
লাবণী পয়েন্ট পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকতের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং ব্যস্ততম জায়গা।
কক্সবাজার শহরের একদম কেন্দ্রে অবস্থিত এই স্থান থেকেই বেশিরভাগ পর্যটক তাদের সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ শুরু করেন।
"লাবণী" নামটি এসেছে কাছের একটি সিনেমা হল থেকে, এবং বছরের পর বছর ধরে বালির এই প্রসারিত অংশ বাংলাদেশ ও বাইরে থেকে আসা দর্শনার্থীদের প্রধান মিলনস্থল হয়ে উঠেছে।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের এই অংশে পৌঁছানো সবচেয়ে সহজ - বেশিরভাগ হোটেল এবং মূল শহর এলাকা থেকে মাত্র অল্প হেঁটে আসা যায়।
এখানের সৈকত প্রশস্ত, নরম সোনালি বালি দুই দিকে মাইলের পর মাইল বিস্তৃত।
প্রথম ৫০-১০০ মিটার পানি অগভীর এবং শান্ত, যা ঢেউয়ে খেলা এবং পানিতে নামার জন্য নিরাপদ।
এখান থেকে বঙ্গোপসাগরের দৃশ্য অসাধারণ, বিশেষ করে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সময় যখন আকাশ কমলা এবং গোলাপি রঙে রাঙা হয়।
লাবণী পয়েন্ট সবসময় কর্মচাঞ্চল্যে ভরপুর।
আপনি দেখবেন পরিবারগুলো বালির ঘর বানাচ্ছে, বন্ধুদের দল ছবি তুলছে, এবং বিক্রেতারা তাজা ডাবের পানি থেকে রঙিন সমুদ্র সৈকতের খেলনা সব কিছু বিক্রি করছে।
সন্ধ্যায়, সৈকত একটি সামাজিক কেন্দ্রে রূপান্তরিত হয় যেখানে স্থানীয় এবং পর্যটকরা মেলামেশা করেন, কাছের দোকান থেকে নাস্তা উপভোগ করেন এবং একসাথে চমৎকার সূর্যাস্ত দেখেন।
লাবণী পয়েন্ট থেকে আপনি সহজেই দক্ষিণে হেঁটে কলাতলী বিচ এবং সুগন্ধা বিচ যেতে পারবেন, অথবা আরও দূরে ঘুরতে সমুদ্র সৈকতের বাইক বা ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া করতে পারবেন।
অনেক দর্শনার্থী এই স্থানকে তাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে ইনানী বিচ, হিমছড়ি, এমনকি সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন।
সমুদ্র সৈকত ১২০ কিলোমিটার অবিচ্ছিন্নভাবে বিস্তৃত, এবং লাবণী পয়েন্ট এই অবিশ্বাস্য উপকূলরেখার শুরুতেই অবস্থিত।
দিনের বেলায়, সৈকত সাঁতার কাটা, ভলিবল খেলা, বা সমুদ্র সৈকতের ছাতার নিচে আরাম করার জন্য একদম উপযুক্ত।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে পরিবেশ বদলে যায় - রঙিন আলো সৈকত সামনের অংশ আলোকিত করে, রেস্তোরাঁগুলো তাজা সামুদ্রিক খাবারের সুগন্ধে জীবন্ত হয়ে ওঠে, এবং ঠান্ডা সমুদ্রের বাতাস সন্ধ্যার হাঁটার জন্য একদম আদর্শ করে তোলে।
লাবণী পয়েন্ট সত্যিই দিনের প্রতিটি ঘণ্টার জন্য কিছু না কিছু দেওয়ার আছে।
দ্রষ্টব্য: সৈকতে প্রবেশ বিনামূল্যে হলেও, বিক্রেতারা বিভিন্ন পেইড কার্যক্রমের জন্য আপনার কাছে আসবে।
আপনি চাইলে অতিরিক্ত কিছু খরচ না করেও সৈকত উপভোগ করতে পারবেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: অন্ধকারের পরে সাঁতার কাটা এড়িয়ে চলুন কারণ লাইফগার্ড ডিউটিতে থাকেন না এবং দৃশ্যমানতা কম থাকে।
পরামর্শ: অনেক দর্শনার্থী একদিনে দুইবার আসেন - একবার খুব সকালে সূর্যোদয়ের জন্য এবং আবার বিকেলে সূর্যাস্তের জন্য।
এতে দুপুরের গরম এড়িয়ে সৈকতের সবচেয়ে সুন্দর সময়ে অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়।
শীতকাল (নভেম্বর - ফেব্রুয়ারি): সামগ্রিকভাবে সেরা সময়।
আবহাওয়া ঠান্ডা এবং শুষ্ক (১৮-২৬°সে)।
সমুদ্র শান্ত, সাঁতার এবং সৈকত কার্যক্রমের জন্য একদম উপযুক্ত।
এটি পিক সিজন, তাই ভিড় আশা করুন।
বসন্তকাল (মার্চ - এপ্রিল): এখনও ভালো।
আবহাওয়া গরম হয় কিন্তু সহনীয়।
শীতের মাসগুলোর চেয়ে কম পর্যটক।
সমুদ্র তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকে।
বর্ষাকাল (মে - সেপ্টেম্বর): সমুদ্র সৈকত ভ্রমণের জন্য সুপারিশ করা হয় না।
ভারী বৃষ্টি, উত্তাল সমুদ্র এবং শক্তিশালী স্রোত সাঁতারকে বিপজ্জনক করে তোলে।
অনেক সৈকত সেবা বন্ধ থাকে বা সীমিত সময় চালু থাকে।
বর্ষা-পরবর্তী (অক্টোবর): আবহাওয়া উন্নতি হচ্ছে কিন্তু মাঝে মাঝে বৃষ্টি সম্ভব।
কম ভিড় এবং কম দামের জন্য ভালো সময়।
লাবণী পয়েন্ট কক্সবাজারের সবচেয়ে সহজে পৌঁছানো যায় এমন সমুদ্র সৈকতের স্থান, শহরের একদম কেন্দ্রে অবস্থিত।
যেকোনো কাউকে "লাবণী বিচ" বা "লাবণী পয়েন্ট" জিজ্ঞাসা করুন - এটি কক্সবাজারের সবচেয়ে বিখ্যাত ল্যান্ডমার্ক এবং সবাই জানে এটি কোথায়।
বেশিরভাগ হোটেল এই লোকেশনকে হেঁটে যাওয়ার গন্তব্য হিসেবে অফার করে।
দ্রষ্টব্য: সৈকতে প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
উপরের খরচগুলো ঐচ্ছিক কার্যক্রম, খাবার এবং সেবার জন্য।
শুধু হাঁটা, সাঁতার কাটা এবং নিজের খাবার এনে আপনি বেশি খরচ না করেই লাবণী পয়েন্ট উপভোগ করতে পারবেন।
এখনও কোনও রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউ লিখুন!

**বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের সবচেয়ে দক্ষিণের সৈকত** টেকনাফ সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের শেষ প্রান্তে অবস্থিত, [কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত](/bn/tourist-places/coxs-bazar-beach) থেকে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে দেশের সবচেয়ে দক্ষিণ বিন্দুতে। এই দূরবর্তী উপকূল উত্তরের ব্যস্ত পর্যটন এলাকা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়। এখানে আপনি পাবেন শান্ত সৈকত, অসাধারণ পাহাড়ের দৃশ্য, এবং দেশের প্রান্তে জীবনের এক ঝলক। টেকনাফকে অনন্য করেছে এর অবস্থান। এক পাশে বঙ্গোপসাগর, অন্য পাশে পাহাড় যা মিয়ানমারের সাথে সীমান্ত তৈরি করেছে। কাছেই নাফ নদী বয়ে গেছে, সমুদ্র এবং নদীর এক আকর্ষণীয় মিশ্রণ তৈরি করে। এটি সেই জায়গাও যেখান থেকে বেশিরভাগ ভ্রমণকারী [সেন্ট মার্টিন দ্বীপ](/bn/tourist-places/st-martins-island) এবং [ছেঁড়া দ্বীপ](/bn/tourist-places/chera-dwip)-এ নৌকা ধরেন। **কম ভিড়ের বিকল্প** কক্সবাজারের ভিড়ভাট্টা সৈকতের বিপরীতে, টেকনাফ সৈকত তুলনামূলক শান্ত থাকে। এখানকার বালি একটু মোটা, ঢেউ জোরে হতে পারে, এবং সামগ্রিক অনুভূতি বেশি কাঁচা ও প্রাকৃতিক। স্থানীয় মাছ ধরার নৌকা তীর বরাবর ছড়িয়ে থাকে, এবং প্রায়ই জেলেদের দৈনিক ধরা মাছ নিয়ে আসতে দেখবেন। এটি পর্যটন গন্তব্য যতটা, কাজের সৈকতও ততটাই। বড় রিসোর্ট উন্নয়নের অভাব মানে টেকনাফ তার আসল চরিত্র ধরে রেখেছে। ছোট চায়ের দোকান, তাজা সীফুড পরিবেশনকারী স্থানীয় রেস্তোরাঁ, এবং সাধারণ গেস্টহাউস এখানকার আতিথেয়তার দৃশ্য তৈরি করে। **দ্বীপগুলোর প্রবেশদ্বার** টেকনাফে বেশিরভাগ দর্শনার্থী হয় সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাচ্ছেন বা সেখান থেকে ফিরছেন। টেকনাফ জেটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপে যাওয়া নৌকাগুলোর প্রধান ছাড়ার পয়েন্ট। কিন্তু টেকনাফ নিজেও দ্রুত পার হওয়ার চেয়ে বেশি মনোযোগ পাওয়ার যোগ্য। আপনার দ্বীপ ভ্রমণের আগে বা পরে এখানে একটি রাত কাটালে ধীরে ধীরে ঘুরে দেখতে পারবেন। **টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য** শহরের ঠিক বাইরে টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, বাংলাদেশের প্রাচীনতম সংরক্ষিত বন এলাকাগুলোর একটি। ১১,০০০ হেক্টরেরও বেশি এলাকা জুড়ে এই পাহাড়ি বনে এশীয় হাতি, বন্য শুকর, বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ এবং অসংখ্য পাখি আছে। অভয়ারণ্যটি সৈকত এলাকার সাথে সংযুক্ত, তাই বনে হাঁটা এবং সৈকতে সময় একসাথে করা সম্ভব। **সীমান্ত শহরের আবহ** টেকনাফে সীমান্ত শহরের একটি আকর্ষণীয় পরিবেশ আছে। নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমারের পাহাড় দেখা যায়, এবং স্থানীয় বাজারে মাঝে মাঝে সীমান্ত পার হয়ে আসা জিনিস পাওয়া যায়। শহরটি মাছ ধরার কার্যক্রম, নৌকা চলাচল এবং দ্বীপে যাওয়া ভ্রমণকারীদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
মহেশখালী বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ। [কক্সবাজার](/bn/tourist-places/coxs-bazar-beach) শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ৩৬২ বর্গ কিলোমিটার দ্বীপটি পাহাড়, ম্যানগ্রোভ বন, সৈকত, লবণ মাঠ এবং প্রাচীন মন্দিরের অনন্য মিশ্রণ দেয়। প্রায় ৪ লাখ মানুষ এই দ্বীপে বসবাস করে। **নামের ইতিহাস** দ্বীপটির নাম "মহেশ" থেকে এসেছে, যা [শিব](https://en.wikipedia.org/wiki/Shiva) (আদিনাথ নামেও পরিচিত) এর ১০৮টি নামের একটি। ঐতিহাসিকদের মতে, ১৫৫৯ সালে একটি প্রবল ঘূর্ণিঝড় দ্বীপটিকে মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা করে দিলে এটি গঠিত হয়। একজন পর্তুগিজ পরিব্রাজক তার দিনলিপিতে এই ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছিলেন। **বিখ্যাত আদিনাথ মন্দির** দ্বীপের সবচেয়ে বিখ্যাত আকর্ষণ হলো মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত [আদিনাথ মন্দির](/bn/tourist-places/adinath-temple)। এই প্রাচীন হিন্দু মন্দিরটি ১,০০০ বছরেরও বেশি পুরনো বলে মনে করা হয় এবং শিবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গিত। কিংবদন্তি অনুসারে, এক নেপালি রাজা দৈব স্বপ্ন দেখে উপমহাদেশে পাঁচটি শিব মন্দির নির্মাণ করেন - আদিনাথ মন্দির তার একটি। শিব চতুর্দশী উৎসবে হাজার হাজার হিন্দু তীর্থযাত্রী আসেন। **প্রাকৃতিক সৌন্দর্য** মৈনাক পাহাড় থেকে পুরো দ্বীপ দেখা যায় - ম্যানগ্রোভ বন, সমুদ্র এবং উপকূলরেখা। দ্বীপটি ম্যানগ্রোভে ঘেরা যেখানে অনেক প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণী বাস করে। **স্থানীয় জীবন** দ্বীপটি পান পাতা, লবণ উৎপাদন এবং শুঁটকি মাছের জন্য বিখ্যাত। স্থানীয় গ্রামে হাঁটলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী দ্বীপ জীবনের ঝলক পাবেন। **কাছের দ্বীপ** মহেশখালী থেকে আপনি কাছের [সোনাদিয়া দ্বীপও](/bn/tourist-places/sonadia-island) যেতে পারেন, যা নির্জন সৈকত ও পরিযায়ী পাখির জন্য পরিচিত একটি শান্ত ইকো-ট্যুরিজম গন্তব্য।
**বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ** সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত এক টুকরো স্বর্গ, [টেকনাফ সৈকত](/bn/tourist-places/teknaf-beach) থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে। এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ এবং দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোর একটি। স্থানীয়রা একে "নারিকেল জিঞ্জিরা" বলে ডাকে কারণ হাজার হাজার নারিকেল গাছ এর দৃশ্যপট ঢেকে রেখেছে। দ্বীপটি ছোট - মাত্র প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার - কিন্তু এতে অবিশ্বাস্য পরিমাণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আছে। স্ফটিক-স্বচ্ছ ফিরোজা রঙের পানি, সাদা বালুময় সৈকত, প্রবাল প্রাচীর, এবং অসাধারণ সূর্যাস্ত একে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা জগত মনে করায়। প্রায় ৬,০০০ মানুষ এখানে স্থায়ীভাবে বাস করে, বেশিরভাগই জেলে এবং তাদের পরিবার। **একটি অনন্য ইকোসিস্টেম** সেন্ট মার্টিনকে সত্যিই বিশেষ করেছে এর প্রবাল প্রাচীর ইকোসিস্টেম। দ্বীপের চারপাশের পানিতে ৬৬ প্রজাতির বেশি প্রবাল, ১৮৭ প্রজাতির মাছ, এবং সামুদ্রিক কচ্ছপ, স্টারফিশ, সী আর্চিনসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী আছে। ভাটার সময় উন্মুক্ত প্রবাল পাথরে হাঁটতে পারেন এবং সামুদ্রিক জীবনে ভরা জোয়ারের পুকুর দেখতে পারেন। দ্বীপটি তিনটি প্রধান এলাকায় বিভক্ত: উত্তরপাড়া (উত্তর), জেটিসহ প্রধান বসতি এলাকা; মাঝখানে গোলাচিপা; এবং দক্ষিণপাড়া (দক্ষিণ), যা শান্ত এবং বেশি প্রাকৃতিক। দক্ষিণ প্রান্ত খুব ভাটার সময় [ছেঁড়া দ্বীপ](/bn/tourist-places/chera-dwip)-এর সাথে সংযুক্ত হয়। **দ্বীপের জীবন** সেন্ট মার্টিনে জীবন ধীরে চলে। এখানে কোনো গাড়ি বা মোটরসাইকেল নেই - শুধু হাঁটা এবং মাঝে মাঝে রিকশা ভ্যান। প্রধান শিল্প হলো মাছ ধরা এবং শুঁটকি মাছ উৎপাদন, যার গন্ধ সব জায়গায় পাবেন। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে পর্যটন দ্রুত বেড়েছে, প্রধান এলাকায় হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং স্যুভেনির দোকান এনেছে। দ্বীপবাসীরা উষ্ণ এবং স্বাগতপ্রবণ। অনেকে ছোট গেস্টহাউস বা রেস্তোরাঁ খুলেছে যেখানে সেদিনই ধরা তাজা সীফুড পরিবেশন করে। দ্বীপ জীবনের সরলতা - ট্রাফিকের শব্দ নেই, সীমিত বিদ্যুৎ (জেনারেটর চালিত), এবং ন্যূনতম মোবাইল কভারেজ - এর আকর্ষণের অংশ। **সামুদ্রিক স্বর্গ** সেন্ট মার্টিনের চারপাশের পানি বাংলাদেশের অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে পরিষ্কার এবং স্বচ্ছ। স্নোরকেলিংয়ে রঙিন পানির নিচের জগত দেখা যায়, যদিও বর্ধিত পর্যটন এবং জলবায়ু পরিবর্তনে প্রবাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ভঙ্গুর ইকোসিস্টেম রক্ষায় সংরক্ষণ প্রচেষ্টা চলমান। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে সামুদ্রিক কচ্ছপ সৈকতে বাসা বাঁধে। ভাগ্য ভালো থাকলে বাচ্চা কচ্ছপদের সমুদ্রে যেতে দেখতে পারেন। আশেপাশের পানিতে মাঝে মাঝে ডলফিনও দেখা যায়। **সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ** দ্বীপে শুধু নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটন মৌসুমে যাওয়া যায়। টেকনাফ থেকে নৌকায় ২-৩ ঘণ্টা লাগে। বেশিরভাগ দর্শনার্থী ভালোভাবে ঘুরতে ১-২ রাত থাকেন, যদিও দিনে যাওয়া-আসাও সম্ভব। সেরা অভিজ্ঞতা আসে ধীর হওয়া থেকে, সৈকতে হাঁটা, রাতে তারা দেখা, এবং যেকোনো জায়গায় পাওয়া সবচেয়ে তাজা সীফুড উপভোগ করা থেকে।
**বাংলাদেশের দক্ষিণতম বিন্দু** ছেঁড়া দ্বীপ হলো [সেন্ট মার্টিন দ্বীপের](/bn/tourist-places/st-martins-island) একদম দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত একটি ছোট পাথুরে দ্বীপ। এখানেই বাংলাদেশ শেষ হয়ে অসীম বঙ্গোপসাগর শুরু হয়। এই জায়গায় দাঁড়ালে আপনি পুরো দেশের সবচেয়ে দক্ষিণে আছেন - এই বিষয়টাই এই ছোট্ট দ্বীপকে বিশেষ করে তুলেছে। **কেন এত বিশেষ** দ্বীপটির নাম "ছেঁড়া" কারণ মনে হয় যেন সেন্ট মার্টিন থেকে "ছিঁড়ে" আলাদা হয়ে গেছে। ভাটার সময় আপনি পাথুরে সৈকত ধরে হেঁটে হেঁটে সেন্ট মার্টিন থেকে ছেঁড়া দ্বীপে যেতে পারবেন। কিন্তু জোয়ার আসলে মাঝখানে পানি ভরে যায় আর দ্বীপটা পুরোপুরি আলাদা হয়ে যায়। এই প্রাকৃতিক ঘটনাটাই এখানকার প্রধান আকর্ষণ। **দ্বীপের প্রকৃতি** [কক্সবাজারের](/bn/tourist-places/coxs-bazar-beach) বালুকাময় সৈকতের মতো নয়, ছেঁড়া দ্বীপ পাথর আর প্রবাল দিয়ে তৈরি। পাথরের ওপর রঙিন শৈবাল জমে থাকে, আর ভাটার সময় পাথরের ফাঁকে ফাঁকে ছোট ছোট পুকুরের মতো তৈরি হয়। এই পুকুরগুলোতে ছোট মাছ, কাঁকড়া, সামুদ্রিক অর্চিন আর অন্যান্য জীব দেখা যায়। দ্বীপের চারপাশের স্বচ্ছ পানিতে পাথুরে তলদেশ সুন্দরভাবে দেখা যায়। **ভ্রমণকারীরা কেন ভালোবাসেন** ছেঁড়া দ্বীপ সাধারণ সমুদ্র সৈকত থেকে একদম আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়। এখানে আপনি: - বাংলাদেশের শেষ ভূখণ্ডে দাঁড়াতে পারবেন - সামনে শুধু পানি, খোলা সমুদ্রে সূর্যোদয় দেখতে পারবেন - জোয়ার-ভাটার পুকুরে সামুদ্রিক জীবন কাছ থেকে দেখতে পারবেন - সত্যিকারের নির্জনতা অনুভব করতে পারবেন - সেন্ট মার্টিনের তুলনায় খুব কম মানুষ আসে - বঙ্গোপসাগরের অস্পর্শিত, কাঁচা রূপ দেখতে পারবেন **সেরা অভিজ্ঞতা** ছেঁড়া দ্বীপে সবচেয়ে মায়াবী সময় হলো সূর্যোদয়ের সময়। অনেক পর্যটক ভোরে উঠে সেন্ট মার্টিন থেকে হেঁটে এসে দিগন্তে সূর্য ওঠা দেখেন। সকালের আলোয় পাথরগুলো সোনালি রঙে ঝলমল করে, আর নিজের দেশের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকার অনুভূতি অবিস্মরণীয়। দ্বীপটা ছোট - প্রায় ৩০ মিনিটে পুরোটা ঘুরে দেখা যায় - কিন্তু এই অভিজ্ঞতা সারাজীবন মনে থাকে।