বাংলাদেশ জুড়ে পর্যটন আকর্ষণ অন্বেষণ করুন
পাওয়া গেছে 335 স্থান

**বাংলাদেশের আদিবাসী ঐতিহ্যের এক অনন্য জানালা** চট্টগ্রামের নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর বাংলাদেশের বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিবেদিত দেশের একমাত্র জাদুঘর। এটি সমগ্র এশিয়ার মাত্র দুটি নৃতাত্ত্বিক জাদুঘরের একটি - অন্যটি জাপানে অবস্থিত। এটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার জন্য সত্যিই একটি বিশেষ স্থান। **ইতিহাস ও পটভূমি** জাদুঘরটি ১৯৬৫ সালে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় ১.২৫ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৪ সালের ৯ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ইউসুফ আলী এটি উদ্বোধন করেন এবং জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর জন্য এই জাদুঘর তৈরি করা হয়েছিল। **ভেতরে কী দেখবেন** জাদুঘরে একতলা ভবনে ১১টি গ্যালারি রয়েছে। এই গ্যালারিগুলোতে ২৯টি বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবন, রীতিনীতি ও ঐতিহ্য প্রদর্শিত হয়। আপনি [পার্বত্য চট্টগ্রাম](https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF_%E0%A6%9A%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE) থেকে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো এবং সাঁওতালসহ ২৫টি বাংলাদেশি সম্প্রদায় সম্পর্কে প্রদর্শনী দেখতে পাবেন। এছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, কিরগিজস্তান, অস্ট্রেলিয়া এবং জার্মানির আদিবাসী গোষ্ঠী সম্পর্কে প্রদর্শনী রয়েছে। **অনন্য প্রদর্শনী** জাদুঘরের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক জিনিসগুলোর মধ্যে একটি হলো জার্মানির বার্লিন দেওয়ালের একটি প্রকৃত টুকরো, যা ১৯৮৯ সালে ভেঙে ফেলা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় হলে একটি বড় মানচিত্র রয়েছে যেখানে বাংলাদেশ জুড়ে সব নৃগোষ্ঠী কোথায় বাস করে তা দেখানো হয়েছে। এর কাছেই একটি সাধারণ চাকমা বাড়ির মডেল দেখতে পাবেন যা ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী জীবনের ধারণা দেয়। **প্রদর্শনী কীভাবে সাজানো** প্রতিটি গ্যালারি বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং তাদের জীবনের বিভিন্ন দিকের উপর ফোকাস করে। আপনি ঐতিহ্যবাহী পোশাক, গহনা, অস্ত্র, কৃষি সরঞ্জাম, বাদ্যযন্ত্র, নৌকা এবং গৃহস্থালি সামগ্রী দেখতে পাবেন। প্রদর্শনীগুলোতে মডেল, ফটোগ্রাফ, দেওয়াল চিত্র এবং পুনর্নির্মিত পরিবেশ ব্যবহার করে আদিবাসী জীবনকে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে। ছোট ফলকে প্রতিটি প্রদর্শনী সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা আছে। জাদুঘর পছন্দ করলে নৌ ঐতিহ্য জানতে [বাংলাদেশ মেরিটাইম মিউজিয়াম](/tourist-places/bangladesh-maritime-museum) এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের জন্য [জিয়া স্মৃতি জাদুঘর](/tourist-places/zia-memorial-museum) দেখুন।

আগ্গমেদা খ্যং বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ মঠগুলোর একটি। কক্সবাজার শহরের প্রবেশপথের কাছে অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দিরটি ২৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বৌদ্ধ উপাসনা ও শিক্ষার কেন্দ্র হয়ে আছে। এটি রাদানা ভিমেইন বৌদ্ধ মঠ নামেও পরিচিত। **বৌদ্ধদের পবিত্র স্থান** কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী প্রায় ৪ লাখ বৌদ্ধ মানুষের কাছে এই মঠ অত্যন্ত সম্মানিত। রাখাইন সম্প্রদায়ের কাছে এটি শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। "খ্যং" শব্দের অর্থ স্থানীয় রাখাইন ভাষায় মঠ। **সুন্দর স্থাপত্য** মঠের ভবনটি আরাকান (বর্তমান মিয়ানমার) থেকে আনা মূল্যবান সেগুন ও লোহাকাঠ দিয়ে তৈরি। গোলাকার কাঠের স্তম্ভ মূল কাঠামোকে ধরে রেখেছে, যেখানে প্রার্থনা কক্ষ ও সমাবেশ হল আছে। ভেতরে ব্রোঞ্জের বুদ্ধ মূর্তির সুন্দর সংগ্রহ দেখতে পাবেন, যার বেশিরভাগ বার্মা থেকে এসেছে। মঠে কিছু অত্যন্ত পুরনো হাতে লেখা পাণ্ডুলিপিও সংরক্ষিত আছে। **পবিত্র গাছ** প্রাঙ্গণে ২৫০ বছরের পুরনো একটি শিলকড়ই গাছ আছে যা রাখাইন মানুষেরা পবিত্র মনে করেন। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দুজন সন্ন্যাসী এই গাছের নিচে ধ্যান করে জ্ঞান লাভ করেছিলেন। এজন্য এটিকে বোধিবৃক্ষের মতো পূজা করা হয়, যেমন গৌতম বুদ্ধ যে গাছের নিচে জ্ঞান পেয়েছিলেন। **ইতিহাস** প্রবেশদ্বারের স্মৃতিস্তম্ভটি ১৯৫৬ সালে মঠের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নির্মিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মঠটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরে পুনর্নির্মাণ করা হয়। আজ এটি বাংলাদেশে বৌদ্ধ ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। **বৌদ্ধ ঐতিহ্য পথের অংশ** আগ্গমেদা খ্যং প্রায়ই [রামু বৌদ্ধ মন্দিরের](/bn/tourist-places/ramu-buddhist-temple) সাথে একসাথে দেখা হয়, যা কক্সবাজার থেকে প্রায় ১৬ কিমি দূরে অবস্থিত এবং যেখানে ৩৫টিরও বেশি বৌদ্ধ মন্দির ও বিখ্যাত ১০০ ফুট শায়িত বুদ্ধ মূর্তি রয়েছে। একসাথে, এই স্থানগুলো এই অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ ঐতিহ্য পথ তৈরি করে।

**যেখানে তিন মহা নদী এক হয়** পদ্মা-মেঘনা সঙ্গমে দাঁড়ান আর প্রকৃতির সবচেয়ে নাটকীয় দৃশ্যের সাক্ষী হন। এখানে বাংলাদেশের তিনটি শক্তিশালী নদী - [পদ্মা](https://en.wikipedia.org/wiki/Padma_River), [মেঘনা](https://en.wikipedia.org/wiki/Meghna_River) এবং ডাকাতিয়া - একসাথে ঘূর্ণায়মান নাচে মিলিত হয়। স্থানীয়রা এই ত্রিকোণাকার মিলনস্থলকে "মোলহেড" বলে ডাকে, এবং এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে আসছে। **তিন রঙের বিস্ময়** ভালো করে দেখুন, আপনি কিছু জাদুকরী লক্ষ্য করবেন। প্রতিটি নদী আলাদা রঙের পানি বহন করে! পদ্মা হিমালয় থেকে ধূসর পলি নিয়ে আসে। মেঘনা বেশি পরিষ্কার ও সবুজাভ প্রবাহিত হয়। ডাকাতিয়া নিজের আলাদা রং যোগ করে। যেখানে তারা মিলিত হয়, আপনি আসলে পানির মিশ্রণ দেখতে পাবেন - এটি প্রকৃতির নিজস্ব চিত্রকর্মের মতো দেখায়। **যে সূর্যাস্তের কথা সবাই বলে** [চাঁদপুর](https://en.wikipedia.org/wiki/Chandpur_District) সারা বাংলাদেশে তার সূর্যাস্তের দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত। বড় স্টেশন এলাকা থেকে আপনি দেখতে পাবেন সূর্য দিগন্তে ডুবে যাচ্ছে যেখানে অন্তহীন পানি আকাশের সাথে মিলিত হয়েছে। সন্ধ্যায় দেখার আগে [মেঘনা নদীর ঘাট](/bn/tourist-places/meghna-river-ghat) ঘুরে আসতে পারেন যেখান থেকে নদীর কার্যকলাপ কাছ থেকে উপভোগ করা যায়। তিন নদীতে একসাথে সোনালী আলো প্রতিফলিত হওয়ার দৃশ্য আপনি ভুলবেন না। **ইলিশের দেশের হৃদয়** এই সঙ্গম শুধু সুন্দরই নয় - এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রিয় মাছের জন্মস্থান। যে [ইলিশ](https://en.wikipedia.org/wiki/Ilish) এই নদীগুলোর মিলনস্থলে জন্মায় সেটি সারা বাংলাদেশে সবচেয়ে সুস্বাদু বলে মনে করা হয়। এজন্যই চাঁদপুর গর্বের সাথে "ইলিশের বাড়ি" উপাধি বহন করে। বড় স্টেশনের কাছে মাছের বাজার একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে! **একটি ঐতিহাসিক পরিবহন কেন্দ্র** বড় স্টেশন এলাকাটি অনন্য - আপনি একপাশে স্টিমার ঘাট, অন্যপাশে লঞ্চ টার্মিনাল এবং মাঝখানে রেলওয়ে স্টেশন পাবেন। [চাঁদপুর ওয়াটারফ্রন্ট](/bn/tourist-places/chandpur-waterfront) এলাকায় আধুনিক সুবিধা ও হাঁটার পথ রয়েছে। একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই স্থানটি চাঁদপুরকে বাংলাদেশের বাকি অংশের সাথে জল ও রেলপথে সংযুক্ত করে আসছে। **ঘূর্ণিপানির সতর্কতা** যেখানে তিন নদী মিলিত হয়, সেখানে স্রোত বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। ঘূর্ণায়মান পানি শক্তিশালী ঘূর্ণি তৈরি করেছে যা বছরের পর বছর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এজন্যই নৌকা চালকরা জানেন ঠিক কোথায় যেতে হবে এবং কোথায় এড়িয়ে চলতে হবে। ইতিহাসপ্রেমীরা [নাসিরকোট দুর্গ](/bn/tourist-places/nasirkot-fort) দেখতে পারেন যা চাঁদপুরের ঐতিহাসিক নিদর্শন। সবসময় নদীকে সম্মান করুন এবং স্থানীয় নির্দেশনা মেনে চলুন।
**বিজয়স্তম্ভসহ প্রাচীন দীঘি** দিবর দীঘি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও আকর্ষণীয় জলাশয়। নওগাঁ শহর থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দূরে পত্নীতলা উপজেলায় অবস্থিত এই প্রাচীন দীঘিটি এর কেন্দ্র থেকে উঠে আসা চমকপ্রদ জয়স্তম্ভের জন্য বিখ্যাত — একটি বিরল ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন যা একাদশ শতকের বাংলার নাটকীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে যুক্ত — যে সময়ে কাছাকাছি [পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারও](/tourist-places/paharpur-buddhist-monastery) সমৃদ্ধ ছিল। **কিংবদন্তি ও ইতিহাস** দিবর দীঘির উৎপত্তি কিংবদন্তি ও ইতিহাস দুটোতেই জড়িয়ে আছে। "দিবর" নামটি রাজা দিব্যক (দিব্যোক) থেকে এসেছে বলে মনে করা হয়, যিনি ছিলেন একজন স্থানীয় কৈবর্ত নেতা। তিনি একাদশ শতকে [পাল রাজবংশের](https://en.wikipedia.org/wiki/Pala_Empire) রাজা মহীপাল ২-এর বিরুদ্ধে কৃষক বিদ্রোহ পরিচালনা করেন। ইতিহাসবিদরা মনে করেন দীঘি ও এর বিজয়স্তম্ভ দিব্যকের পাল শাসন উৎখাতের সফলতা উদযাপনে নির্মিত — যা মধ্যযুগীয় দক্ষিণ এশিয়ায় জনগণের বিদ্রোহের একটি বিরল স্মৃতিচিহ্ন। স্থানীয় লোককথায় আরও রঙিন গল্প আছে: এক রাজা তাঁর রানি যতদূর হাঁটতে পারেন ততদূর পর্যন্ত দীঘি খনন করতে আদেশ দেন। একজন চতুর পরিচারক রানির পায়ে "আলতা" (লাল রঙ) লাগিয়ে দেন যাতে তিনি থামেন, এবং দীঘির নাম হয় [আলতা দীঘি](/tourist-places/alta-dighi-national-park)। তবে বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ প্রধান দীঘিটিকে দিব্যকের বিজয়ের সাথে সম্পর্কিত করেন। **বিজয়স্তম্ভ (জয়স্তম্ভ)** দিবর দীঘির প্রধান আকর্ষণ হলো আট কোণবিশিষ্ট গ্রানাইট পাথরের জমকালো জয়স্তম্ভ। এই স্তম্ভটি ৩১ ফুট ৮ ইঞ্চি উঁচু, যার প্রায় ৬ ফুট পানির নিচে এবং ২৫ ফুট ৫ ইঞ্চি পানির উপরে দৃশ্যমান। স্তম্ভের প্রতিটি কোণের পরিধি ১ ফুট সাড়ে ৩ ইঞ্চি। পানির মাঝে একাকী দাঁড়িয়ে থাকা স্তম্ভটি একটি নাটকীয় দৃশ্য তৈরি করে যা শতাব্দী ধরে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে। **ঐতিহ্য স্বীকৃতি** ১৯৩৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার দিবর দীঘিকে ঐতিহ্যবাহী স্থান ঘোষণা করে, এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব স্বীকার করে। রাজশাহী সামাজিক বনায়ন বিভাগ দীঘির চারপাশে একটি কৃত্রিম বন ও পাশে একটি মিনি চিড়িয়াখানা তৈরি করেছে। দর্শনার্থীদের জন্য দীঘিতে নৌকা ভ্রমণেরও ব্যবস্থা আছে।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ বাংলাদেশের সবচেয়ে আইকনিক প্রকৌশল নিদর্শনগুলোর একটি। এই বিশাল ইস্পাত রেলওয়ে সেতুটি কুষ্টিয়া জেলার সীমানায় পাবনার পাকশীর কাছে পদ্মা নদীর উপর দিয়ে গেছে। ১৯১৫ সালে যখন এটি সম্পন্ন হয়, তখন এটি বিশ্বের দীর্ঘতম সেতুগুলোর একটি ছিল। এক শতাব্দীরও বেশি পরে, এটি দেশের সবচেয়ে বেশি ছবি তোলা ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর একটি হিসেবে রয়ে গেছে। **ইতিহাস ও নির্মাণ** সেতুটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে ১৯১০ থেকে ১৯১৫ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল এবং তৎকালীন ভারতের ভাইসরয় [লর্ড হার্ডিঞ্জ](https://en.wikipedia.org/wiki/Charles_Hardinge,_1st_Baron_Hardinge_of_Penshurst)-এর নামে নামকরণ করা হয়। প্রকল্পটি ছিল একটি বিশাল প্রকৌশল কৃতিত্ব — সেতুটি গভীর কূপ ভিত্তির উপর ১৫টি ইস্পাত স্প্যান নিয়ে পদ্মা নদীর উপর ১.৮ কিলোমিটার (৫,৮৯৪ ফুট) বিস্তৃত। এর নির্মাণে হাজার হাজার শ্রমিক জড়িত ছিলেন এবং এটি সেই যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রকৌশল অর্জনগুলোর একটি বলে বিবেচিত হতো। কলকাতাকে উত্তরবঙ্গ ও আসামের সাথে সংযোগকারী রেলপথ বহনের জন্য সেতুটি নকশা করা হয়েছিল। **যুদ্ধের ক্ষতি ও মেরামত** [১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ](https://en.wikipedia.org/wiki/Bangladesh_Liberation_War)-এর সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যোগাযোগ ও পরিবহন লাইন বিচ্ছিন্ন করতে সেতুর দুটি স্প্যান বোমা মেরে ধ্বংস করে। ক্ষতিগ্রস্ত স্প্যানগুলো পরে ভিন্ন ধরনের ইস্পাত কাঠামো দিয়ে মেরামত করা হয়, যা আজও দেখা যায় — মেরামত করা অংশগুলো মূল স্প্যান থেকে স্পষ্টভাবে আলাদা দেখায়, যুদ্ধের একটি নীরব স্মারক হিসেবে কাজ করে। এই যুদ্ধের ক্ষতি সেতুটিকে শুধু একটি প্রকৌশল স্মারক নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীকও করে তুলেছে। **আপনি যা দেখবেন** নদীর তীর থেকে সেতুটি একটি অত্যাশ্চর্য দৃশ্য। প্রশস্ত পদ্মা নদীর উপর বিস্তৃত এর বিশাল ইস্পাত গার্ডারগুলো একটি নাটকীয় ছবি তৈরি করে, বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় যখন কাঠামোটি আকাশের পটভূমিতে ছায়ামূর্তির মতো দেখায়। সেতুর আশপাশের এলাকায় পাবেন: - উভয় তীর থেকে পদ্মা নদীর প্যানারমিক দৃশ্য - মূল ও মেরামত করা স্প্যানের বৈপরীত্য স্পষ্টভাবে দেখা যায় - সেতুর কাছে একটি রেলওয়ে ইয়ার্ড ও স্টেশন এলাকা - শুষ্ক মৌসুমে হাঁটার জন্য বালুকাময় নদীর তীর - সেতুর নিচে নৌকার কার্যক্রম — ছোট মাছ ধরার নৌকা ও ফেরি

**সংক্ষিপ্ত ইতিহাস** ১৯৫০-এর দশকে [মেঘনা নদী](/bn/tourist-places/meghna-river-area-noakhali)-র পলি জমে দ্বীপটি তৈরি হতে শুরু করে। ১৯৭০-এর দশকে সরকার ভূমি স্থিতিশীল করতে ম্যানগ্রোভ বন রোপণ করে। স্থানীয় মানুষ এখানে বসতি স্থাপন শুরু করে এবং দ্বীপে চিত্রা হরিণ ছাড়া হয়। হরিণেরা এখানে নিখুঁত আবাস খুঁজে পায় এবং তাদের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। আজ নিঝুম দ্বীপে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম চিত্রা হরিণের দল রয়েছে। **বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য** ২০০১ সালে বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য নিঝুম দ্বীপের ১৬,৩৫২ হেক্টর এলাকা জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দ্বীপটি তার চিত্রা হরিণের (স্থানীয়ভাবে "চিত্রা হরিণ" বলা হয়) জন্য বিখ্যাত, যারা সৈকত ও বনে অবাধে ঘুরে বেড়ায়। সকালে ও বিকেলে তীরের কাছে তাদের চরতে দেখার সবচেয়ে ভালো সময়। হরিণ ছাড়াও দ্বীপে বিভিন্ন পাখি, সরীসৃপ ও সামুদ্রিক প্রাণী রয়েছে। **পরিযায়ী পাখিদের স্বর্গ** শীতকালে (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি নিঝুম দ্বীপে আসে। মাছরাঙা, বক, সাদা বক এবং বিভিন্ন জলচর পাখি এই দ্বীপকে তাদের সাময়িক আবাস বানায়। পাখি পর্যবেক্ষকরা একে বাংলাদেশে বিরল পরিযায়ী প্রজাতি দেখার অন্যতম সেরা জায়গা মনে করেন। **ম্যানগ্রোভ বন ও সৈকত** দ্বীপের তীর জুড়ে সুন্দর ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে। এই বনগুলো দ্বীপকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে এবং বন্যপ্রাণীর আশ্রয় দেয়। এখানকার সৈকতগুলো শান্ত ও পরিষ্কার, কক্সবাজারের জনাকীর্ণ সৈকতের মতো নয়। অফ-সিজনে আপনি কিলোমিটারের পর কিলোমিটার হেঁটে যেতে পারবেন অন্য কাউকে না দেখে। **দ্বীপের জীবন** প্রায় ৩৫,০০০ মানুষ নিঝুম দ্বীপে বাস করে। বেশিরভাগই জেলে বা কৃষক হিসেবে কাজ করে। স্থানীয় জীবনযাত্রা সহজ ও ঐতিহ্যবাহী। দর্শনার্থীরা প্রায়ই স্থানীয় মানুষের উষ্ণ আতিথেয়তা উপভোগ করেন এবং প্রকৃত উপকূলীয় বাংলাদেশের একটি ঝলক দেখতে পান। তাজা সামুদ্রিক খাবার, বিশেষ করে কাঁকড়া ও শুটকি মাছ, খাদ্যপ্রেমীদের জন্য এক বিশেষ আকর্ষণ। **আরও জানুন** বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য [বাংলাদেশ বন বিভাগ](http://www.bforest.gov.bd/) ওয়েবসাইট দেখুন।