipedia.org/wiki/Dharmapala_(Pala_dynasty)) দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল আনুমানিক ৭৮১-৮২১ খ্রিস্টাব্দে এই বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন। প্রায় ৩০০ বছর ধরে এটি বৌদ্ধ শিক্ষা ও ধর্মচর্চার একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। তিব্বত, চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং মায়ানমার থেকে পণ্ডিত ও সন্ন্যাসীরা এখানে জ্ঞান অর্জন ও ধর্মচর্চা করতে আসতেন। কাছাকাছি [জগদ্দল বিহার](/tourist-places/jagaddal-vihara) ও [হলুদ বিহার](/tourist-places/halud-vihara) এই অঞ্চলের বৌদ্ধ শিক্ষা কেন্দ্রের একই নেটওয়ার্কের অংশ ছিল। বারবার আক্রমণ ও অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানটি পরিত্যক্ত হয় এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে একটি টিলায় পরিণত হয়। স্থানীয়রা এই টিলাকে "পাহাড়" বলত — এভাবেই গ্রামের নাম হয় পাহাড়পুর। **পুনরাবিষ্কার ও খনন** ১৮৭৯ সালে স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপের সময় প্রথম এই ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করেন। ১৯২৩ সালে কে.এন. দীক্ষিতের নেতৃত্বে পদ্ধতিগত খনন শুরু হয়, যার ফলে শতাব্দীর পর লুকিয়ে থাকা বিশাল বিহার চত্বরটি উন্মোচিত হয়। এই খননে পোড়ামাটির ফলক, অলংকৃত ইট, মূর্তি, মুদ্রা এবং শিলালিপি পাওয়া যায় যা এই সমৃদ্ধ ধর্মীয় কেন্দ্রের গল্প বলে। **স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য** বিহার চত্বরটি প্রায় ২৭ একর (১১ হেক্টর) জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। বাইরের দেয়ালগুলো একটি বড় বর্গাকার ক্ষেত্র তৈরি করেছে যার প্রতিটি বাহু প্রায় ৯২২ ফুট লম্বা। ভেতরের দেয়ালের গায়ে ১৭৭টি সন্ন্যাসী কক্ষ রয়েছে যেখানে সন্ন্যাসীরা একসময় বসবাস, অধ্যয়ন ও ধ্যান করতেন। প্রতিটি কক্ষে একটি ছোট দরজা ও জানালা আছে। চত্বরের মাঝখানে একটি বিশাল ক্রুশাকৃতি মন্দির কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে যা প্রায় ৭০ ফুট উঁচু। এই কেন্দ্রীয় মন্দিরটি পাহাড়পুরের প্রধান আকর্ষণ এবং ইন্দোনেশিয়ার বিখ্যাত [বোরোবুদুর মন্দির](https://en.wikipedia.org/wiki/Borobudur) সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৌদ্ধ স্থাপত্যকে প্রভাবিত করেছে। **পোড়ামাটির শিল্পকর্ম** পাহাড়পুরের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকগুলোর একটি হলো কেন্দ্রীয় মন্দিরের ভিত্তিতে সাজানো ২,৮০০-রও বেশি পোড়ামাটির ফলক। এই ফলকগুলোতে দৈনন্দিন জীবন, পৌরাণিক কাহিনী, পশুপাখি, ফুল এবং বৌদ্ধ, হিন্দু ও জৈন ধর্মের গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মের চিত্রকলার এই মিশ্রণ থেকে বোঝা যায় যে এই বিহারটি সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও আদান-প্রদানের একটি স্থান ছিল।
**শালবন ঘেরা প্রাচীন দীঘি** আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যান নওগাঁ জেলার সবচেয়ে নৈসর্গিক প্রাকৃতিক গন্তব্যগুলোর একটি। নওগাঁ শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ধামইরহাট উপজেলায় অবস্থিত এই জাতীয় উদ্যান একটি বিশাল প্রাচীন জলাশয় ও সমৃদ্ধ শালবনের সমন্বয়ে প্রকৃতিপ্রেমী ও ইতিহাস উৎসাহীদের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ আশ্রয় তৈরি করেছে। **আলতাদীঘির কিংবদন্তি** আলতাদীঘির উৎপত্তি একটি চমকপ্রদ স্থানীয় কিংবদন্তিতে জড়িয়ে আছে। চতুর্দশ শতকে বিশ্বনাথ জগদল নামে এক রাজা — যাঁর নাম কাছের [জগদ্দল বিহার](/tourist-places/jagaddal-vihara) প্রত্নস্থলের সাথেও সংযুক্ত — এই এলাকা শাসন করতেন। তীব্র খরার সময় পানির সংকট চরম পর্যায়ে পৌঁছালে রাজা একটি বিশাল পুকুর খনন করতে আদেশ দেন। কথিত আছে, তিনি ঘোষণা করেন রানি যতদূর হাঁটতে পারবেন পুকুর ততদূর বড় হবে। পুকুরের আকার সীমিত করতে এক চতুর পরিচারক রানির পায়ে "আলতা" (পায়ে লাগানো ঐতিহ্যবাহী লাল রঙ) লাগিয়ে দেন, তাঁকে বোঝান যে তিনি যথেষ্ট হেঁটেছেন। রানির হাঁটা থামানো সেই লাল রঙের নামেই পুকুরটির নাম হয় "আলতা দীঘি"। **ভৌত বৈশিষ্ট্য** দীঘিটি আকারে চমকপ্রদ — ১,১১৩ মিটার লম্বা ও ২১ মিটার চওড়া, গভীরতা প্রায় ৩.৮ মিটার। এর স্বচ্ছ পানি চারদিকে সবুজে ঘেরা, যা অন্যথায় শুষ্ক [বরেন্দ্র ভূমিতে](https://en.wikipedia.org/wiki/Barind_Tract) একটি চমকপ্রদ দৃশ্য তৈরি করে। **জাতীয় উদ্যান** ২০১১ সালে সরকার আলতাদীঘির চারপাশের বনাঞ্চলকে এর পরিবেশগত গুরুত্ব স্বীকার করে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করে। উদ্যানে গজারিসহ বিভিন্ন গাছের পাশাপাশি সুন্দর শালবন রয়েছে। বনটি স্থানীয় পাখি ও ছোট বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, যা পাখি দেখা ও প্রকৃতিতে হাঁটার জন্য আদর্শ স্থান। **সীমান্ত অবস্থান** ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নৈকট্য উদ্যানটিকে একটি অনন্য চরিত্র দিয়েছে। সীমান্ত এলাকা শান্ত ও মনোরম, তবে দর্শনার্থীদের আন্তর্জাতিক সীমানার কাছে না যাওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত।